রবিবাসরয়ী সকালে দুঃসংবাদ। জীবনাবসান প্রবাদপ্রতিম চিত্রসাংবাদিক রঘু রাইয়ের (Raghu Rai Death)। শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। রঘুর সন্তান নীতিন, যিনি নিজেও একজন চিত্রসাংবাদিক, জানিয়েছেন, ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁর বাবা। জীবনের শেষলগ্নে শরীরে দানা বেঁধেছিল বার্ধক্যজনিত বেশ কিছু সমস্যাও।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নীতিন বলেছেন, “দু’বছর আগে আমার বাবা প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে পাকস্থলীতে ছড়িয়ে পড়লে তখনও ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়। কিন্তু, সম্প্রতি মাথায় ছড়িয়ে পড়ে আর সেই সঙ্গে বয়সজনিত বহু সমস্যাও দেখা দেয়।” সোশাল মিডিয়ায় রঘুর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল চারটের সময় দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুন:
View this post on Instagram
মৃত্যুকালে রেখে গেলেন অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় বর্ণাঢ্য কর্মজীবন। ভারত জুড়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রঘু রাইয়ের নাম। ১৯৭২ সালে তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে সম্মানিত করা হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শিবসেনা দলের প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে, সত্যজিৎ রায়, মাদার টেরেসা, দলাই লামার মতো হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের নিজের ক্যামেরায় লেন্সবন্দি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন রঘু।
১৯৮৪ সালে ভোপালের গ্যাস বিপর্যয়ের সেই ভয়াবহ মুহূর্তেও ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখেছিলেন রঘু। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে রঘুর ক্যামেরবন্দি তাজমহলের ছবি। রঘু রাইয়ের ছবি বিশ্বের বহু শীর্ষস্থানীয় ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাং-এ জন্ম রঘুর। ১৯৬২ সালে তাঁর বড় ভাই চিত্রগ্রাহক এস. পলের কাছে ফটোগ্রাফি শেখা শুরু করেন। পেশাদার জীবন শুরু করেন ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এবং ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লিতে এক ইংরাজি দৈনিকে চিত্রসাংবাদিক হিসেবে জার্নি শুরু করেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন জাতীয়স্তরে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার ছবি তোলেন। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কর্মদক্ষতায় খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান রঘু।
তাঁর ছবি ভারতজুড়ে সমাদৃত। অনেক বই প্রকাশ করেছিলেন রঘু, যেখানে ছিল তাঁর নিজের তোলা ছবির সমাহার। ১৯৮৪ সালে ভোপালের গ্যাস বিপর্যয়ের সেই ভয়াবহ মুহূর্তেও ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখেছিলেন রঘু। চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে রঘুর ক্যামেরবন্দি তাজমহলের ছবি। রঘু রাইয়ের ছবি বিশ্বের বহু শীর্ষস্থানীয় ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আসানসোলে বিজেপির কর্মসূচিতে কয়লা মাফিয়া আনোয়ার! টেনে সভাস্থল থেকে বের করল কর্মীরা
-
কবে ছাত্রভোট? ‘ফ্যাসিস্ট’ মমতা সরকারকে বিঁধে শুভেন্দুর দরবারে ঋতব্রতরা
-
১০ ঘণ্টা মেরাথন জেরা, ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেকের বাড়ি ছুটলেন পিএ সুমিত
-
ভিডিওকলে স্বামীর পরকীয়া, ফোন ভেঙে দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল যুবক! হাড়হিম ঘটনা মালদহে
-
২৫ ফুটের ‘গামোছা’য় জুবিনের গান! শব্দে স্বর বুনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অসমের তাঁতির