Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Amar Sangi Review

বিক্রম-সোহিনীর ‘অমর সঙ্গী’ কতটা জমল? পড়ুন রিভিউ

ভূত আর মানুষের সহবাসের গল্প দেখার আগে ঝটপট পড়ে ফেলুন রিভিউ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৫, ১৪:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৫, ১৪:৫৬

options
link
বিক্রম-সোহিনীর ‘অমর সঙ্গী’ কতটা জমল? পড়ুন রিভিউ zoom

শম্পালী মৌলিক: নিঝুম দুপুরে বাড়িতে থাকলে এখন কোকিলের ডাক শোনা যাচ্ছে। শীত ফুরিয়ে বসন্ত প্রায় এসে গেছে। মনকেমনের ফেব্রুয়ারি সামনে। বাঙালির সরস্বতী পুজোর তোড়জোড় চলছে। তেমন সময়েই মুক্তি পেয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ‌্যায়, সোহিনী সরকার অভিনীত ‘অমর সঙ্গী’। আদ্যোপান্ত প্রেমের ছবি হলেও হরর-কমেডি বলা যায়। গা ছমছম না করলেও, এই অবিশ্বাস‌্য প্রেমের ছবিটা দেখতে ভালো লাগে।

সোহিনী-বিক্রম এই প্রথমবার রোমান্টিক জুটি হিসাবে, তাঁদের মানিয়েছে বেশ। ছবির পরিচালক দিব‌্য চট্টোপাধ‌্যায়। যিনি এর আগে হিন্দি সিরিজ লিখেছেন, যেটি ছিল ডার্ক কমেডি। ফলে এই জনারে পরিচালকের দক্ষতা রয়েছে। ছবির গল্প অরিত্র সেনগুপ্ত আর দিব‌্য যৌথভাবে লিখেছেন। হিন্দি বা ইংরেজিতে এই ধরনের ছবি হয়েছে, যেমন- ‘ঘোস্ট’-এর কথা মনে পড়বে। এতদিনে অনেকেই জেনে গিয়েছেন, ছেলেটা প্রেমে পড়েছে এমন একটা মেয়ের, যে মারা গিয়েছে। অর্থাৎ ভূত আর মানুষের প্রেম। তাহলে এর পরিণতি কী? ভালোবেসে কতদূর যাওয়া যায়? গল্পটা কেমন? অনুরাগ (বিক্রম) আর জয়ীর (সোহিনী) ছোটবেলার প্রেম। সেই ক্লাস ফাইভ থেকে তারা সোল মেটস। বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে তাদের। থাকার জন‌্য নতুন বাড়িও কিনে ফেলেছে। এমন সময় হার্ট অ‌্যাটাকে মারা যায় জয়ী। তাহলে উপায়? জয়ী এই ছেলেটার চুল ধরে টেনেছে, তুমুল ঝগড়া করেছে, তবুও দু’দিন না দেখতে পেলে, ছেলে কাঁদতে বসত। তাকে ছেড়ে থাকা যায়? মরে গিয়েও ফেরত এল জয়ী অনুরাগের কাছে। শুরু হল ভূত আর মানুষের সহবাস।

Advertisement

ভালোবাসার সুপার পাওয়ারের জোরে কেবল ছেলেটাই মেয়েটাকে দেখতে পায়। শুরুতে ছেলেটা ভয়ে চমকে গেলেও, ক্রমে মানিয়ে নেয়। বুঝতে পারে জীবনের বোনাস রাউন্ড চলছে। ‘শরীরী হোক বা অশরীরী, প্রেমটা আমি তোর সঙ্গেই করব’, এমন আদুরে কিছু সংলাপ ছবিজুড়ে। কিন্তু কতদিন? ছুঁলে তো সে একরাশ হাওয়া! অতএব ছেলেটা দৌড়য় কখনও সাধকের কাছে, তান্ত্রিকের কাছে, কখনও বা অকাল্ট বিশেষজ্ঞের কাছে। পড়তে থাকে ভূত নিয়ে নানারকম বই। লেখক ছেলেটা আগে প্রেমের গল্প লিখত, এখন ভূতের সঙ্গে ভালোবাসার গল্প লিখতে চায়। মরণের পরে কী- মাথা খুঁড়ে খায় তার। মাঝে মাঝে ছোট ছোট ভালোলাগা আসে না তার জীবনে এমনটা নয়। কিন্তু কমবয়সের অতৃপ্ত প্রেম যে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে তাকে। আর বসন্ত বাতাসের মতো সেই প্রেমিকাকে ভুলবেই বা কী করে! এ মেয়ে যেমন কথা বলে, তেমন অধিকার করে থাকে স্পর্শ ব‌্যতিরেকে! না থেকেও রয়েছে সবটা জুড়ে। ছেলে অন‌্য প্রেমে মন দিতেই পারে না। একজন বিশেষজ্ঞের (কিউ) কাছে জানতে পারে প্রিয়জন ভূত হয়ে কখন আসে। হয় সাংঘাতিক সংকটের পরে, নয়তো বড় বিপদের আগে। বন্ধুবান্ধব, সম্ভাবনাময় প্রেমিকা, মা-বাবা, ‘উড বি’ শ্বশুর-শাশুড়ি, সবার অগোচরে ছেলেটা আর তার অশরীরী গার্লফ্রেন্ডের প্রেম আশ্চর্য উড়ান নেয়। কিন্তু কতদিন? শেষপর্যন্ত জীবন জিজ্ঞেস করে ‘কার মিলন চাওল বিরহী?’ উত্তরের জন‌্য ছবিটা দেখতে হবে।

অনুরাগের (বিক্রম) বন্ধুর চরিত্রে শ্রীমা ভট্টাচার্য আর অনিরুদ্ধ গুপ্ত মানানসই। এক প্রতিশ্রুত প্রেমিকার চরিত্রে দিব‌্যাশা দাস যথাসাধ‌্য করেছেন। বিক্রম একাগ্র প্রেমিকের চরিত্রে খুব সুন্দর। তবে ভূত দেখে ভয় পাওয়ার দৃশ‌্যগুলো আরও সাবলীলতার দাবি রাখে। বড় ব‌্যানারের ছাতা ছাড়াই বিক্রম কিন্তু লড়ে যাচ্ছেন। এ জন‌্য প্রশংসা প্রাপ‌্য তাঁর। নাছোড়, মায়াবী প্রেমিকার চরিত্রে সোহিনী এতই এফর্টলেস, তিনি স্ক্রিনে এলে ব্লটিং পেপারের মতো দর্শকের মনোযোগ শুষে নেন। তাঁর কথা বলার ধরন, হাওয়ায় ভাসানো আদর-রাগ, ব‌্যথা, সবটা মিলিয়ে তাঁর চরিত্রে বিশ্বাসযোগ‌্যতা এনে দিয়েছে। ছবির গানগুলো শুনতে ভালোই লাগে। বিশেষ উল্লেখ‌্য, অর্কপ্রভ মুখোপাধ‌্যায়ের গাওয়া ‘কী আর বলব আমি’, দৃশ‌্যায়নও ভীষণ সুন্দর। ঋষি চন্দ আর অভীকের গাওয়া ‘মণিহারা’ গানটাও বেশ ভালো। শেষ দিকে জয়ীর মুখে একটা সংলাপ মনে থেকে যায়– ‘আমার যেটুকু ভালোবাসার কোটা তোকে সব দিয়ে দিয়েছি’। তবে কিছু ত্রুটি উপেক্ষা করা যায় না। পার্শ্বচরিত্রদের অভিনয় বেশ দুর্বল। কিছু দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ছবির গতি মন্থর করেছে। আর কন‌্যাহারা বাবা-মায়ের শোক এত তাড়াতাড়ি চলে যায়? বেশ কয়েকটি ক‌্যামিও চরিত্রে চমক রয়েছে। যেমন কিউ, মধুমিতা, অঙ্কুশ, অঙ্গনা, তথাগত, বিবৃতি, অনুরাধা, ছোট ছোট যতিচিহ্নের মতো উজ্জ্বল। ডিওপি অভিমন‌্যু সেনগুপ্তর কাজ বেশ ভালো। ভায়োলেন্স মুখর ছবির ভিড়ে এই ছবিটা আদতে নরম প্রেমের। দেখতে দেখতে মনে হয় সিনেমায় এমন আজগুবি হয়, জীবনে কি হতে পারে না? প্রেমে যাঁদের বিশ্বাস চলে গিয়েছে তাঁদেরও ছবিটা দেখতে দেখতে মনকেমন করবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.