সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার থেকেই অনির্বাণ ভট্টাচার্যর ব্যান্ডের গানে তোলপাড় নেটভুবন! ‘নরেন্দ্র মোদির পেনশন-টেনশন’ থেকে শুরু করে হিন্দু রাষ্ট্র, আচ্ছে দিন হয়ে বঙ্গ রাজনীতির ‘তিন ঘোষ’কে একসূত্রে গেঁথে মঞ্চে যেভাবে কণ্ঠ ছেড়েছিলেন টলিউডের অভিনেতা-পরিচালক তথা গীতিকার-গায়ক, সেই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত নিয়েই বর্তমানে নেটপাড়ায় হইচইয়ের অন্ত নেই। অনির্বাণের পলিটিক্যাল স্যাটায়ার মূলক গানে বিতর্কও তুঙ্গে! যদিও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বামনেতা শতরূপ ঘোষ এই গানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তবে আপত্তি তুলে অনির্বাণ এবং তাঁর ‘হুলিগানিজম’ টিমকে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন সিনেইন্ডাস্ট্রি তথা বঙ্গ রাজনীতির আরেক ‘ঘোষ’, রুদ্রনীল।
রাজনীতির বহুলচর্চিত বিষয়গুলিকে নিয়ে সহকর্মী অনির্বাণ ভট্টাচার্য হাস্যরসের মোড়কে যে গান বেঁধেছেন, সেটা নিয়ে রুদ্রনীল ঘোষের কোনও আপত্তি নেই! তবে পদ্ম শিবিরের নেতা-অভিনেতার রাগ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সনাতন ধর্ম নিয়ে অনির্বাণের ‘হুলিগানইজম’-এ। ক্ষোভে ফুঁসে রুদ্রনীল এক দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বন্ধুবর অনির্বাণ ভট্টাচার্য তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আপনার এই অসচেতন, জ্ঞানহীন বক্তব্যের। আপনি মঞ্চে বললেন- ‘সনাতন এসে গেছে? আর সনাতনী? সনাতন মানে আমি সনাতন ধর্মের কথা বলছি। আসেনি তো এখনো? সনাতন ভারতে পৌঁছতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে, সবাই এগিয়ে যায়, আমরা পিছিয়ে যাব!” ভাই,অনির্বাণ পৃথিবীর চূড়ান্ত মুর্খ ব্যক্তিও জানেন, সনাতন ধর্ম পৃথিবীর আদিতম ধর্ম বা জীবনচর্যা। তারপর বাকি ধর্মগুলির জন্ম। আর আপনি বললেন, ‘সনাতন ভারতে পৌঁছতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে!’ আপনি সজ্ঞানে বললেন এই কথা?’
অনির্বাণের বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মকে অপমানের অভিযোগ তুলে রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য, ‘অন্য কোনও ধর্ম সম্পর্কে এই ধরনের উক্তি করলে তারা এতক্ষণে আপনাকে কোন স্থানে রাখতেন নিশ্চই জানেন! সবাই জানে, আপনার কাজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাই গান গেয়ে পেটের ভাত জোগাড় করতে হচ্ছে। দূর্ভাগ্যজনক! কিন্তু যে ‘হুলিগানরা’ আপনার পেটের ভাত কাড়ল, তা নিয়ে বা আরজিকর ডাক্তারহত্যা নিয়ে বা শিক্ষক পেটানো বা শিক্ষাদুর্নীতি নিয়ে আপনার মুখে কুলুপ! অথচ অকারণ ছোট করছেন নিজের ধর্মকে? সনাতন ও সনাতনীকে? কাকে খুশী করতে? ভাই অনির্বাণ, যদি সত্যই নিজের অজ্ঞানতা থেকে এই বক্তব্য রেখে থাকেন, তাহলে জানান। দেখবেন সমস্ত সনাতনীরা দল-মত-ঝান্ডা-জীবিকা ভুলে আপনাকে ক্ষমা করবেন ও ভবিষ্যতে এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য না করার অনুরোধ করবেন। আর যদি সজ্ঞানে এই ধরণের মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে ক্ষমা চেয়ে নিন। সনাতন ধর্ম আদি ও অনন্ত। আপনি আমি দুনিয়ায় থাকি বা না থাকি, সনাতন-সনাতনী ছিল আছে ও থাকবে।’ রুদ্রনীলের এহেন পোস্টের পরই আবার নেটভুবনের নিন্দুকদের একাংশের খোঁচা, ‘মঞ্চে তিন ঘোষের নামে আপনার নাম নেননি বলে গোঁসা হয়েছে নাকি?’ যদিও অনির্বাণ ভট্টাচার্য রুদ্রনীলের পোস্টের প্রেক্ষিতে চুপ!
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়