সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য কাহিনি ‘অপরাজিত’ (Aparajito) সিনেমায় ফুটিয়ে তুলছেন পরিচালক অনীক দত্ত। মুখ্য ভূমিকায় জিতু কমল (Jeetu Kamal)। বেশ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে ছবির শুটিং। প্রকাশ্যে এসেছে জিতুর বেশ কিছু ছবি। তা দেখে চমকে গিয়েছিলেন দর্শকরা। অবিকল যেন সত্যজিৎ রায়! এমনই প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকের। এবার প্রকাশ্যে এল ছবির লোগো। তাতেও রয়েছে একাধিক চমক। লোগোর পরতে পরতে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের আভিজাত্য ও চিন্তাধারার প্রতিফলন। তৈরির কাহিনি জানালেন পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)।

“কুছ তো লোগ কহেঙ্গে / লোগো কা কাম হ্যায় কেহনা…”, জনপ্রিয় এই গানের মাধ্যমেই নিজের লোগো তৈরির কাহিনি জানিয়েছেন পরিচালক। তাঁর বক্তব্য, “খেলার ছলে যদি লোগো শব্দটিকে ইংরেজি ‘Logo’ শব্দে রূপান্তরিত করে নিই তাহলেও “Logo কা কাম হ্যায় কেহনা” বাক্যবন্ধটির একটা স্বাধীন অথচ গুরুত্বপূর্ণ মানে তৈরি হয়। ঠিকই তো! Logo-র কাজই তো হল কিছু না কিছু বলা। তা সে কোনও বস্তু হোক বা কোম্পানি…আমাদের ক্ষেত্রে একটা ছবি। অর্থাৎ Logo প্রাথমিক ভাবে একটা প্রতিনিধি এবং তার প্রধান কাজ হল সে যার প্রতিনিধিত্ব করছে তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে দেওয়া।”

[আরও পড়ুন: দুর্দান্ত গ্রাফিক্স, দারুণ অ্যাকশন! ‘বাহুবলী’র ম্যাজিক কি ফেরাতে পারল ‘আর আর আর’?]
১৯৫৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’। সেই ছবি তৈরির নেপথ্য কাহিনি ‘অপরাজিত’ ছবিতে তুলে ধরেছেন অনীক দত্ত। চরিত্রগুলোর নাম ও ঘটনার বিবরণ কিছুটা পালটে নিয়েছেন পরিচালক। তাই এখানে মূল চরিত্রের নাম অপরাজিত রায় (জিতু কমল)। আর তিনি তৈরি করছেন ‘পথের পদাবলী’ নামের ছবি। অনেক বাধা-বিপত্তির মোকাবিলা করে ‘পথের পাঁচালী’ তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। সেই কাহিনিই সিনেমার মাধ্যমে বলতে চলেছেন পরিচালক।

বই হোক না সিনেমা, তার প্রচ্ছদ, লোগো, পোস্টার, পাবলিসিটি ডিজাইন সমস্ত কিছু সত্যজিৎ রায় নিজেই করতেন। প্রথম ছবি থেকে অনীক দত্তরও লোগো এবং পাবলিসিটি ডিজাইনের প্রতি আলাদা আগ্রহ রয়েছে। ‘অপরাজিত’র এই লোগোও পরিচালক নিজে হাতে এঁকেছেন। পরে গ্রাফিক শিল্পীকে দেন কাজটি শেষ করার জন্য। “আমরা সত্যজিৎ রায়ের এই ধারাটা বজায় রেখেই একটা নিজেদের মতো কিছু করতে চাইছিলাম যা এক অর্থে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য কিন্তু অন্ধ অনুকরণ নয়। অনেক খুঁজে কাপুরুষ-মহাপুরুষ ছবির টাইটেল কার্ড থেকে আমি একটা আদল খুঁজে পেলাম যা আমার ছবির লোগো তৈরির জন্য খুব প্রাসঙ্গিক মনে হল।” বলছিলেন পরিচালক।

অবশ্য ‘অপরাজিত’ নামটি লেখার পর তা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে। ছবি ঘোষণার সময় তাড়াহুড়ো করেই ‘জ’ এ ‘ই’-কারের জায়গায় ট্রেনের ধোঁয়া ব্যবহার করেছিলেন অনীক দত্ত। কারণ ‘পথের পাঁচালী’র স্মরণীয়তম অংশগুলোর অন্যতম হল অপু-দুর্গার ট্রেন দেখতে যাওয়া। পরে লোগো নিয়ে নতুন করে ভাবতে গিয়ে তিনি শিল্পী সমীর আইচের ছেলে রাজের সঙ্গে কথা বলেন। রাজ নিজেও একজন গ্রাফিক শিল্পী। রাজের সঙ্গে আলোচনা করে ই-কারে ট্রেনের ধোঁয়া রেখে ট্রেনের কামরাগুলো মাত্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভাই-বোন চলে আসে ‘অ’ শব্দের অলঙ্করণের অংশ হয়ে। শেষকালে মিচেল ক্যামেরা যা দিয়ে ‘পথের পাঁচালী’ শুট হয়েছিল, সেই ক্যামেরা দেখা গেল ‘প’ এর ফাঁকা জায়গায়। পুরোটাই খুব যত্ন নিয়ে করা হয়েছে।

অনীক দত্তর বক্তব্য অনুযায়ী, “এর সঙ্গে আমাদের ইংরেজি টাইটেল হল The Undefeated, আসল ‘অপরাজিত’র ইংরেজি নাম ছিল The Unvanquished। এই ইংরেজি নামের ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করলাম Ray Roman Font যেটাও সত্যজিৎ রায়েরই তৈরি করা এবং এ প্রসঙ্গে এ কথা না বলা অপরাধ হবে যে এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে শ্রী সন্দীপ রায়ের অপরিসীম সহযোগিতা, অনুমতি ও অকৃত্রিম উৎসাহের জন্য।”
[আরও পড়ুন: একই দিনে ভাইরাল শাহরুখ-সলমনের ছবি! ব্যাপারটা কী?]
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী