২০১৮ সালে ২৫ জানুয়ারি, সেন্সরের চোখ রাঙানি ও একাধিক কাটছাটের পর প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখেছিল ‘পদ্মাবত’। চিতোরের রানি পদ্মাবতীর জহর ব্রত পালন করে আত্মবলিদানের প্রেক্ষাপটেই গল্প বুনেছিলেন পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালি। সিনেমা মুক্তির পর বনশালিকে খোলা চিঠিতে এই দৃশ্য নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বারা ভাস্কর। তাঁর মতে, যৌন লালসার শিকার হওয়ার জন্য কেন একজন নারীকে আত্মহহনের পথ বেছে নিতে নিতে হবে? এই কাহিনি তাঁর মনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল। সোমবার নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘ওম্যান লাইফ ফ্রিডম’ শীর্ষক একটি প্যানেলে সেই পুরনো ঘটনার উত্থাপন করে কটাক্ষের শিকার অভিনেত্রী।
এই দৃশ্যের নেপথ্যে স্বরার প্রশ্ন, সঞ্জয়লীলা বনশালি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে একজন ধর্ষিতা নারীর এই সমাজে বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই? ‘পদ্মাবত’-এর আর দৃশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে একজন গর্ভবতী নারীকেও জহর পালন করতে দেখানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা কি এটাই বোঝাতে চাইছেন যে গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুটিরও এই পৃথিবীর আলো দেখার অধিকার নেই? যদি কোনও মুসলিম শাসক তাকে ধর্ষণ করে সেই আশঙ্কায়?”
আরও পড়ুন:

নারী স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা টেবিলেই ‘পদ্মাবত’ প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তা বলাই বাহুল্য।এদিনের অনুষ্ঠানে স্বরা বলেন, “ঈশ্বর না করুন আমি যদি কখনও ধর্ষিতা হই তাহলে পদ্মাবত সিনেমার মতোই আমাকে কাপুরুষ এবং নিজের সম্মান বাঁচাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে? আপনারা কি আমাদের সমাজকে এটাই বলতে চান? যেখানে ধর্ষণের সমস্যা মহামারীর মতো আকার নিচ্ছে। আপনারা কি ধর্ষণের শিকার নারীদের এটাই বলতে চান যে তাঁরা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। আত্মহত্যাই সমস্যার সমাধান? ধর্ষণ মানেই একজন নারীর জীবন শেষ?”
Swara Bhaskar speaks about her letter to filmmaker Sanjay Leela Bhansali on the scene of Jauhar in the movie Padmavat pic.twitter.com/6X4Z0SvFtC
— Yeshi Seli (@YeshiSeli) August 31, 2026
আরও বলেন, “একটি শটে একজন গর্ভবতী নারীকে দেখানো হয়েছে। মনে হচ্ছে কন্যাসন্তানকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে তার জন্ম নেওয়ার অধিকার নেই। যদি কোনও মুসলিম শাসকের দ্বারা সে ধর্ষিত হয়! পাঁচ দিন অপেক্ষা করে এই চিঠিটি লিখেছিলাম। বলতে চেয়েছিলাম যে নারীরা তাদের যৌনাঙ্গের চেয়েও বেশি কিছু, কিন্তু এই সিনেমাটি দেখার পর আমার মনে হলো যেন আমার অস্তিত্ব শুধু তাদের যৌনাঙ্গের জন্যই।”
স্বরা ভাস্করের এই মন্তব্যে সোশাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিংহভাগ নেটিজেনই তাঁর মন্তব্যের বিরোধীতা করেছেন। তাঁদের মতে, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়। রাজপুত রমণীরা শুধু ধর্ষিতা হলেই আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মবলিদান দিতেন না। বরং যুদ্ধে জয়ী রাজার অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয় বলে মনে করতেন। এধরনের কঠিন পদক্ষেপ নারীদের সাহসীকতার পরিচয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অন্ধ হবে শত্রুর ‘চোখ’! চিন-পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে দিল্লিকে এস-৫০০, সু-৫৭-এর প্রস্তাব পুতিনের
-
আইপিএলের পর আর মাঠেই নেই, ফের চোটে টিম ইন্ডিয়ায় অনিশ্চিত হার্দিক, কেন এত সমস্যা?
-
‘হৃদয়ে থেকে যাবে এই ১০ নম্বর’, মেসির অবসর ঘোষণায় মন খারাপ ‘ভক্ত’ করিনার
-
হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমের জন্মই কি ভক্তের প্রকৃত সিদ্ধি! কেন পালিত হয় জন্মাষ্টমী?
-
দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছে মা-মাসির কিচেন, আরও কিছুদিন দেখা যাবে প্রিয় ‘দাদু’র হাসিমাখা মুখ!