BREAKING NEWS

৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০ 

Advertisement

চেনা ছকের বাইরে যেতে পারল আবির-রুক্মিণীর ‘সুইৎজারল্যান্ড’? পড়ুন ফিল্ম রিভিউ

Published by: Suparna Majumder |    Posted: November 13, 2020 10:53 pm|    Updated: November 14, 2020 10:10 pm

An Images

নির্মল ধর: বেশ কয়েক বছর ধরেই নায়ক জিৎ তাঁর নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে অ্যাকশন, কমেডির মিশেলে বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি তৈরি করছেন। এই প্রথম ব্যতিক্রম ঘটল। ঘটালেন তরুণ পরিচালক সৌভিক কুণ্ডু। হ্যাঁ, অবশ্যই প্রযোজক জিতের সায় না থাকলে এমনটি সম্ভব হত না। সৌভিক প্রথম ছবিতেই বুঝিয়ে দিলেন বাঙালিয়ানার উপাদান দিয়েও একটা পরিচ্ছন্ন আনন্দ দর্শকদের উপহার দেওয়া যায়।

‘সুইৎজারল্যান্ড’ (Switzerland film) সেই পুরনো ঘরানার ছবি, যেখানে মধ্যবিত্ত একটি সংসারের পরিমণ্ডলের মধ্যেও মানবিক আবেদন, সহমর্মিতা, স্বপ্ন, স্বপ্নপূরণের তাগিদ থাকে। যেখানে একদিকে যেমন স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মধ্যে একে অপরকে লুকিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা চলে, তেমনই বাস্তবিকতার দাবিতে কখনও ভুল বোঝাবুঝি আবার কখনও সমঝোতা হয়ে যায়। গল্পে রুমি (রুক্মিণী মৈত্র) ও বেলডাঙার ‘তারকাটা’ শিবু (আবির চট্টোপাধ্যায়) তাদের রিয়া ও দিয়া নামের দু’টি ফুটফুটে সন্তান নিয়ে সুখি দম্পতি। সংসারে ঝামেলা নেই, নেই অশান্তি। এমনটা বেশিক্ষণ টেকে না। অশান্তির সূত্রপাত হয়েই যায় পারিবারিক গেট টুগেদারে। আচমকাই স্বামীর সম্মান রাখতে রুমি কিছু মিথ্যে বলে। পালটা দিতে শিবুও বলে ফেলে তারা খুব শিগগিরি বেড়াতে যাচ্ছে সুইৎজারল্যান্ড। যারা এর আগে ‘দিপুদা’ অর্থাৎ দীঘা, পুরী কিংবা নিদেনপক্ষে দার্জিলিং পর্যন্তও গিয়ে উঠতে পারেনি, তারা কিনা যাবে সুইৎজারল্যান্ড। ব্যস, এবার স্বপ্নের সেই স্বর্গীয় ইউরোপ দেখার জন্য রেস্ত জোগাড় করতে হিমশিম অবস্থা মধ্যবিত্ত শিবুর। নাটক জমে ওঠে বেড়ানোর টাকা জোগাড় করতে শিবু বাড়তি রোজগারে বাধ্য হলে। 

[আরও পড়ুন: ‘লক্ষ্মী’র সাজে আদৌ কি দর্শকদের মন জয় করতে পারলেন অক্ষয়? পড়ুন ফিল্ম রিভিউ]

সম্ভবত মধুরেণ সমাপয়েত শব্দবন্ধে আটকে গিয়েছিল সৌভিকের চিত্রনাট্য, কিংবা প্রযোজকও তেমনটি চেয়েও থাকতে পারেন! সুতরাং ছবির শেষ ১৫ মিনিট যেন বাড়তি লেজুরের মত। অপ্রয়োজনীয়! প্রায় সারা ছবি জুড়ে অসাধারণ কিছু সুন্দর মুহূর্ত রয়েছে। তা সে রোমান্টিক খুনসুটি হোক, বা সংসারিক টানাপোড়েন, বাচ্চাদের নিয়ে ঘনিষ্ট স্নেহ মাখানো পরিবেশ তৈরি, বা অফিস কর্মী খোকনের সঙ্গে জুয়া খেলতে যাওয়া – সব জায়গাতেই সৌভিক খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। বেশ ভাল লাগে, রুমিদের ফ্ল্যাটের সামনের ফুটপাতে একটি ছোট্ট পরিবারের অসামান্য উপস্থিতি। অথচ সেই পরিচালক একটু সংযত হতে পারলেন না! ছবির পরতে পরতে মানবিক আবেদনের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েও তিনি এই ভুলটি করলেন। আশা করব, ভবিষ্যতে তিনি সাবধান হবেন। বাণিজ্যিক হওয়া মানেই সমঝোতা নয়!

ছবির কারিগরি বিভাগও যথেষ্ট দক্ষতার ছাপ রেখেছে। ক্যামেরা, আবহ, সুন্দর গানের প্লেসিং, সম্পাদনার কাজ বেশ ঝলমলে। যেমন শিল্পীদের অভিনয়ও। প্রথম নাম অবশ্যই রুমির চরিত্রে রুক্মিণীর (Rukmini Maitra)। সত্যি বলতে তিনিই ছবির প্রাণ। কী স্বাভাবিক, স্বচ্ছন্দ তাঁর চরিত্রায়ণ। রুক্মিণীর ঘরোয়া ইমেজটি চরিত্রের সঙ্গে সুন্দর মিশে গেছে। এপর্যন্ত তিনি যেক’টি ছবি করেছেন, রুমি তাঁর সেরা। তারকাটা শিবু অর্থাৎ আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee) মধ্যবিত্ত তরুণের মেজাজটাই এনেছেন স্বাভাবিক অভিনয়ে। আর আছেন প্রতিবেশী বৃদ্ধর চরিত্রে প্রবীণ অরুণ মুখোপাধ্যায়। পুরনো চাল এখনও বেশ সুগন্ধী! অম্বরীশ ধীরে ধীরে নায়কের ল্যাংবোট হয়ে উঠছেন আগেকার অনুপকুমার, শুভাশিস, কাঞ্চনের মত। তবে ওঁর গানের গলাটি কেউ ব্যবহার করছেন না কেন বুঝতে পারছি না। তবুও বলব, ‘সুইজারল্যান্ড’ বাংলা ছবির চলতি বাণিজ্যিক ফর্মুলায় অনেক দিক থেকেই ব্যতিক্রম। পুরো ব্যতিক্রম হতে হতেও হল না।

[আরও পড়ুন: অতীতের আগুনে কতটা ঘৃতাহুতি দিতে পারল ‘আশ্রম চ্যাপ্টার ২’? পড়ুন রিভিউ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement