তোলাবাজি, শ্লীলতাহানির মতো একাধিক অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন স্বরূপ বিশ্বাস। শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাইকে আপাতত তেরো দিন জেলেই থাকতে হবে। এমতাবস্থায় টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছাই চাপা আগুনের মতো বুজে থাকা সব ক্ষোভ এবার লাভার মতো ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে! সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন ঋত্বিক চক্রবর্তী।
টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর উপর। অভিযোগ, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে টলিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। বিগত কয়েক বছরে সিনেপাড়ার অন্দরে বহুবার এমন রব শোনা গিয়েছে যে- ‘টলিউডকে কার্যত দুর্নীতির আখাড়া বানিয়ে ফেলেছেন স্বরূপ!’
আরও পড়ুন:
এখনও পর্যন্ত ২২ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। কাদের থেকে তিনি তোলাবাজি করেছেন? এবার সেটাই খতিয়ে দেখবে পুলিশ। এই বিষয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তীর মন্তব্য, “থ্রেট, শ্লীলতাহানি, অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত হোক। পুলিশ তদন্ত করছে। কী বেরোয়? সেদিকেই তাকিয়ে আছি।” আসলে টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর উপর। অভিযোগ, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে টলিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। বিগত কয়েক বছরে সিনেপাড়ার অন্দরে বহুবার এমন রব শোনা গিয়েছে যে- ‘টলিউডকে কার্যত দুর্নীতির আখাড়া বানিয়ে ফেলেছেন স্বরূপ!’ তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ‘তুঘলকি স্টাইলে’ মুড়িমুড়কির মতো শিল্পী, কলাকুশলীদের নিষিদ্ধ করার মতো একগুচ্ছ অভিযোগ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এপ্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোর ‘অনুপ্রেরণা’র কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ঋত্বিক।

“ওঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সব কাজ করতেন। এই কথাটা সব জায়গাতেই তো লিখে বেড়াতেন ওঁরা। একা অরূপ বিশ্বাস নন, এখানেও হয়তো মমতার কোনও অনুপ্রেরণা থাকতে পারে।…”
স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে টলিউডের সিংহভাগ সেলেবদের মতো অভিনেতাও বললেন, “এটা স্বস্তি তো বটেই। কারণ বহুদিন থেকেই অনেকে বলে আসছিলেন যে, একটা ভয়ের পরিবেশ ছিল। একটা থ্রেট কালচার ছিল। ওঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সব কাজ করতেন। এই কথাটা সব জায়গাতেই তো লিখে বেড়াতেন ওঁরা। একা অরূপ বিশ্বাস নন, এখানেও হয়তো মমতার কোনও অনুপ্রেরণা থাকতে পারে। স্বরূপ বিশ্বাসরা সকলে আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ছাড়া কিছুই করতে পারতেন না। সব বিষয়েই এটা দেখেছি। একটা সুলভ শৌচালয় বানাতে গেলেও সেটাও ওনার অনুপ্রেরণাতেই হত। এত বড় বড় কাজ যখন হচ্ছিল, নিশ্চয়ই সেখানেও ওঁর কোনও অনুপ্রেরণা কাজ করেছে।” অতঃপর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এহেন দৈন্যদশায় ঋত্বিক চক্রবর্তী যে পরোক্ষভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন, তা বলাই বাহুল্য। আসলে ছাব্বিশে তৃণমূলের বিধ্বংসী হারের পর ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই অবশ্য ‘ফাইটার’ নেত্রীর সঙ্গে ‘ধৃতরাষ্ট্রে’র তুলনা টেনে অঙ্ক মেলানোর চেষ্টা করেছেন। ঋত্বিক চক্রবর্তীও সম্ভবত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘বিশ্বাস ব্রার্দাস’দের বাড়বাড়ন্তের জন্য মমতাকেই নিশানা করলেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্মৃতিভ্রংশে’ ভুগছিল চ্যাটজিপিটি, সতর্ক ওপেনএআই, এবার আপনাকে ভুলবে না চ্যাটবট!
-
শেষ সূর্য জমানা! ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স, প্রথমবার জাতীয় দলে বৈভব
-
আউট হয়েও বাঁচলেন ‘ধুরন্ধর’ রাহুল! ‘ওকে অস্কার দাও’, বললেন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা
-
শওকত মোল্লাই ‘মূল সন্দেহভাজন’, ভাঙড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডে বিবৃতি জারি এনআইয়ের
-
‘পশ্চিমবঙ্গে ডিম এখন খুব সস্তা’, চড়া সুর যশের, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ‘জেগে উঠলেন’?