“একলা ঘর আমার দেশ… একলা থাকার অভ্যেস” চারপাশের বহু মানুষের জীবনের সংজ্ঞাটা আজকাল বোধহয় খানিকটা এরকমই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ড্রিমগার্ল’-এর ক্ষেত্রেও এই লাইনদুটি বেশ প্রাসঙ্গিক। কীভাবে? লিখছেন সন্দীপ্তা ভঞ্জ।
ছবি- ড্রিমগার্ল
অভিনয়- আয়ুষ্মান খুরানা, নুসরত বরুচা, অনু কাপুর, বিজয় রাজ
পরিচালনায়- রাজ শাণ্ডিল্য
আজকের দিনে যেখানে দুরন্ত গতিতে সময় ছুটছে, ছুটে চলেছে গোটা বিশ্ব, আমাদের কারওরই কারও জন্য এক লহমা সময় নেই। নেই কথা কওয়ার, মনের ঝাঁপি খোলার লোক, আমরা বড় একা! ফেসবুক, টুইটার যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ গুঁজে এক অন্য জগতে বিচরণ করি আমরা।
হাজার হাজার বন্ধু-অনুরাগীদের সংখ্যা থাকলেও দিনের শেষে কিন্তু বড় একলা হয়ে গিয়েছি আমরা সবাই। সময়ের সঙ্গে মেশিনের মতো ছুটে চলেছি। চারিদিকে শুধু ভাল থাকার অভিনয়। কলেজ, অফিসের বন্ধু তো অনেক রয়েছে, কিন্তু এমন মানুষ কোথায়, যার কাছে মনের সবটা খুলব? যার কাছে উজার করে দেব মনের গহীনে থাকা অন্ধকার দিকগুলিও? সত্যিই কি এরকম কেউ রয়েছে? একটু ভাবুন তো! আর সেই একলা মানুষগুলোই কিন্তু প্রযুক্তির ফাঁদে অচেনা-অজানা কাউকে নিয়ে কখনও ফোনালাপে ব্যস্ত হয়েছে। কিংবা না জেনেই তাকে নিজের সবটা ভেবে ফেলেছে। সেটা যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, ঠিক সেরকমই একটা বিষয় নিয়ে আয়ুষ্মান খুরানার ‘ড্রিমগার্ল’।

ওয়ান ম্যান শো
ভাল চিত্রনাট্য যে কীভাবে একটা সিনেমাকে সামাজিক বার্তা বাহক হিসেবে তুলে ধরতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ‘ড্রিমগার্ল’ ছবির কথা বলা যেতেই পারে। মজার সংলাপ। বিনোদনের মাঝেও এই ছবি আপনাকে মানুষের একলা জগতের অন্য দিকগুলির সঙ্গে পরিচয় করাবে। এটা ‘ওয়ান ম্যান শো’, কারণটা নিশ্চয় আয়ুষ্মান। তবে, আয়ুষ্মানের বাবার ভূমিকায় অনু কাপুরের পারফরম্যান্সও চোখে পড়ার মতো। এর আগে ‘ভিকি ডোনার’ ছবিতেও আয়ুষ্মান-অনু জুটির ম্যাজিক দেখেছিলাম। এবার ‘ড্রিমগার্ল’-এও তার অন্যথা হয়নি। আয়ুষ্মানের বিপরীতে নুসরত বরুচাও বেশ সাবলীল।

কী ভাল লাগলো?
‘ড্রিমগার্ল’ -এর প্রেমে পাগল ফোনের ওপারের প্রেমিকরা। বিবাহিত পুরুষরাও সেই একাকীত্বে ভুগে আশ্রয় নিয়েছে এক কাল্পনিক চরিত্রের, যে তার ড্রিমগার্ল। মজার কাণ্ডকারখানার মাঝেই সেই একাকীত্ব তাড়া করে বেড়াচ্ছে পুরো ছবি জুড়ে। আর শুধু পুরুষই কেন, মহিলারাও কতটা একা হলে সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন, সেই ছবিও দেখাবে ‘ড্রিমগার্ল’।
কী ভাল লাগলো না?
‘ড্রিমগার্ল’-এর প্রেমে পাগল প্রেমিকদের ছোঁটাছুটিটা মাঝে মধ্যে খুব একঘেয়ে। হঠাৎ করে মেয়েলি হাবভাবের একটি ছেলের পুরোদস্তুর প্রেমিক হয়ে ওঠাটা বড্ড চোখে লাগল।
সর্বশেষ খবর
-
আরও ভাঙন মমতা শিবিরে! ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে পা বাড়িয়ে দলের পদ ছাড়লেন মোশারফ হোসেন
-
নেদারল্যান্ডসের ‘পঞ্চবাণে’ বধ সুইডেন! ব্রাজিলের রেকর্ড ভেঙে কোচের হুঙ্কার, ‘অন্যরাও বুঝবে’
-
সুরক্ষা চেয়ে হাই কোর্টে মিমি, জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে নয়া মোড়
-
সন্ন্যাসীদের শরীরচর্চা, ভক্ত সমাগমে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পালিত যোগ দিবস
-
মহশূন্যেও বিশ্বকাপ-জ্বর! স্পেস স্টেশনে ফুটবল সম্ভব? ট্রাইওন্ডা পেয়েই শুরু গবেষণা