‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’ (Lockupp 2) যেন পরিণত হয়েছে রণক্ষেত্রে। তুমুল বিতর্ক, চমকপ্রদ স্বীকারোক্তি আর নাটকীয় মুহূর্ত ঘিরে চর্চার কেন্দ্রে এই রিয়ালিটি শো। ওয়াইল্ডকার্ড প্রতিযোগী শিল্পা শিন্ডে জেলে ঢুকতেই পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে ওঠে। তর্ক-বিতর্ক আরও জোরাল হয়। গোবিন্দাপত্নী সুনীতা আহুজাকে (Sunita Ahuja) বৈবাহিকজীবন নিয়ে ‘টিপ্পনি’ কাটতেই একেবারে বিস্ফোরণ। শিল্পার অবাঞ্ছিত পরামর্শ থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সূত্রপাত। সুনীতা মুখ খুলতেই বিরাট আকার ধারণ করে। দুজনের উত্তপ্ত কথোপকথন রীতিমতো আলোড়ন ফেলে ফেলে দিয়েছে।
শোয়ে প্রবেশের পরই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন ভাবিজি ঘর পর হ্যায় খ্যাত অভিনেত্রী। দাম্পত্যজীবন, গোবিন্দার অতীতের পরকীয়া নিয়ে খোঁচা দিতেই শিল্পাকে আক্রমণ সুনীতার। বাকিটা ইতিহাস…। বিভিন্নসময় ব্যক্তিগতজীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন সুনীতা। বাদ যায়নি গোবিন্দার পরকীয়া চর্চাও। সেই অতীত ফুঁড়ে শিল্পা গোবিন্দার সমর্থনে কথা বলতেই ফুঁসে উঠলেন তারকাপত্নী। সুনীতার উদ্দেশে টেলি অভিনেত্রী শিল্পার বক্তব্য, “গোবিন্দজির অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন। আপনি কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন? কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? বুঝতে পারছেন আপনি কী বলেছেন?”
আরও পড়ুন:

স্বভাবসিদ্ধ স্পষ্টভাষী ভঙ্গিতে সুনীতা বলেন, “যখন তোমার জীবনে এমন পরিস্থিতি আসবে তখন তুমি বুঝবে। বেশি বাড়াবাড়ি করো না। নিজের সীমা লঙ্ঘন করো না।” স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক নিয়ে সুনীতার কড়া জবাব, “এটা আমার জীবন, আমার নিয়ম, আর উনি আমার স্বামী। আমি চাইলে তাঁকে বকতে পারি। তিনি যদি দশ জায়গায় সম্পর্ক তৈরি করেন তবুও আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকেই ভালোবাসব। তিনি যাই করুন সেটা আমাদের বিষয়। অন্য কারও এবিষয়ে কথা বলার অধিকার নেই।”

ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আরও বলেন, “শিল্পাকে এখানে পাঠানো হয়েছে উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য। কিন্তু যদি সীমা অতিক্রম করে তাহলে আমিও ছেড়ে কথা বলব না। আমার পরিবার নিয়ে কোনও কথা বলবেন না। উনি যদি ৫০টা সম্পর্কেও জড়িয়ে থাকেন তাতে ওর কী আসে যায়?” বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সুনীতা গোবিন্দা একাধিক নারীসঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অতীতের বক্তব্যই যে বুমেরাং হল তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
View this post on Instagram
‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’-এর প্রথম দিকের পর্বগুলিতেও স্বামীর পরকীয়া নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। গত সপ্তাহে পরকীয়া প্রসঙ্গে সুনীতার সংযোজন, “এখন আমরা এসব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলছি। কিন্তু ৪০ বছর আগে কে ভাবতে পারত? উনি একজন তারকা তাই তাঁর জীবনে অনেক সম্পর্ক এসেছে। কিন্তু আমাদের শেখানো হয়েছিল চুপ করে থাকতে। বলা হত, বিয়ের মৃত্যুর পরই একমাত্র স্বামীর ঘর ছেড়ে বেরনো সম্ভব।”

আরও বলেন, “পরকীয়া তো বরাবরই ছিল। উনি একজন নায়ক, তাই কিছু বলার সুযোগই ছিল না। এখন এই বয়সে এসব নিয়ে বেশি ভাবলে আমার ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে। তাই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। আমি আমার সন্তানদের জন্য বেঁচে আছি। কাউকে জোর করে আটকানো যায়? আমি কি সারাক্ষণ ওঁর সামনে বসে থাকতে পারি? আমাদের আলাদা দুটি বাড়ি আছে। অনেক মানুষ ওঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে, আর আমারও নিজের বাড়িতে একটু ব্যক্তিগত পরিসর দরকার।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডার্বিতে শারীরিক যুদ্ধের চেয়েও বেশি মানসিক লড়াই, মগজাস্ত্রের মহারণ নিয়ে কলম ধরলেন ব্যারেটো
-
‘ভাত-ডালের আগেই গুলি খেতে হবে’, গুন্ডাদের ‘ঠান্ডা’ করতে বারুইপুর-দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলীপের
-
তৃণমূল আমলে হয়নি কোনও সংস্কার, কোচবিহারে লরি-সমেত আস্ত সেতু ভেঙে নদীতে!
-
সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে সফর, ভাড়া লাগবে না সঙ্গীরও! রাখির উপহার যোগীর
-
জনগণনায় পিছিয়ে নবাবের জেলা, মুর্শিদাবাদে ১৩ হাজারের মধ্যে কাজ শেষ মাত্র একুশটি ইউনিটে!