Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Ghooskhor Pandat

বাকস্বাধীনতার নামে ব্রাহ্মণদের অপমান! ‘ঘুষখোর পণ্ডিত নাম বদলান’, মনোজ বাজপেয়ীকে ‘সুপ্রিম’ ভর্ৎসনা

নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত তথা মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত 'ঘুষখোর পণ্ডিত' নির্মাতাদের কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৭:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১৭:৫৩

options
link
বাকস্বাধীনতার নামে ব্রাহ্মণদের অপমান! ‘ঘুষখোর পণ্ডিত নাম বদলান’, মনোজ বাজপেয়ীকে ‘সুপ্রিম’ ভর্ৎসনা zoom
'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এ মনোজ বাজপেয়ী, ছবি- সোশাল মিডিয়া

‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ সিনেমা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিকমহল। কথায় বলে, ‘নামে কি আসে যায়?’ কিন্তু এই নামের জেরেই ঘোর আইনি বিপাকে মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন সিনেমা। ‘পণ্ডিত’-এর আগে ‘ঘুষখোর’ শব্দটি নিয়েই যত বিতর্কের ঝড়। গত বুধবার টিজার প্রকাশ্যে আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি হাই কোর্ট এবং উত্তরপ্রদেশে জোড়া মামলা দায়ের হয় সিনেনির্মাতাদের বিরুদ্ধে। উপরন্তু কেন্দ্রের কাছেও ‘মুখ পুড়েছিল’ নেটফ্লিক্সের! অভিযোগ, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। এবার শীর্ষ আদালতে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ নির্মাতাদের।

“আপনারা যদি বাকস্বাধীনতার নামে সমাজের কোনও অংশকে হেয় করেন, তাহলে তার অনুমতি আমরা দিতে পারি না।”

বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, শুনানি চলাকালীন বিচারপতি নাগরত্না বলেন, “বাকস্বাধীনতার একটা সীমা রয়েছে। আপনারা কেন কোনও সম্প্রদায়কে অবজ্ঞা করবেন? এটা তো অনৈতিক এবং মানবতাবিরোধী। দেশে এমনিতেই অস্থির পরিস্থিতি, তার মধ্যে এই ধরনের নামে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করা। আমাদের ধারণা ছিল, পরিচালক-সাংবাদিকরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের আইন সম্পর্কে অবগত। কিন্তু আপনারা যদি বাকস্বাধীনতার নামে সমাজের কোনও অংশকে হেয় করেন, তাহলে তার অনুমতি আমরা দিতে পারি না।” পাশাপাশি অবিলম্বে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ সিনেমার নাম বদলের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

দিন দুয়েক আগেই জানা গিয়েছিল, দিল্লি আদালতে মামলার জেরে সিনেমার নাম বদলাতে রাজি হয়েছেন নির্মাতারা। আইনজীবী বিনীত জিন্দালের মারফৎ মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে জনৈক ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার মনোজ বাজপেয়ীর সিনেমার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, পণ্ডিতের সঙ্গে কেন ‘ঘুষখোর’ শব্দটি রাখা হল? জানা গিয়েছে, ওই মামলাকারী ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ণ ও শিক্ষাদানে নিবেদিত একজন আচার্য। আর সেই প্রেক্ষিতেই সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়ে অপমানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন তিনি। আদালতে মামলা দায়ের করে তাঁর যুক্তি, “‘পণ্ডিত’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে পাণ্ডিত্য, নীতিশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক নির্দেশনার প্রতীক। আর সেটাকেই কিনা সিনেমার শিরোনামে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হল! এটা তো ন্যায়সংহিতার ১৪, ২১ এবং ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে।”

Manoj Bajpayee’s film ‘Ghooskhor Pandat’ sparks legal storm
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর প্রচারঝলকে মনোজ বাজপেয়ী, ছবি- সোশাল মিডিয়া

জানা গিয়েছে, ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ ছবিতে অজয় ​​দীক্ষিত যাকে ‘পণ্ডিত’ বলে পরিচয় করানো হয়েছে, সেই ব্যক্তি আদতে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক। টেবিলের তলা দিয়ে ঘুষ নিয়ে কাজ খালাস করতে যার জুড়ি মেলা ভার। আর পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ফ্রেমে এহেন চরিত্রে অভিনয় করেই বিপাকে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ী! যে সিনেমার নাম, এমনকী বিষয়বস্তু নিয়ে বর্তমানে তুমুল আইনি বিতর্ক। তবে আপত্তি যে শুধু গেরুয়া শিবিরের তরফেই উঠেছে, তেমনটা নয়! এই সিনেমা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার অন্যতম ‘ইস্যু’ হয়ে উঠেছে। কারণ যোগীর পাশাপাশি এই সিনেমার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী মায়াবতীও।

অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য, “ভারতীয় জনতা পার্টি এবং মোদি সরকার সমাজের সকল সম্প্রদায়কে সম্মান করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় সমর্থক। সমাজের কোনও অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এমতাবস্থায় নেটফ্লিক্স থেকে বিতর্কিত ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর টিজার এবং সমস্ত প্রচারঝলক সরানোর এই নির্দেশ অত্যন্ত যথাযথ এবং প্রশংসনীয়।” এবার নামের জেরে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল নির্মাতাদের। আগামী দিনে কোন নামে নতুন মোড়কে সিনেমার ঝলক প্রকাশ্যে আসবে, নজর থাকবে সেদিকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.