দিন কয়েক আগেই ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’ শোয়ের প্ল্যাটফর্মে এসে ঘাটালের এক অসহায় ‘লক্ষ্মী’র করুণ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেবের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে তড়িৎগতিতে মুশকিল আসান করলেন সুপারস্টার সাংসদ। সোশাল মিডিয়ায় সেকথা তুলে ধরেই দেবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুদীপ্তা।
তার এক ঘণ্টার মধ্যেই দেব আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে রীতার স্বামীর মৃত্যুপ্রমাণপত্র পাঠায়। ‘লক্ষীলাভ’ এর টিম থেকে খবর পেলাম, প্রমাণপত্র জমা করার সঙ্গে সঙ্গে রীতার স্বামীর করা ঋণও মকুব হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’। শোয়ের সঞ্চালিকা হিসাবে সুদীপ্তা চক্রবর্তী এখন প্রতিটি বাঙালির ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি এক বিশেষ পর্বে ঘাটালের এক সর্বহারা ‘লক্ষ্মী’র বৈধব্য যন্ত্রণার কথা জানিয়ে ঘাটালের সাংসদ দেবের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন। পাঁচ মাস আগে প্রয়াত হয়েছেন ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দা রীতা আড়ির স্বামী রাখাল আড়ি। পরিবারের কাঁধে বিরাট ঋণের বোঝা। ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো মাস, তবুও মেলেনি ডেথ সার্টিফিকেট। তাই প্রতি মাসে মোটা টাকা ঋণও পরিশোধ করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা রীতার। সার্টিফিকেট পেলে অন্তত ঋণ মকুব হত। এদিকে দুই সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেও একপ্রকার হিমশিম খাচ্ছিলেন স্বামীহারা অসহায় মহিলা রীতা আড়ি। জুতোর শুকতলা খুইয়ে গেলেও স্বামীর মৃত্যুর প্রমাণপত্র পাননি তিনি। ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’ শোয়ে নিজের জীবনযুদ্ধের কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলেন রীতা। এহেন কঠিন পরিস্থিতির কথা দেবের কাছে তুলে ধরেছিলেন সুদীপ্তা। দেবও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করায় এবার সুপারস্টার সাংসদকে ধন্যবাদ জানালেন সুদীপ্তা।

অভিনেত্রী তথা সঞ্চালিকা জানান, “‘লাখ টাকার লক্ষীলাভ’-এ খেলতে আসা চন্দ্রকোণার (ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর) রীতার সমস্যার কথা জানিয়ে দেবকে ফেসবুকে লিখি গত রবিবার সন্ধেয়। ওদিন রাতে ফেসবুকেই দেব জানায় সে দেখছে বিষয়টা। সোমবার সকালেই ওর টিম থেকে ফোন আসে আমার কাছে। আর তার এক ঘণ্টার মধ্যেই দেব আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে রীতার স্বামীর মৃত্যুপ্রমাণপত্র পাঠায়। ‘লক্ষীলাভ’ এর টিম থেকে খবর পেলাম, প্রমাণপত্র জমা করার সঙ্গে সঙ্গে রীতার স্বামীর করা ঋণও মকুব হয়ে গিয়েছে। যে ঋণ শোধ করতে না পেরে গত মার্চ মাসে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। রীতার ভার কিছুটা কমল। মাসে মাসে আর কিস্তির টাকা দিতে হবে না তাকে। খুব ভালো লাগছে। অসংখ্য ধন্যবাদ দেব। ভালো থেকো। তবে যে রীতাদের আমি চিনি না, বা যাদের অনেক চেনা পরিচিতি নেই, তাদের কাউকে যেন ভবিষ্যতে এরকম কোন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মচারীদের কাছে আমার এইটুকু অনুরোধ রইল।” সুদীপ্তার ডাকে দেবের এহেন উদ্যোগে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটভুবনের বাসিন্দারাও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আপদকালে কার দায়িত্ব কী? নিচুতলায় পৌঁছচ্ছে না স্পষ্ট নির্দেশিকা! ‘ভ্রান্তি’ কাটাতে আসরে লালবাজার
-
বাড়িতে ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে খুন! দিল্লির রোমহর্ষক ঘটনায় অভিযুক্ত জিম প্রশিক্ষক
-
ভূত তাড়ানোর নামে যৌন নির্যাতন! কানাডায় গ্রেপ্তার পুরোহিত
-
কলকাতার প্রশিক্ষণ শিবিরে এসে হারাল বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার হলুদ ডায়েরি! গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
-
পুজোর মুখে নেপালের বিপর্যয়ের প্রভাব পড়বে উত্তরের পর্যটনে! মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের