Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১২ জুন ২০২৬
Srijit Mukherji

‘আমি আসলে ফেঁসে গিয়েছি…’, কেন বললেন সৃজিত?

'মৃত্যুই আমার কাছে চিরন্তন সত্য', একান্ত সাক্ষাৎকারে অকপট সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১৬:১৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ১৬:১৪

options
link
‘আমি আসলে ফেঁসে গিয়েছি…’, কেন বললেন সৃজিত? zoom

ক্রিকেট জার্নালিস্ট হতে গিয়ে ফিল্মমেকার হয়েছেন, স্বীকারোক্তি সৃজিত মুখোপাধ‌্যায়ের। এটা কি সত্যি? ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ ছবি মুক্তির আগে অকপট পরিচালক। বিদিশা চট্টোপাধ‌্যায়

পরপর ছবি মুক্তি, তার মধ্যেই আগামী ছবির শুটিং, নতুন ছবির প্রোমোশন- আপনি কাজপাগল নাকি প্রচণ্ড উচ্চাকাঙ্ক্ষী!
– কাজ ছাড়া আমার জীবনে তো কিছু নেই। বাকিদের মতো সাংসারিক দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হয় না। ফলে আমি আর আমার কাজ–এটাই আছে। আর সৌভাগ‌্যবশত আমার প‌্যাশন আর ভালোলাগার জায়গাটাই আমার কাজের জায়গা। তাই অসুবিধে হয় না।
বাসু চট্টোপাধ‌্যায়ের ছবি ‘এক রুকা হুয়া ফ‌য়সলা’ অবলম্বনে আপনার ছবি ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’। এটা কোর্টরুম ড্রামা বলে তো মনে হচ্ছে না। যারা ডিসিশন মেকারস, তারা অভিযুক্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোন ক্ষমতায়?
– এটা এক্ষুনি বলে দিলে প্লটের ইউনিকনেসটা বলে দেওয়া হবে। অনেকে জানতে চেয়েছে ভারতে তো জুরি সিস্টেম নেই, তাহলে? আমার মনে হয়, অ‌্যাডাপটেশনের মজাটা ওখানেই। স্মৃতি এবং স্বপ্নের ব্যবহার আছে, এইটুকু বলতে পারি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আপনার মুখেই শুনলাম, বেঙ্গালুরু থাকাকালীন এই গল্প নিয়ে নাটক করেছিলেন। এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন ছবিটা করতে?
– আসলে এই ছবিটা করার কথা ছিল ‘অটোগ্রাফ’-এর পর। যে চরিত্রটা পরমব্রত করছে সেই চরিত্রটা ঋতুদার করার কথা ছিল। কৌশিকদার জায়গায় ভেবেছিলাম অঞ্জনদাকে। ঋতুদা স্ক্রিপ্টটা শুনেই বলেছিল এটা আমি করব। ‘চতুষ্কোণ’-এর স্ক্রিপ্টটাও ঋতুদার ভালো লাগে, ওটাও করার কথা ছিল। আর কাকতালীয়ভাবে যে দুটো ছবিতে যে দুটো চরিত্র ঋতুদা আর অঞ্জনদার করার কথা ছিল, সে দুটো ছবিতেই সেই চরিত্র দুটো পরম আর কৌশিকদা করেছে। ঋতুদা চলে যাওয়ার পর প্রোজেক্টটা পিছিয়ে যায়।

সৌরসেনীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল, এই ছবিতে ও নিজেকে ‘রেবেল’ হিসাবে পরিচয় দিল…
– সৌরসেনী এই ছবিতে ফিল্মমেকার এবং নিজেকে ফেমিনাৎজি হিসাবে দেখে। সব নষ্টের মূলে পুরুষ, এটাই তার মূল মন্ত্র!

ফেমিনিস্টদের আপনি এই চোখেই দেখেন?
– না, আমি এইভাবে দেখি না। জেনেরিকভাবে দেখি না, কিন্তু আমি এমন ফেমিনাৎজি দেখেছি এবং তারা কট্টর নারীবাদী হয়েছে যে সব পুরুষদের কারণে তেমন এক্সট্রিম পুরুষও দেখেছি।

বাকিরা?
– অনন‌্যা এখানে রূপা, খুব অহংকারী এবং বম্বে প্রীতি আছে। অনির্বাণ চক্রবর্তী ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস মাইন্ড, বাঙালি নয়। ঋত্বিক চক্রবর্তী হল সুমিত, ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক। ফাল্গুনীদা এমন একজন যে তার গুরুত্ব হারিয়েছে, অবহেলিত। সুহোত্র কনফিডেন্সের অভাবে ভোগে কিন্তু ব্রিলিয়ান্ট ম‌্যাথেমেটিশিয়ান। কাঞ্চন কৌশিকদার অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট। কৌশিকদা এখানে ব্রজেশ্বর, খুব স্টাবর্ন মানুষ, তার নিজের কিছু প্রেজুডিস আছে। রাহুলের চরিত্রটা খুব খেটে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। অর্জুন খুব ভালো অর্গানাইজার। কৌশিক সেন এখানে অর্থনীতিবিদ, রুথলেস এবং ঠান্ডা লজিক ও রিজনিং- এর লোক। ইমোশনের ব‌্যাপার নেই।

আপনিও কি এমন রুথলেস এবং ঠান্ডা? মিল আছে?
– আমার সঙ্গে প্রচণ্ড মিল। লজিক এবং কার্যকারণের ব‌্যাপারে আমি প্রচণ্ড ঠান্ডা। যখন তীব্র ঝগড়াও হয় আমি খুব ঠান্ডা মাথায় লজিকালি যুদ্ধটা করতে পারি।

আর প্রেমে, ঝগড়ার সময় এটা অ‌্যাডভান্টেজ দেয়। সব মনে রাখতে হয়!
– হ্যাঁ, কবে কী হয়েছিল, প্লাস তুমি এটা যে বললে, এটা কেন ভুল বললে, সেই কারণও দেখিয়ে দেব লজিক দিয়ে। প্রেমের ঝগড়ায় এটা খুব দরকার (হাসি)।

সম্প্রতি ‘আট্টম’ দেখেছি। সেখানেও আইনের আওতার বাইরে গিয়ে যৌন হয়রানির কেস নিয়ে কয়েকজন পুরুষ কথা বলছে…
– আসলে এই টেক্সটটা একটা ক্লাসিক। দেশ, কাল, সীমানা, সময়, জেন্ডার, শ্রেণি– সব কিছুর নির্বিশেষে নানাভাবে অ‌্যাডাপ্ট হয়েছে। যে কোনও সমাজের ছবি তুলে ধরা যেতে পারে এই টেক্সটের লেন্স দিয়ে।

‘এক রুকা হুয়া ফ‌য়সলা’ বা ‘টুয়েলভ অ‌্যাংরি মেন’ ছবি নারীবর্জিত। আপনার ছবিতে দুটি নারী চরিত্র রয়েছে। তাদের উপস্থিতি এই ন‌্যারেটিভের ডায়নামিক্স কীভাবে প্রভাবিত করছে?
– এখানে কৌশিক সেন এবং অনন‌্যার চরিত্র দুজন স্বামী-স্ত্রী। অন‌্যদিকে সৌরসেনীর চরিত্রের একটা ডিস্টার্বিং অতীত আছে যেটা থেকে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। আমার মনে হয়েছিল, আমাকে যদি আমার সময়ের নানা প্রেজুডিস, নানা সামাজিক ইস্যুকে ধরতে হয়, এবং দুপক্ষের যুক্তি খাড়া করতে হয়– তাহলে নারী চরিত্র রাখতেই হবে। কারণ কিছু ইস্যু জেন্ডার স্পেসিফিক।

ট্রেলারে ‘পরমব্রত’র চরিত্রটা দেখে মনে হয়েছে নারীসুলভ, এবং যতটুকু শুনেছি পরমব্রত একজন প্রান্তিক লিঙ্গ যৌনতার মানুষের চরিত্রে। এই ছবিতে প্রান্তিক লিঙ্গ যৌনতার সংযোজনের কারণ কী কেবল অলংকরণের জন‌্য না কি কুইয়ার মানুষের জীবনের রাজনীতি, ক্রাইসিসও তুলে ধরেছেন?
– অ‌্যাবসোলিউটলি। টিজারেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এগারোজন মানুষের বিরুদ্ধে যে মানুষটা দাঁড়াচ্ছে সে একজন প্রান্তিক মানুষ। প্রান্তিক লিঙ্গ যৌনতার মানুষের জীবনের লড়াই তাকে বিরুদ্ধ স্বর তোলার অভ্যেস তৈরি করে দেয়। এবং মেজরিটির চাপিয়ে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে গিয়ে সবসময়ই তাঁদের কথা বলতে হয় এবং নিজেদের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে। আর নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় কুইয়ার মানুষ সব সময়ই সংখ‌্যালঘুর দলে।

একজন কুইয়ার মানুষের চরিত্রে পরমব্রতকে কাস্ট করলেন। ঋতুদার পর মনে হয়নি, যে এই চরিত্রে একজন কুইয়ার অভিনেতাকে নেওয়া উচিত, নাকি ফেসভ‌্যালুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ?
– আমি ঋতুদার পরে সুজয়ের কথা ভেবেছিলাম। বাট সামহাউ বাকি যে অভিনেতারা রয়েছেন, সেই তালিকা
বা এখন বাংলা ছবির বাজেট এবং বাজারের কথা মাথায় রেখে, পোস্টার ফেসভ‌্যালুর কথা মাথায় রেখে আমরা পরমকে কাস্ট করব, সিদ্ধান্ত নিলাম। অ‌্যান্ড অলসো আই থিংক দ‌্যাটস দ‌্য বিউটি অফ অ‌্যাক্টিং, তুমি যা নও, তাই হয়ে ওঠো।

আপনার কাছে আলটিমেট ট্রুথ কী? 
– আছে তো, ডেথ। ডেথ ইজ দ‌্য আলটিমেট ট্রুথ।

অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা, দিল্লি, ব‌াঙ্গালোরে চাকরি, ক্রিকেট ফ‌্যান, ফিল্মমেকার, চাইলে ফুড ব্লগিংও করতে পারেন। এর মধ্যে কোনটা সত্যি সৃজিত?
– সত্যি সৃজিত হল ক্রিকেট ফ‌্যান।

ওহ! ফিল্মমেকার নয়?
– নট ইভেন ক্লোজ, ক্রিকেট তারপর মিউজিক…

কী বলছেন? ফুড লাভার তারও পরে?
– ক্রিকেট-মিউজিক-খাওয়াদাওয়া, ফিল্ম।

এটা কি সত্যি?
– সত্যি। আমি ফেঁসে গিয়েছি আসলে। আমার এত বছর ধরে ছবি বানানোর কথা ছিল না। আমি ক্রিকেট জার্নালিস্ট হতে চেয়েছি সারাজীবন। ব‌াঙ্গালোরে থাকাকালীন কালো অ‌্যাক্টিভা স্কুটার চেপে যখন ইএসপিএন-এর অফিসের পাশ দিয়ে বাড়ি যেতাম, তখন থেকে স্বপ্ন দেখেছি।

আচ্ছা, যদি সৃজিত মুখোপাধ‌্যায়কে পলিগ্রাফ টেস্ট করতে বলা হয়?
– একদম রাজি হব! সত্যি-মিথ্যে নিয়ে আমার কোনও ভয় নেই। আমার জীবনে আমি সব কিছু নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলতে পারি। সেটার জন‌্য আমাকে অনেক ঝামেলা পোয়াতে হয়েছে, কিন্তু এছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। কারণ আমার মনে হয়, এটাই আমার স্ট্রেন্থ এবং এটাই উইকনেস।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.