বুধবার অমিতাভ বচ্চনের বয়স হবে ৭৫! এই মাইলফলক দিনের বিশেষ উৎসব থেকে দূরে সরে থাকতে চাইলে কী হবে। তাঁর কথা শুনছে কে? গোটা বিশ্ব জুড়ে ক্যাপটিভ অডিয়েন্স তো দামামা বাজাতে শুরু করেছে। কে জানত লতা মঙ্গেশকরও ব্যতিক্রম নন! তাঁর নিজের বয়স ৮৮। অথচ ভুলাভাই দেশাই রোডের সেই বিখ্যাত বাড়ি ‘প্রভু-কুঞ্জ’ থেকে গৌতম ভট্টাচার্য-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারের সময় তিনি যেন হয়ে পড়লেন ফ্যানগার্ল।
…অমিতাভ বচ্চন সম্পর্কে আমি আর বিশেষ কী বলতে পারি? এমন একজন আর্টিস্ট যিনি সবরকম চরিত্র একই রকম অনায়াস দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন। বড় মাপের আর্টিস্ট! আমি খুব সম্মান করি ওঁকে। আমি কখনও খুব সামাজিক নই। ইন্ডাস্ট্রির পার্টিতে-জন্মদিনে-বিয়েতে কোথাও আমায় দেখবেন না। আজ বলে নয়। বরাবর আমি এরকম। বহু বছর আগে একবার রাজ কাপুরের জন্মদিনে গিয়েছিলাম। তারপর আর না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে অমিতজির সঙ্গে দেখা হয় বা আমি ওঁর জুহুর বাড়িতে যাই এমন নয়। কিন্তু দূরে থেকেও আমি ওঁর বরাবরের নীরব অনুরাগী। মানুষটা সবকিছু করেন অদ্ভুত স্টাইল আর ডিগনিটির সঙ্গে। ইংরেজি যেমন ভাল লেখেন, তেমন ভাল ওঁর হিন্দি। আমার জন্মদিনে এবারও একটা পুষ্পস্তবক পাঠিয়েছেন। সঙ্গে হিন্দিতে এমন চমৎকার চারটে লাইন যে, মন ভরে যায়।
পঁচাত্তর বছর হয়ে গেল আমার এই ইন্ডাস্ট্রিতে। আমি দিলীপ কুমার ছাড়া কাউকে তুলনাতেই আনতে পারছি না। ‘কুলি’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে ওঁর যখন অ্যাক্সিডেন্ট হল ঠিক তার আগের ফেজটা ছিল অকল্পনীয়। গোটা ভারতের ছেলে-বুড়ো-যুবক সবাই অমিতজির স্টাইলে চুল কাটতে শুরু করল। আমার সেই ম্যানিয়া দেখে তাজ্জব লাগত। অ্যাক্সিডেন্টের পরেও ওঁর ক্যারিশমাটা অক্ষত থেকে গিয়েছে। আমাকে আপনি বলছিলেন ভারতবর্ষে অমিতাভ বচ্চন, শচীন আর লতা মঙ্গেশকর, এই তিনজন একটা পৃথক শ্রেণির। আমি বলব কথাটা পুরো ঠিক নয়। লতাকে সরিয়ে নিন। শুধু অমিতজি আর শচীনকে রাখুন। ওঁরা ভারতবর্ষের সম্মান কোথায় নিয়ে গিয়েছেন!
[অপেক্ষার অবসান, প্রকাশ্যে এল ‘পদ্মাবতী’র ট্রেলার]
তিনটে বৈশিষ্ট্যের জন্য অমিতাভ বচ্চন আমার এত প্রিয়। এক, কখনও কোনও পরিস্থিতিতে ওঁকে আমি রাগতে দেখিনি। অদ্ভুত শান্ত একটা মেজাজ নিয়ে উনি কঠিন পরিস্থিতির উপরও নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এই ক্ষমতা ঈর্ষণীয়। দুই, ওঁর ভাষাজ্ঞান খুব ভাল। যাঁদের উচ্চারণে এই পর্যায়ের শুদ্ধতা আছে তাঁদের আমি খুব শ্রদ্ধা করি। জানি না ছোটবেলায় সংস্কৃত শিখেছিলেন কি না। নইলে বিশুদ্ধ হিন্দির উপর এত ভাল কম্যান্ড হল কী করে? ইংরেজি উচ্চারণ খুব ভাল। এমনকী, গড়গড় করে বাংলাও ওঁকে আমি বলতে শুনেছি। তিন, ব্যবহারিক সৌজন্য। যখনই দেখা হয় এত নম্র, ভদ্র দেখায় ওঁকে। বড় বড় লোকেদের এটা বৈশিষ্ট্য। শচীনকেও লক্ষ্য করবেন। এরা খুব বিনয়ী হয়। সাফল্যকে কখনও মাথায় চড়তে দেয় না। আর সেজন্যই এত বছর থেকে এত দাপটের সঙ্গে এরা রাজত্ব করে।
আমি হয়তো হিন্দি সিনেমায় ইদানীং প্লেব্যাক করি না। কিন্তু খোঁজখবর তো রাখি। এখন যাঁরা আছেন তাদের মধ্যে সলমন অগ্রগণ্য। ওর একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। আমির আছে। ওরও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শাহরুখ আছে। অজয় দেবগণ আছে। খুব ভাল অ্যাক্টিং করে। এরা যথেষ্ট ভাল। নাম করা। কিন্তু এরা কেউ আমার কাছে অমিতাভ বচ্চন নয়। অমিতজির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো কেউ নেই। জানি না ভবিষ্যতে আসবে কি না। অমিতজি আজ আর হিরো-র রোলে অভিনয় করেন না। বাবার রোল করেন। তাতেও কী জমিয়ে দেন! ‘পিকু’ যেমন। আমাকে খুব আকৃষ্ট করে ওঁর ভার্সেটাইলিটি। ওঁর অভিনয় আমার কাছে রবিশঙ্করের বাজনা বা শচীনের ব্যাটিংয়ের মতো। কখনও আরোপিত নয়। কষ্টকণ্টকিত নয়। এমন স্বতঃস্ফূর্ত, যে সমঝদার নয়, সে-ও দেখলে বুঝবে এই লোকটা কোথাও গিয়ে আলাদা!
[ফের বিকিনিতে লাস্য ছড়ালেন পূজা বেদির কন্যা]
অমিতজির কোন কোন সিনেমা আমার ভাল লেগেছে সেটা বলার চেয়ে অনেক সহজ জানানো, কোনটা কোনটা ভাল লাগেনি। ভাল লাগেনি ‘তুফান’। আর ‘জাদুগর’। ভাল লাগা ফিল্ম অনেকগুলিই রয়েছে। প্রথম তিনটে আমার কাছে ‘ডন’, ‘দিওয়ার’ আর ‘ব্ল্যাক’। ‘ব্ল্যাক’-এ অবশ্য রানির অভিনয়ও দুর্ধর্ষ হয়েছিল। ‘ত্রিশূল’-এও অমিতজি দারুণ করেছিলেন!ওঁর গলাটা যে অসাধারণ সবাই জানে। ওই হাইট। এত পরিশ্রমী। আর ছোট ছোট কাজে চরিত্রের মধ্যে এমন ঢুকে পড়েন যে, কম্বিনেশনটা সাংঘাতিক শক্তিশালী হয়ে যায়। ফিল্ম ছেড়ে দিলাম, এই যে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ করেন। আমি প্রত্যেকটা এপিসোড রাতে দেখি আর মনে মনে সেই পারফেকশনের তারিফ করি। কী সুন্দর করে উনি প্রতিযোগীদের বোঝান! ইউটিউব-এ গেলে দেখবেন একটা ফাংশনের ভিডিও আপলোড করা রয়েছে যেখানে আমার অনুষ্ঠানে ‘সিলসিলা’-র গানের সঙ্গে অমিতজি ওঁর ডায়ালগ মঞ্চের উপর লাইভ বলছেন। গানটা ছিল, ইয়ে কাঁহা আ গয়ে হ্যায় হাম। বেশ কয়েক বছর আগে অনুষ্ঠানটা হয়েছিল। উদ্যোক্তা ছিলেন রাজ ঠাকরে। খুব ভাল করেছিলেন অমিতজি। দর্শকের খুব ভাল লেগেছিল আমাদের যুগলবন্দি।
আমি ওঁর গানও শুনেছি। দারুণ কিছু না হলেও মোটামুটি সুরে গান। ‘কাহানি’-তে ‘একলা চল রে’ গেয়েছিলেন সেটা শুনেছি। এমনকী ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের আগে ইডেনে ওঁর গাওয়া জাতীয় সঙ্গীতও আমার টিভির সামনে বসে শোনা। বেশ ভালই তো গেয়েছেন। একটা প্রশ্ন বারবার দেখেছি মানুষের মনে ফিরে ফিরে আসে-কীর্তিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে গেলে, নিজের পারফরম্যান্স দশকের পর দশক ধরে রাখতে হলে কী করতে হয়? রহস্যটা কোথায়? আমার মতে রহস্য একটাই। সাফল্যে অবিচলিত থাকতে পারা। আমি অনেক গায়ক-গায়িকার কথা শুনেছি। সামান্য সাকসেসেই যাদের চলন-বলন-জীবনযাত্রা সব বদলে গিয়েছে। আমাকে যখনই কেউ এগুলো বলেছে আমার মনে হয়েছে এরা পড়ল বলে। লম্বা থাকতে হলে মনকে শান্ত করে থাকতে হয়। সাফল্যকে মাথায় চড়তে দিতে নেই।
[কঙ্গনার নগ্ন ছবি ফাঁস করেছিলেন হৃতিক! উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ]
পারিবারিক শিক্ষাটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওটা যদি সুদৃঢ় থাকে, যদি কেউ মনে রাখতে পারে যে, আমার মা-বাবা কী শিখিয়েছেন? পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে আমি কী শিখেছি? তাহলে বন্যার মতো ধেয়ে আসা সাফল্যও তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। অমিতাভ বচ্চন এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। উনি জানেন নিজেকে যে বড় ভাবতে শুরু করে সে বড় হয়ে বেশিদিন টিকতে পারে না। দিনের শেষে আমরা হিন্দুস্থানি সভ্যতার ফসল। সাফল্য এল আর ধর্ম বদলে রাতারাতি সাহেব-মেম হয়ে গেলাম, এটা ঠিক নয়।
ব্যবহার বদলাতে নেই। অমিতজি ওঁর ব্যবহার আর ভদ্রতাবোধ পেয়েছেন বাড়ি থেকে। হরবনস রাই বচ্চনও মানুষ হিসাবে খুব সিম্পল ছিলেন। পঁচাত্তর বছরে অমিতজিকে কী শুভেচ্ছা জানাব জানি না। এখনও তো উনি কী দারুণ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এটুকু অবশ্যই বলতে পারি কাজ চালিয়ে যান। থামাবেন না। এত বছর পরেও আমরা যে একইরকম মুগ্ধ দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি…
[‘কেদারনাথ’-এর ফার্স্ট লুকে সইফ-কন্যা মনে করাচ্ছেন মা অমৃতাকে]
সর্বশেষ খবর
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?
-
পেট্রলে ইথানল মিশিয়ে ব্যবহারের পরিণাম কী? সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র বলল, ‘সবটাই পরীক্ষার স্তরে’
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?
-
চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী! চক্ষুদান করবেন? কী জানাল ক্লাব