Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬

কাঁটাতারের ক্ষত নিয়ে বড়পর্দায় আসছে ‘৭১ ব্রোকেন লাইনস’

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানবতার কাহিনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯, ২০:২৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯, ২০:২৩

options
link
কাঁটাতারের ক্ষত নিয়ে বড়পর্দায় আসছে ‘৭১ ব্রোকেন লাইনস’ zoom
Advertisement

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত ‘৭১ ব্রোকেন লাইনস্‌’। লিখছেন সোমনাথ লাহা।

সারা পিঠ জুড়ে কাঁটাতারেরর দাগ। শরীর ক্ষত-বিক্ষত কাঁটাতারে। একলহমায় ভিটে, মাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু। তাড়া খেয়ে দেশছাড়া হয়ে রিফিউজির তকমা আঁটা, ট্রেনে, নৌকায়, নদী পেরিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে বিক্রমপুর, কুমিল্লা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ছেড়ে চলে আসা সেই সমস্ত বাঙালি মানুষজন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে পড়ে শোষিত, নিগৃহীত অসংখ্য বাঙালিকে হারাতে হয়েছিল নিজেদের ভিটেমাটি, নির্বিচারে চলা গণহত্যায় গিয়েছিল বহু গ্রামও।

Advertisement

১৯৭১-র সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ছাড়া হয়ে ভারতে পৌঁছানোর মাঝের সেই অস্থির পারাপারের দিনগুলিতে নিয়ে পরিচালক সুমন মৈত্রর ছবি ‘৭১ ব্রোকেন লাইনস্‌’। তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পারাপারের পাশাপাশি রয়েছে ভালবাসা, মানবিকতা। অন্তর আত্মার সেই সুতীব্র কাহিনির পরশ। রয়েছে সেই সময়ের রাজনীতির পরতের আভাস। প্রসঙ্গত এটি পরিচালকের দ্বিতীয় বাংলা ছবি। ইতিপূর্বে কোয়েল মল্লিক ও ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে নিয়ে ‘দশমী’-র মতো ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন সুমন। এছাড়াও আশুতোষ রানাকে নিয়ে ‘মুঠঠি ভর সপনে’ ও ‘দ্য বেস্ট সেলার’-এর মতো দুটি হিন্দি ছবিও করেছেন সুমন মৈত্র। মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে পরিচালকের আরেকটি বাংলা ছবি ‘ডিয়ার গড’।

ছবির বিষয়ভাবনার কথা মাথায় রেখেই ‘৭১ ব্রোকেন লাইনস্‌’-এ সে অর্থে কোনও তারকা কিংবা নামী শিল্পীকে নির্বাচিত করেননি পরিচালক। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন সৌরভ রায় ও লহরী চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত সৌরভ এর আগে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ছবি ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’-তে সেকেন্ড লিডে অভিনয় করার পাশাপাশি কাজ করেছেন ছোটপর্দায় ‘কাজললতা’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘আলোয় ভুবন ভরা’-র মতো মেগা ধারাবাহিকে। ছবিতে অন্যান্য চরিত্রের রয়েছেন সৌমিত্র ঘোষ, কৌশিক গোস্বামী, ধ্রুব দেবনাথ, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু চক্রবর্তী, মাম্পি পাল ও অন্যান্য শিল্পীরা। ছবির বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই থিয়েটারের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অডিশনের মাধ্যমে এই ছবির জন্য বেছে নিয়েছেন পরিচালক। এমনকী ওয়ার্কশপও করিয়েছেন তাঁদেরকে নিয়ে।

ক্যানসার অতীত, কাজে ফিরছেন সোনালি বেন্দ্রে ]

ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক দম্পতি সুধাংশু (সৌরভ) ও রাজলক্ষ্মী (লহরী)-র জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক স্বয়ং। সংগীত পরিচালনায় দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিতে রয়েছে চারটি লোকগান। প্লেব্যাকে রয়েছেন তীর্থ ভট্টাচার্য, মধুপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায়, রাজ বর্মন ও সৌমিক চট্টোপাধ্যায়। সিনেমাটোগ্রাফার রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদনায় অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। ছবির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার ঘেঁষা পুবালী গ্রামে। চিরস্‌কিউরো ফিল্মস ও সারদা কোঃ-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবির প্রযোজকদ্বয় হলেন দেবাশিস মিত্র ও সুমন মৈত্র। ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে এই ছবি।

সম্প্রতি বালিগঞ্জ-পদ্মপুকুরস্থিত একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল ছবির ফার্স্ট লুক পোস্টার ও ট্রেলার। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছবি প্রসঙ্গে প্রসেনজিতের মন্তব্য, “সুমনকে আমি বহুদিন ধরে চিনি। আমি জানি ও কোথাও গিয়ে নিজের মতো করে একটা আলাদা রকমের ছবি তৈরি করার চেষ্টা করেছে। সুমন যে বিষয় নিয়ে ছবিটা করেছে সেটা এক কথায় আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশ ভাগ, বলা যায় দেশ ভাগাভাগি নিয়ে শুধুমাত্র আমাদের দেশে নয় সারা পৃথিবীতে এরকম অজস্র সমস্যা রয়েছে। তবে মানুষ এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সেখানে দাঁড়িয়ে এইরকম ছবি তৈরি করে সুমন অত্যন্ত সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। এই ধরনের বিষয়-ভাবনা নিয়ে ছবি তৈরি হওয়াটা খুব প্রয়োজন বলে আমার মনে হয়। একজন প্রায় নতুন পরিচালক হিসাবে ও সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছে। তবে এই ছবিটিকে শুধুমাত্র থিয়েটার প্রেক্ষাগৃহে রিলিজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালেও নিয়ে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

সুমন মৈত্রর অভিমত, “এটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি প্রেমের কাহিনি। সেই সময়ের ইতিহাসকে নিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে এই ছবিটি নির্মাণ করেছি। পারাপার, দেশভাগ, গণহত্যার প্রেক্ষাপটে কীভাবে বদলে যায় এক দম্পতির জীবন। দু-বছর ধরে এই বিষয়টা নিয়ে রিসার্চ ওয়ার্কের কাজ করেছি। এটা মূলত আমার পূর্বপুরুষের গল্প।”

[পর্দায় মাও আন্দোলনের গল্প, অভিনয় করতে পারেন দেব]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.