সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গা ছমছমে ভূতের ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’। এই শীতে মুক্তি পাবে উইনডোজের প্রযোজনায়, অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবি। এই ছবির সিংহভাগ অংশের শুটিং হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে। শীতের এই ছবির মোশন পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে ভূত চতুর্দশীতে। এই দিনটি বিশেষভাবে তেনাদের দিন। কিন্তু শুটিংয়ের সময়, বিশেষ করে পাহাড়ের কোলে যখন এই ছবির শুটিং চলছিল তখন কি কোনওরকম ভৌতিক অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়েছিল ছবির টিম? কোনওভাবে কি তেনাদের দেখা পেয়েছেন ছবির টিমের কেউ? অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কেউ কি তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়েছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল এই ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্যকার ও সংলাপ রচয়িতা জিনিয়া সেনের সঙ্গে। ফোনের ওপার থেকে শুটিংয়ের সমস্ত ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন জিনিয়া।
পাহাড়ের কোলে শুটিংয়ের সময় কোনও ভূতুড়ে ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন কি কেউ শুটিং চলাকালীন? প্রশ্ন করতেই জিনিয়া বলেন, “একদম কোনও ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে আমি মনে করেছিলাম যে এরকম অভিজ্ঞতা হবে। আমি রিশপে শুটিং করেছিলাম। ওতো উঁচুতে কারণ একে পাহাড়ে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল তখন। একটা গা ছমছমে ব্যাপার ছিলই। আমি এই প্রথম এই শুটিংয়ে গিয়ে পাহাড়ে একা একটা ঘরে থেকেছি। কোনও অসুবিধা তেনারা করেননি। তবে সারা রাত আলো জ্বালিয়ে রেখেছিলাম। তবে শুটিংয়ে পাহাড়ে গিয়ে আমার কোনও ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা না হলেও এর আগে বহুবার হয়েছে। আমি খুবই ভূতে ভয় পাই। আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে যার কোনও ব্যখ্যা নেই। আমার দিদা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকমাস আমাক বারবার বলতেন বাড়ির বিভিন্ন জায়গা দেখিয়ে যে কেউ যেন সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাকে যেন আমি চলে যেতে বলি। এর মাসখানেক পরে দিদা মারা যান। আসলে এসব অভিজ্ঞতার কথা সবসময় ব্যখ্যা করা যায় না। তবে অভিজ্ঞতা তো হয়েছেই। এমনকী পাহাড়ের কোলে ভূতুড়ে জায়গা হিসেবে পরিচিত এমন কয়েকটি জায়গায় শুটিংয়ের আগে রেইকি চালাতে গিয়ে অরিত্র বেশ অদ্ভুত কিছু অনুভব করে। এরপর আমরা পাহাড়ে কোনও ভূতুড়ে লোকেশনের বদলে জনবহুল এলাকাতেই শুটিং করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সেটাই করি।”
পাহাড়ের কোলে শুটিংয়ে কোনও ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা না হলেও ভৌতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আড্ডা-আলোচনায় কোনও খামতি ছিল না। মানসী সিনহা থেকে কাঞ্চন মল্লিক শুটিংয়ের অবসরে তাঁদের অতীতের নানা ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন বলেই জানান জিনিয়া। সঙ্গে ভাগ করে নেন এক হারহিম করা অভিজ্ঞতা কলকাতায় এই ছবির শুটিংয়ের। জিনিয়া জানান, “শুটিংয়ের সময় পাহাড়ে কোনও অভিজ্ঞতা না হলেও কলকাতায় শুটিং চলাকালীন ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়েছে। কলকাতায় যে যেখানে ছবির বাকি অংশের শুটিং হয়েছে সেখানেই তিনতলার করিডোরে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার শিকার হন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। এমনই হয় যে ও নড়তে পারছিল না। তিনতলায় তখন কেউ ছিল না। ও কোনওভাবে নেমে এসে জানায় ওর ভয়াবহ অভিজ্ঞতাঁর কথা। একইভাবে ওই শুটিং লোকেশনেই একজন টেকনিশিয়ানও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার শিকার হন। তিনি কাঞ্চন মল্লিকের ঘরের যে শৌচালয় সেখান থেকে বেরনোর সময় বুঝতে পারেন যে দরজা বাইরে থেকে কেউ আটকে রেখেছে। কাজেই এরকম বেশ কয়েকটা অভিজ্ঞতা হয়েছে।” উল্লেখ্য ভূত চতুর্দশীতে অর্থাৎ তেনাদের বিশেষ দিনে প্রকাশ্যে এল ছবির মোশন পোস্টার। হরর-কমেডি ঘরানার এই ছবিতে হাস্যরস ও ভয় দুই উপাদানই ভরপুর রয়েছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী, সোহম মজুমদার, বনি সেনগুপ্ত, অনামিকা সাহা, মানসী সিনহা, কাঞ্চন মল্লিক-সহ আরও অনেকে।
সর্বশেষ খবর
-
‘তুষ্টিকরণে চাপা পড়েছিল উন্নয়ন’, সনাতনীদের অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস স্মরণ শুভেন্দুর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক