একাধিকবার ‘তেনাদের’ দেখা পেয়েছেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’। চরম ব্যস্ততার মধ্যেও সেকথাই শেয়ার করলেন কোয়েল মুখোপাধ্যায়-এর সঙ্গে।
সম্প্রতি মুক্তি পেল ‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’। সোহম, ফিডব্যাক কেমন পাচ্ছেন?
সোহম: এখনও পর্যন্ত ভালই পাচ্ছি। ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু সিনিয়র অভিনেতা-অভিনেত্রী ছবিটি দেখেছেন। তাঁদের পছন্দ হয়েছে। নিজেরাই ফোন করে সে কথা জানিয়েছেন। তাছাড়া দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভাল পেয়েছি। প্রত্যেকেরই এক কথা। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই রকম একটা গল্প, বাংলা ছবিতে আগে হয়নি। শুধু থ্রিল নয়। তার সঙ্গে কমেডিও রয়েছে, যেটা আট থেকে আশি, সকলকেই ‘টাচ’ করছে। সকলেই পছন্দ করছেন। স্বাভাবিকভাবেই শুনে ভাল লাগছে। (হাসি) এর জন্যই তো ছবি করা! এই জন্যই তো এত কষ্ট করা!
‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’ আপনার চরিত্র অমিত সম্পর্কে কিছু বলুন।
সোহম: ও ওর বাবার ঠাকুর্দার তৈরি একটা যন্ত্র হাতে পায়, যা দিয়ে ভূতেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। এবার অমিত ভাবে, এটা দিয়ে ও ব্যবসা করবে। বন্ধুদের ডেকে নেয়। তার পর ওদের কাছে ফোন আসে। ওরা ক্লায়েন্টের বাড়ি যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে বুঝতে পারে, ওখানে যা ঘটছে, সবটাই আসল ভূতের কাণ্ড। কিন্তু তখন সেখান থেকে ওরা ফিরে আসে না। যেহেতু সাহায্য করার জন্য গিয়েছে, তাই ওরা ঠিক করে, সমস্যা থেকে মুক্তির পথ বাতলে দিয়ে তবেই ঘরে ফিরবে।
হরর কমেডি। বলিউডে এই নিয়ে ছবি হয়েছে। দক্ষিণেও হয়েছে। কিন্তু টলিউডে, বাংলা ছবিতে এই ধরনের ছবি এই প্রথম।
সোহম: একদমই তাই। দেখুন, যত দিন যাচ্ছে, দর্শকরা নতুনত্ব চাইছেন। সে জন্য প্রথমেই আমি ধন্যবাদ দেব পদ্মনাভ দাশগুপ্তকে, যিনি ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন। হর মামুর (পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী) কথা তো বলাই বাহূল্য। অসাধারণ একজন মানুষ! যে ধরনের ছবি আগে করতেন, তার থেকে পুরোপুরি ঘুরে গিয়ে এমন একটা বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করার সাহস দেখিয়েছেন। তাই ধন্যবাদ তাঁরও প্রাপ্য। এছাড়াও ক্রেডিট পাবে সুরিন্দর ফিল্মস।
হরর জঁরের মধ্যে আপনার পছন্দের ছবি কী কী?
সোহম: ‘কনজুরিং’, ‘রিং’, ‘একসরসিস্ট’। অনেক কিছুই আছে।
ভৌতিক ছবিতে আগেও অভিনয় করেছেন। ‘গল্প হলেও সত্যি’। যদিও ছবিতে ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা থাকলেও পরে জানা যায়, সেটা ‘ম্যানমেড’। এবার করলেন ‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’। এই ধরনের ছবি করতে কতটা পছন্দ করেন?
সোহম: আমার খুবই ভাল লাগে। কারণ এটা আমার পছন্দের জ্যঁর। আমি সময় পেলেই হরর মুভি দেখি। লাস্ট দেখলাম ‘অ্যানাবেল রিটার্নস হোম’। ভাল লেগেছে। আমি মনে করি, অভিনেতা হিসাবে এই ধরনের ছবি করাটাও জরুরি। কারণ, পর্দায় আপনার অভিনয়ে মানুষকে ভয়টা পাওয়াতে হবে। সেটাই চ্যালেঞ্জ। কারণ, বাংলার দর্শক ভূতকে গল্পের বইয়ে পড়তেই ভালবাসে। কিন্তু সিনেমা দেখতে অতটা পছন্দ করেন না। ভাবখানা এমন যেন, “বাংলা ছবিতে আবার ভূত!!” একটা নাক সিঁটকানো ব্যাপার আছেই, জানি। সেটাকে কাটিয়ে উঠে দর্শককে ভয় দেখিয়ে ‘স্যাটিসফাই’ করাটা কিন্তু বাড়তি দায়িত্ব। সেখানে যখন ‘গল্প হলেও সত্যি’ করেছিলাম, আমার মনে আছে, প্রিমিয়ারের দিন টুম্পাদি ছবি দেখে (সুদীপ্তা চক্রবর্তী) বলেছিল, “ভাই, আমি ওয়াশরুম যেতে পারছি না!” (হাসি) তার পর পরম (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) বলেছিল, “আমি নর্ম্যালি কোনও ছবি পুরোটা বসে দেখি না। এপাশ, ওপাশ করতে করতে দেখি। কিম্তু এই ছবিটা দেখতে বসে উঠতে পারিনি। পুরোটা বসে দেখে উঠতে হয়েছে।” এ সব শুনলে স্বাভাবিকভাবেই ভাল লাগে। এ সবই আমার পাওনা। তবে ‘ভূতচক্র প্রাইভেট লিমিটেড’-এ আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি যে এখানে ওই গা ছমছমে ভূতের ব্যাপারটা নেই। বরং কমেডির টাচ রয়েছে। এটাই নতুনত্ব। তাই, মনে হয়েছিল, এই নতুনত্বটা দর্শকের সামনে আনা উচিত।
আচ্ছা, ভূতের কথাই যখন উঠছে, তখন প্রশ্নটা উঠবেই যে সোহম ভূতে কতটা বিশ্বাস করেন বা করেন না?
সোহম: প্রচণ্ডভাবে বিশ্বাস করি।
তাই?
সোহম: হ্যাঁ।
ভূত দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে?
সোহম: হ্যাঁ। একবার নয়। দু’বার নয়। বহু বার, নানা রকমভাবে আমি ফেস করেছি। কিন্তু আমি যদি আমার এক্সপিরিয়েন্স শেয়ার করতে শুরু করি, তাহলে ওর উপরই একটা গোটা সিনেমা হয়ে যাবে! (হাসি)
বলেন কি? কী রকম? কিছু অন্তত শেয়ার করুন।
সোহম: ছোটবেলায়, আমার যে বাড়িতে জন্ম, তার সামনের রাস্তায় একদিন একটা ছায়ামূর্তি দেখেছিলাম। তার পর একদিন ব্যালকনিতে দুপুরবেলা বসে খাচ্ছি, হঠাৎ দেখি, একটা লম্বা ছায়া! তার কোনও আকার নেই, কিচ্ছু নেই। সেটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ঘাড়টা ঘোরাল। ব্যস! আমি দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম, মনে আছে! এগুলো সব ছোটবেলার ঘটনা। বড়বেলায় শুটিং করতে গিয়ে পুরুলিয়ায় ভৌতিক অভিজ্ঞতা হয়েছে। রিসেন্টলিও হয়েছে। কিছু দেখিনি, কিন্তু অনুভব করতে পেরেছি। যে ঘরে ছিলাম, কোত্থাও কিছু নেই! রাতের বেলা অকারণে ধুপ-ধাপ, ধুপ-ধাপ শব্দ। দরজা খুলে দেখি, কোথাও কিছু নেই। কেউ নেই। সব ফাঁকা, শুনশান। তাহলে শব্দ করছে কে? তাছাড়াও ঘরটাতে ঢোকামাত্রই মাথাটা প্রচণ্ড ভারী হয়ে গিয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম, সমস্যা আছে। আসলে এটা আমি সেন্স করতে পারি। কোথাও কোনও নেগেটিভ এনার্জি থাকলে আমি বুঝতে পারি।
সেই মুহূর্তে কী করেন?
সোহম: কিচ্ছু করার নেই! কী করব? ভয় পেলেও মাথা ঠান্ডা রাখি। কখনও কখনও গায়ত্রী মন্ত্র জপ করি। তবে এতবার এনকাউন্টার হয়েছে, তবু কখনও হুড়োহুড়ি করিনি, অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাইনি। এখন মনে হয়, এতবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে যে খানিকটা ইউজড টু হয়ে গিয়েছি। (হাসি)
রাজনীতিতে আছেন। অভিনয়েও। দুটো ভিন্ন মেরুর কাজ, একসঙ্গে সামলান কীভাবে? পরিবারকে সময় দেন কখন?
সোহম: সময় বের করে নিতে হয়! এটা ঠিক যে, তা করতে গিয়ে ফ্যামিলি টাইমটা খুব কমে গিয়েছে। তবুও যতটুকু সময় পাই, পরিবারকে দেওয়ার চেষ্টা করি। সেটা সম্ভব হয়েছে আমাদের ‘দিদি’র (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জন্য। আর আমি ধন্যবাদ জানাব অভিষেককে (সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)। ওঁরা আমায় খুব স্পেস দেয়। কিছু কিছু মিটিংয়ে থাকতে পারি না। ও আশ্বস্ত করে যে, ঠিক আছে। না গেলেও চলবে।
আর তনয়া? (স্ত্রী তনয়া চক্রবর্তী) তাঁর কোনও অভিযোগ নেই?
সোহম: মাঝে মধ্যে করে। (হাসি) এটা হচ্ছে না, ওটা করছ না! (হাসি) আমি চেষ্টা করি, সময় দেওয়ার।
আর আপনার দুই খুদে?
সোহম: বড়টা এখন কথা বলে। (হাসি) বলে, পাপা কোথায় যাচ্ছো? তার পর বলে, শুটিং? শুটিং? ছোটটার এখনও কথা ফোটেনি! বাড়িতে থাকলে আমার পুরো সময়টাই ওদের দিই।
সম্প্রতি ইসকনে রথের অনুষ্ঠানে সপুত্র শামিল হয়েছিলেন…
সোহম: হ্যাঁ। ভাল লেগেছে। জগন্নাথদেবের কাছে চেয়েছি, যেন জগন্নাথদেব সবাইকে শুভ বুদ্ধি দেয়। যে যে ধর্মেরই হোক না কেন, সবার ভাল হয়! সবাই মিলে একসঙ্গে এই সমাজে ভালভাবে যেন থাকতে পারে। বিপদ হোক বা আনন্দ, আমরা সবাই মিলে যাতে একসঙ্গে, হাত ধরাধরি করে থাকতে পারি।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার