হামি-র হিরো। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নন্দিতা রায়ের সিনেমার মতোই ব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাও এখন তুঙ্গে। টলিপাড়ার খুদে মিনি-স্টার সে। খেতে বেজায় ভালবাসে। সেই সঙ্গে হরেক কাজে মন ভোলাতে ওস্তাদ। ব্রতর সঙ্গেই খানিকটা সময় কাটানো মানেই হাজারও অভিজ্ঞতা। সে সবই ভাগ করে নিলেন শম্পালী মৌলিক। ছবি- সুব্রত কুমার মণ্ডল।
ইটিং আউট উইথ ভুটু ভাইজান!
সে কী চাট্টিখানি কথা নাকি? ভাইজানের আবার ফটর ফটর ইংলিশ একদম না পসন্দ। কথায় কথায় শুনিয়ে দেয়–“যে ভাষায় মাকে প্রথম ডেকেছি, সে ভাষা আমার দেবতা। আরও আছে। এখন এইটুকু বলছি।”
গড়িয়াহাটের ফুটপাথ ধরে ‘ভাইজান’-এর সঙ্গে হেঁটে আসা – সে এক পিলে চমকানো অভিজ্ঞতা! তার বাহুবলী টি-শার্ট ধরে কেউ ডাকছে, “মহারাজ একটা কবিতা শুনিয়ে যাও প্লিজ”। কেউ হাত ধরে অনুরোধ করছে “ভুটু, একটা সেলফি, প্লিজ”, কেউ বা একটা সংলাপ শোনার জন্য ভাইজানের পিছুই নিয়ে নিল। হ্যাঁ, ইনি হচ্ছেন ব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ওরফে ভুটু ভাইজান। এই মুহূর্তের বাংলার সবচেয়ে বড় মিনি-স্টার।

ডেস্টিনেশন আমিনিয়া
জানতাম ব্রত বিরিয়ানি, মিষ্টি, লুচি ভালবাসে। অতএব গোলপার্ক-এর ‘আমিনিয়া’ আমাদের প্রথম স্টপেজ। কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উপরের এসি ফ্লোরে উঠেই ব্রত বসে পড়ল চেয়ার-টেবিলে। বোঝা গেল একটু হলেও ক্লান্ত। সেলিব্রিটি যখন, ভক্তদের হ্যাপা তো পোয়াতেই হবে। সে কি আর পাঠভবনের ক্লাস টু-র কচি বাচ্চা বোঝে? বসে একটু জিরিয়ে নিয়েই, মুহূর্তে সে আবার চনমনে। “জানো তো, গড়িয়াহাট থেকে আমার বাড়ি এক মিনিট। এই বাড়িতে সবাই থাকে। মানে সব্বাই। মানে বুঝতে পারছ তো, দাদু-দিদা-আরও অনেকে। আমি বাবা আর মামার সঙ্গে মারপিটও করি… হি…হি।”
এর মধ্যেই ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলেন “কী লাগবে?”
ভাইজান কয়েক মুহূর্ত ভেবে মাটন বিরিয়ানি নাকচ করে চিকেন বিরিয়ানিতেই সেট্ল করলেন! বললেন, “নমস্কার। প্লেট লাগিয়ে দাও তাহলে।”
সে এক রাজকীয় কায়দা!
‘হামি’-র হিরো, এত বড় স্টার বলে কথা, কায়দা তো থাকবেই – যেই না বলা, অমনি চটজলদি ব্রত-র উত্তর “না, স্টার না। আমি মানুষ। আসল পরিচয় আমার মানুষ। একটা বড়লোকের থেকে চাষি অনেক বেশি, জানো তো? কারণ যদি চাষি চাষ না করে বড়লোক খাবে কী? না খেয়ে মরবে।”
এই মর্মে সিরিয়াস বক্তব্য পেশ করে
ফেলল সে। আমাকে উপদেশও দিল, “শোনো, কখনও পদবি নিয়ে ভাববে না। কেউ ব্রাহ্মণ, কেউ শিখ, কেউ পারসি, কেউ জৈন। কিন্তু সবাই সমান।”
এত জানলে কী করে ব্রত? “আমি জানি।” গম্ভীর মুখে তার জবাব।
জানো কি ‘ভুটু ভাইজান’ পার্টি সং-এর ওয়ান মিলিয়ন ভিউজ ছাড়িয়ে গিয়েছে? “ওয়ান মিলিয়ন? মানে কি দশ লাখ?আমি তো আগে কখনও নাচ করিনি। লাইফে এটাই প্রথমবার। প্র-অ-থ-অ-ম-বা-র। আমার তো এটা জীবনের প্রথম সিনেমা,আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি শ্রেয়ানের গান শুনে। শ্রেয়ান আর তিয়াশা আমার খুব ভাল বন্ধু হয়ে গেছে।”
এখন ব্রত’র গরমের ছুটি। ফলে বাকি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। ভীষণ মিস করছে বাসকাকু অর্থাৎ তার গুরুকাকুকে। কথায় কথায় জানাল সে।

বলতে বলতে বিরিয়ানি চলে এল। ব্রত-র মনোযোগের পুরোটাই এবার চলে গেল গরম বিরিয়ানি ভরতি প্লেটে। “আমি বলি কি খাবার জন্যই তো বেঁচে থাকা। খেতে আমি সবচেয়ে ভালবাসি। মিষ্টি খুব ভালবাসি। মানে আমি মিষ্টির পোকা। যত দেবে, তত মিষ্টি খাব। তুমি ভালবাসো না?” প্রশ্ন ছুড়ে দিল সে। সম্মতি জানাতে ব্রত বেজায় খুশি। মিষ্টিমুখে প্রথমেই অব্যর্থ লক্ষে পুরো আলুটা গেঁথে নিল কাঁটায়। তারপর একটু একটু করে খেতে লাগল। আর চামচে করে হলুদ ভাত। চিকেনের বড়সড় লেগ পিস-এর জন্য সে সব্যসাচীর ভূমিকা নিল! হাত দিয়ে যে খাওয়া শুরু হয়েছিল সর্বঅঙ্গ দিয়ে তা ক্রমশ এগলো। আর খাওয়ার মাঝে মাঝে অপূর্ব সব গল্প!
ব্রত নাকি সাঁতার শিখতে যায়। কিন্তু জলে তার বেজায় ভয়। অতএব ক্লাবে গিয়ে ক্রমাগত পা দোলাত। আর জলে না নেমে বলত
“১১ তারিখ আমার একটা সিনেমা আসছে কিন্তু। ১১ তারিখ।”
‘হামি’ করার জন্য সে নিজেই মন্দারমণি বেড়াতে যাওয়া ক্যানসেল করেছিল। “কারণ আমি একটা নাটকে কংসের অ্যাক্টিং করেছিলাম। তখনই জানতাম, জন্ম থেকে আমার অ্যাক্টিং করার খুব ইচ্ছে। আর জানো তো, শুটিং করতে খুব ভাল লেগেছে। কেউ বকুনি দেয়নি। আমি কত দুষ্টু করেছি নিজেই ভুলে গেছি। শিবুদা-নন্দিতাদি দু’জনেই খুব আদর করেছে। এত আদর করেছে কী বলব! এত হামি আমি জীবনে পাইনি যত ওদের থেকে পেয়েছি। আর মা-বাবা তো আমাকে এমনিতেই হামি দেয়।”
চিকেনের লেগপিস গ্রিপ করতে করতে স্বচ্ছন্দে বলে চলল ব্রত।
‘হামি’ হিট করলেও ব্রত কিন্তু ভাইজান বা নায়ক হতে চায় না বড় হয়ে। তার ইচ্ছে আকাশের সায়েন্টিস্ট হওয়ার। যদিও সে জানিয়েছে পড়াশোনা করতেই ভাল লাগে না। কিন্তু জানে ওটা করতে হবে। খেলতে ভালবাসে সে। “মানে যেগুলো বাড়িতে
বসে খেলা যায়। যেমন– লুডো, ক্যারম, দাবা, পাশা”, নিজেই জানাল। পাশা কীভাবে খেলে সেটা অবশ্য তার কাছ থেকে জানা যায়নি! বিরিয়ানি খাওয়া শেষ করে ফিঙ্গার বোওল-এ দু’হাত ধুয়ে সে এসে বসল লক্ষ্মীটি হয়ে। বসেই বলে,দাঁড়াও “‘নটরাজ’ হয়ে দেখাই।” এবং দেখিয়েও দিল! মাঝে একবার শুরু করল ‘অবনী বাড়ি আছো?’ তারপর গান ধরল ‘আ…আ…ম…রা নূতন যৌবনেরই দূত’।
একবার নিজের গলায়,আর একবার যেন তিয়াশার হয়ে নিজেই প্রক্সি দিল মিহি স্বরে! পুরো রেস্তরাঁ মুগ্ধ ভাইজানের প্রতিভায়। কিন্তু তিনি সরি চেয়ে নিলেন সামান্য রাইস প্লেটে অবশিষ্ট থাকার জন্য! ব্রত খাবার নষ্ট করতে পছন্দ করে না।

এবার মিষ্টিমুখ
দু’হাত দূরে ‘বাঞ্ছারাম’-এর মিষ্টির দোকানে গিয়েই। পৌঁছেই তার ঘোষণা, “এখন আমি হামি খাব না, শুধু মিষ্টি খাব।” পাশের এক ক্রেতা হেসে জিজ্ঞেসই করে ফেললেন “তুমি কে গো?”, ভাইজানের কড়া উত্তর “আমিই তো হিরো। ‘হামি’-র হিরো।”
কালোজামের বাটি ধরে বুকে আগলে রেখে খেলো সে। আর মাঝে মাঝেই ডান পাশ—বাঁ পাশ থেকে তার গালে এসে পড়তে লাগল হামি। পছন্দ না হলে বাঁ হাতে গালটা মুছেও নিচ্ছিল। সত্যি এত ভালবাসা সহ্য হয়! শেষে ছবির বাজার ফেরত ‘লাল্টু বিশ্বাস’—এর মতোই দু’হাতে দু’ব্যাগ ভর্তি মিষ্টি নিল সে। মহানন্দে গড়িয়াহাটের ফুটপাথে নেমে এল ব্রত। একটা ব্যাগ আমার হাতে দিল।
বলল “দাঁড়াও, যাবার আগে তোমাকে একটা হামি খাই।” আমার কড়ে আঙুলটা ছাড়িয়ে নিয়ে এবার উলটো দিকে চলল।
আমার মনে পড়ে গেল স্কুলবেলার দুশ্চিন্তা–কোন আঙুলে ভাব হয়?
বুড়ো আঙুল! না কড়ে আঙুল?
ব্রতর গানের ভিডিও দেখুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে হেরেও অলিম্পিকের টিকিট স্মৃতিদের, এখনও অনিশ্চিত শ্রেয়সরা, কী মাপকাঠি জানাল আইসিসি?
-
‘ইটালীয় মানসিকতার কোনও…’, সোনিয়াকে খোঁচা বিজেপির, পালটা জবাব কংগ্রেসের
-
এবার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তদন্তে ইডি! ‘বান্ধবী’র বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধারের পর মামলার নথি সংগ্রহ
-
দ্রাবিড়ভূমই পাখির চোখ, তেলেঙ্গানায় পদ্ম ফোটাতে হারদরাবাদ পুরভোটে ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি
-
ব্রাজিলের ক্লিনিকে বডি কাউন্ট ‘শূন্য’ করার দাম ১১ লক্ষ টাকা! কেন চিন্তাজনক এমন ট্রেন্ড?