Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Khakee: The Bengal Chapter review

জিৎ-প্রসেনজিতের দুরন্ত দ্বৈরথ, ডন-প্রশাসনের আঁতাঁতে সিস্টেমের কঙ্কালসার চেহারা দেখাল ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’

কতটা জমল খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার? পড়ুন রিভিউ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২১, ২০২৫, ২০:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২১, ২০২৫, ২০:০৯

options
link
জিৎ-প্রসেনজিতের দুরন্ত দ্বৈরথ, ডন-প্রশাসনের আঁতাঁতে সিস্টেমের কঙ্কালসার চেহারা দেখাল ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ zoom

সন্দীপ্তা ভঞ্জ: ২০০০ সাল। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে ফুটন্ত বাংলা। ঘুণ ধরে যাওয়া সিস্টেমের অন্দরে বহাল তবিয়তে লালিত গ্যাংস্টারদের দৌড়াত্ম্য। এরকমই এক প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’। রক্তের ফোয়ারা ছুটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠা ‘অ-সামাজিক দত্যি-দানো’র কর্মকাণ্ড দেখলে শিরদাড়া দিয়ে হিমস্রোত বয়ে যেতে বাধ্য! ‘এক অউর রং ভি দেখিয়ে ইয়ে বাঙ্গাল কা’, উন্মাদনার পারদ চড়িয়ে টিজার-ট্রেলারে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন নির্মাতারা। সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে হতাশ করেনি ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’। দীর্ঘদিন বাদে বাংলার প্রেক্ষাপটে এহেন রগরগে রাজনৈতিক থ্রিলার মুক্তি পেল। উল্লেখ্য, নির্মাতারা বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সময়কাল নির্বাচন করেছেন। 

পুলিশ প্রশাসন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনদের আঁতাঁতের কাহিনি পর্দায় এই প্রথম নয়। কিংবা পুলিশ-গ্যাংস্টার ইঁদুরদৌড়ও নতুনত্ব নয় দর্শকদের কাছে। তবে সৃষ্টিকর্তা নীরজ পাণ্ডে বাংলার তারকাদের সঙ্গী করে এমন কিছু টুইস্ট রেখে গল্প সাজিয়েছেন, যা দেখতে শুরু করলে মাঝপথে থামানো খুব মুশকিল। প্রশাসনের সঙ্গে অন্ধকার জগতের আঁতাঁত, রাজনৈতিক স্বার্থে ভোটব্যাঙ্ক লুটে নেওয়ার ষড়যন্ত্র থেকে বিরোধী শিবিরের আতসকাচে থাকা সরকারের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ পরিস্থিতি, একাধিক প্লটের গাঁথুনি পোক্ত ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ সিরিজে। নেপথ্যের কারিগর হিসেবে অবশ্যই প্রথম বাহবা প্রাপ্য গবেষকের। পেশায় সাংবাদিক সুরবেক বিশ্বাস সিস্টেমের খোলনলচের সঙ্গে ভালোই পরিচিত। অতঃপর অপরাধ জগতের সঙ্গে প্রশাসনের আঁতাঁতের গল্প সাজানোর যথাযোগ্য উপকরণ সাপ্লাই করেছেন তিনি। যা দিয়ে নিপুণভাবে চিত্রনাট্য বুনেছেন নীরজ পাণ্ডে, দেবাত্মা মণ্ডল এবং সম্রাট চক্রবর্তী। নির্মেদ, সুঠাম গল্প বিন্যাসের জন্য ফুলমার্কস বসানোই যায় তাঁদের মার্কশিটে। বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রগরগে থ্রিলার বেশ সাবলীলভাবেই পরিচালনা করেছেন দেবাত্মা মণ্ডল এবং তুষারকান্তি রায়।

Advertisement

Jeet, Prosenjit starrer Khakee: The Bengal Chapter trailer release

প্লট কীরকম? কলকাতার বুকে একটা ভুল কিডন্যাপেই নেতামন্ত্রীদের টিকিতে টান পড়ে! শহর থেকে একের পর এক মানুষ উধাও। অথচ, প্রশাসন চুপ। সময়ের সঙ্গে সেসব কেসফাইলে ধুলোর আস্তরণ পড়লেও নিখোঁজ মানুষদের হদিশ পাওয়া যায় না। বলা ভালো, ইচ্ছে করেই সেসব মামলার নিষ্পত্তি নিষ্প্রয়োজন। কারণ উধাও হয়ে যাওয়া মানুষদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এমনকী হাড়গোড় বিদেশে পাচার করে পার্টি ফান্ড ফুলেফেঁপে ওঠে। কারণ ভোটে জিতে সিংহাসন ধরে রাখতে হলে ‘মাল খসানো’র প্রয়োজন। তেমনই এক কেসের কিনারা করতে গিয়ে বড়সড় ‘টিপ’ পান পুলিশ অফিসার সপ্তর্ষি সিনহা (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)। ক্নিন ইমেজ। সৎ পুলিশ অফিসার। ষড়যন্ত্রের পেটে পুড়ে নিকেশ করা সহজ। ওদিকে প্রশাসনের মদতপুষ্ট ডন বাঘার দৌড়াত্ম্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় ডকের ব্যবসায়ীদের। সমাজের চোখে সে ভিলেন হলেও তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ রয়েছেন। বিশ্বাসে গরমিল দেখলেই এককোপে ধর-মাথা আলাদা করে পটু বাঘা। সাগর আর রঞ্জিত তার ডান হাত আর বাঁ হাত। দুই কুখ্যাত তরুণের কীর্তিতে কম্পন ধরে প্রশাসনের উচ্চস্তরেও। এখান থেকেই মোড় নেয় গল্প। পিঁয়াজের স্তরের মতো এক এক করে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। এদিকে সপ্তর্ষির মৃত্যুর পর উপরমহল থেকে ডাক পড়ে এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অর্জুন মৈত্রর। সে সপ্তর্ষির মতো সৎ হলেও রাজনীতিকদের দাবার চালে চলতে নারাজ। সিস্টেমের মেরুদণ্ডে টোকা দিতে আরও একধাপ বেড়ে খেলে সে। কীভাবে নিজের কার্যসিদ্ধি হয় অর্জুনের? সেই গল্প এই পরিসরে না ভাঙাই ভালো।

‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এ মোট ৭টি পর্ব। একেকটির দৈর্ঘ্য ৪০ মিনিটেরও বেশি। কিন্তু গোটা সিরিজ দেখতে বসলে কোথাও একঘেয়ে মনে হয় না। রগরগে সংলাপ, মারকাটারি সব অ্যাকশন সিকোয়েন্স, টানটান নির্মেদ চিত্রনাট্যে ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ এককথায় ‘পয়সা উসুল’। এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। ঠান্ডা মাথার রাজনীতিকের ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শুরু থেকে শেষ অবধি প্রকৃত অর্থেই রঙের উদযাপন করেছেন ‘গিরগিটি’ বরুণ রায়ের চরিত্রে। প্রৌঢ় মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রে শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় যথাযথ। দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে জিৎ এককথায় অসাধারণ। বাঙালি দর্শকরা নতুন করে তাঁকে আবিষ্কার করার সুযোগ পাবে এই সিরিজে। ডন বাঘার ভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর দুই সাগরেদের চরিত্রে ঋত্বিক ভৌমিক, আদিল জাফর খানের কীর্তিকলাপ দেখলে শিউরে উঠবেন দুর্বল চিত্তের দর্শকরা। পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি পরা বিরোধী দলনেত্রী নিবেদিতা বসাকের ভূমিকায় চিত্রাঙ্গদা সিংকে খুব একটা মনে ধরল না। অবশ্য চিত্রনাট্য মাফিক যথাযথ। তবে ‘সিম্ফনি’র মতো একসুরে মুগ্ধ করে সকলের পারফরম্যান্স।

‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’ ‘খুব যত্ন করে’ উলঙ্গ করেছে আইন, প্রশাসন এবং অন্ধকার জগতের আঁতাঁতকে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে পকেটে পয়সা না থাকলে তুমি চুনোপুঁটি। ঠান্ডা ঘরে বসে তোমার মতো চুনোপুঁটিকে অনায়াসেই পদতলে পিষে ফেলার ছক কষা যায়। এই সিরিজ আবারও মনে করিয়ে দিল ‘জোর যার মুলুক তার’। তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক পরিকাঠামোর কঙ্কালসার রূপ তুলে ধরেছে এই ওয়েব সিরিজ। কোন পরিস্থিতিতে মানুষ অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, সেই মনস্তত্বের সঙ্গেও পরিচয় করাবে দর্শকদের ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’।

লোকেশন হিসেবে কলকাতা ভারতীয় বিনোদুনিয়ার পাশাপাশি পশ্চিমী পর্দাতেও উঠে এসেছে অতীতে। তবে নীরজ পাণ্ডের সিরিজে পাখির চোখে কলকাতাকে যেভাবে আবিষ্কার করা হল, তার জন্য সত্যিই বাহবা প্রাপ্য। সে ভিক্টোরিয়া, ট্রাম ডিপো হোক বা উত্তর কলকাতার অলিগলি, সবেতেই যেন তিলোত্তমার অন্য আঙ্গিক দেখা গেল এই সিরিজে। যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে ঘায়েল প্রজন্মের পর প্রজন্ম, তার সামনে পুলিশ অফিসারের রক্তাক্ত, কোপানো শরীর দেখে গা শিউরে উঠতে বাধ্য। নজর কেড়েছে বন্দর অঞ্চলের চেজিং সিকোয়েন্সের ট্রিটমেন্ট দেখতে দিব্যি লাগে। বলা ভালো, প্রতিটা পর্বের দৈর্ঘ্য দীর্ঘ হলেও রুদ্ধশ্বাসে দেখে ফেলা যায় ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.