আশার প্রয়াণে শোকাহত প্রসেনজিৎ
প্রসেনজিৎ বলেন, "আশাজির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। আমার পরিচালনায় একটি ছবিতে উনি গান গেয়েছিলেন। আমার মা ওঁর খুব বড় অনুরাগী ছিলেন। এত বড় অনুরাগী বোধহয় আর কেউ নেই। যে কোনও ভাষায় গানে একটা ট্রেন্ড সেট করেছিলেন। দূর থেকে শুনে বোঝা যেত যে তাঁর গান এটা। গানের জগতে আশাজি, লতাজি দুটো নাম। তাঁদের জীবনাবসান বড় ক্ষতি।"
আশা ভোঁসলের সাফল্যের একাধিক নজির রয়েছে ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রেও
প্লে-ব্যাক শিল্পী হিসাবে তাঁর গাওয়া গান যে সময় রমরমিয়ে চলছে, তাঁর অ্যালবামের গান যখন শ্রোতাদের মুখে মুখে, তখন থেকেই তিনি গানের পাশাপাশি মন দিয়েছিলেন ব্যবসায়। সুগায়িকা হওয়ার পাশাপাশি আশার রন্ধনশিল্প নিয়েও বহু আলোচনা শোনা যায়। আসলে তিনি রান্না করতে পছন্দ করতেন। সেই পছন্দকেই তিনি ব্যবসার কাছে লাগান। ২০০২ সালে তিনি দুবাইয়ে একটি রেস্তরাঁর চেইন খোলেন। সেই রেস্তরাঁ চেইনের নাম তিনি দেন Asha’s। পরে সেই রেস্তরাঁ চেইনের আউটলেট ছড়িয়ে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, বাহরিনে তাঁর রেস্তরাঁর আউটলেট রয়েছে। ম্যাঞ্চেস্টার, বার্মিংহামের মতো শহরেও তাঁর রেস্তরাঁর আউটলেট রয়েছে।
'গানের মধ্যে বাঁচবেন আশা', বলছেন ঊষা
আশা ভোঁসলের মতোই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ। আশাজির মতো তিনিও নানা ভাষায় রেকর্ড সংখ্যক গান রেকর্ড করেছেন। ‘সুরসাধিকা’ প্রয়াণে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “আশা ভোঁসলে সিনেমা থেকে সঙ্গীতের দুনিয়া – সবক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু বলিউডের ছবিতেই নয়, বাংলাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন। ওঁর পুজোর গান আজও লোকমুখে ফেরে। আমরা প্রত্যেকে আশা ভোঁসেলের অন্ধ ভক্ত। ওঁর মতো একজন বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন শিল্পীকে হারানো সঙ্গীতের দুনিয়ায় বিরাট ক্ষতি। আশাজির ‘দম মারো দম’ ছাড়া আমার কোনও প্রোগ্রাম হয় না। সঙ্গীত কোনওদিন ফুরিয়ে যায় না। গানের মাধ্যমেই তিনি আমাদের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
‘অপূরণীয় ক্ষতি’র কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন হৈমন্তী, শুভমিতারা
আশা ভোঁসলের মতো মহীরূহের ছায়াটা হঠাৎ করে মাথার উপর থেকে সরে যাওয়ায় অসহায় বোধ করছেন হৈমন্তী শুক্লা, শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। আপনজন হারানোর কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন হৈমন্তী শুক্লা।
হৈমন্তী শুক্লা জানালেন, ”উনি তো শুধু প্লেব্যাক করতেন না।গানের কোন কথা কী অর্থ, তা জানতে চাইতেন। কোন দৃশ্যে গানটি ব্যবহৃত হবে, তা স্পষ্ট বুঝে নিতেন। একেবারে ছবির মতো সবটা তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত। আর তাই তাঁর গলায় গানগুলো এত জীবন্ত হয়ে উঠত। আমরা সুরের আলোয় ভেসে যেতাম যেন!”
সুরলোক ছেড়ে পরলোকে আশা
রবিবাসরীয় সকালে সঙ্গীতের দুনিয়ায় শোকের ছায়া। জীবনাবসান কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের। মুম্বই ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে অবসান ঘটল একটি যুগের। ১১ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে।