Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
The Kerala Story 2

প্রোপাগান্ডা করে মুসলিমদের অপমান! ‘কেরালা স্টোরি ২’ নিয়ে তীব্র আপত্তি জামাতের, উঠল বয়কটের ডাক

'ব্যবসার জন্য ছক কষে সাম্প্রদায়িক বিভাজনে'র অভিযোগ তুললেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৫:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৫:২১

options
link
প্রোপাগান্ডা করে মুসলিমদের অপমান! ‘কেরালা স্টোরি ২’ নিয়ে তীব্র আপত্তি জামাতের, উঠল বয়কটের ডাক zoom
'কেরালা স্টোরি ২' নিয়ে তীব্র আপত্তি জামাতের। ছবি- সংগৃহীত

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের পর এবার ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবি নিয়ে আপত্তি তুলল অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাত। জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কে কামাখ্যা নারায়ণ সিং পরিচালিত সিনেমা। সম্প্রতি টিজার রিলিজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হানার অভিযোগ ওঠে এই সিনেমার বিরুদ্ধে। খোদ কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবিটিকে ‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’র আখ্যা দিয়েছেন। এবার সর্বভারতীয় জামাত সভাপতি মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি তীব্র আপত্তি তুললেন এই সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে।

“টাকা কামানোর জন্য বর্তমানে পরিচালকদের মধ্যে একটা ভয়ংকর প্রবণতা শুরু হয়েছে। এখনকার সিনেমাগুলিতে অহেতুক সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্বে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে।” 

বুধবার ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবির ঝলক রিলিজের পরই বিতর্কের ঝড় ওঠে কেরলের রাজ্য-রাজনীতিতে। এবার এই সিনেমার তীব্র নিন্দা করে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনলেন মওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি। তাঁর মন্তব্য, “টাকা কামানোর জন্য বর্তমানে পরিচালকদের মধ্যে একটা ভয়ংকর প্রবণতা শুরু হয়েছে। এখনকার সিনেমাগুলিতে অহেতুক সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্বে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। এই ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবিটিও তেমনই, মিথ্যে ঘটনাগুলিকে সত্যি বলে দাবি করে সিনেমা বানানো হয়েছে। এসব ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের অপমান করা ছাড়া আর কিছুই নয়।” খবর, বিতর্কের আবহে ইতিমধ্যেই কেরল হাই কোর্টের তরফে ‘কেরালা স্টোরি ২’ নির্মাতাদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

এদিকে বৃহস্পতিবার বিবৃতি জারি করে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানান, “এহেন সিনেমা কেরলের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে আঘাত হানার এক ভয়ঙ্কর খেলা। এই ছবি মুক্তি পেলে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। প্রথম ভাগের সিনেমা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’তেও এহেন মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বীজ পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। যা কেরলের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে নষ্ট করার প্রচেষ্টা ছিল।” কীভাবে মিথ্যাচার, বিদ্বেষ দেখিয়ে কেরল বিরোধী প্রচার চালানো হয়েছিল ওই সিনেমায়, তার সাক্ষী গোটা দেশ। দ্বিতীয় সিনেমাতেও বলপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের মিথ্যে ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।” যেখানে পারস্পারিক সম্মতিতে ভিনধর্মী হয়েছে, সেই ঘটনাগুলিতে সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মত মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের। তাঁর কথায়, “কেরলে কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নেই এবং ভিন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ঐতিহ্যও রয়েছে, সেখানে এই ধরনের সিনেমা রাজ্যের শত্রু।”

এবার প্রশ্ন, ঠিক কী রয়েছে ‘কেরালা স্টোরি ২’-এর ঝলকে, যার জন্যে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখাল এই সিনেমা? একাধিক ভয়ার্ত নারীর মুখের আড়ালে তুলে ধরা হয়েছে জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। তাঁরা কেউ সুরেখা নাইয়ার, নেহা সন্ত। নেপথ্য কণ্ঠে উল্লেখ, “আমাদের মেয়েরা প্রেমে পড়ে না, ফাঁদে পড়ে। এবার থেকে আর সহ্য করবে না তারা। ঘুরে দাঁড়াবে।” সেই মেয়েগুলির কেউ চেয়েছিল আইএএস অফিসার হতে তো কেউ চেয়েছিল নামী নৃত্যশিল্পী হয়ে সমাজে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ আবার বলছেন, হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েছিলেন শুধু ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুখে ঘরকন্না করবেন বলে। কিন্তু সেই সুখ আসলে ফানুস! তাদের সিংহভাগই বলপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের শিকার। এমনকী টিজারেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এ দেশকে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর সেই সূত্রেই ‘কেরালা স্টোরি ২’ ছবির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের মতোই সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের অভিযোগ উঠেছে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা। তার প্রাক্কালেই ‘বিষাক্ত প্রোপাগান্ডা’ ছবি হিসেবে সমালোচিত ‘কেরালা স্টোরি ২’।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.