BREAKING NEWS

২৩ শ্রাবণ  ১৪২৭  রবিবার ৯ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

ধোনির বায়োপিকে বড্ড বেশি সেফ খেললেন পরিচালক নীরজ পাণ্ডে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 1, 2016 2:29 pm|    Updated: October 1, 2016 2:29 pm

An Images

শুভময় মণ্ডল: লেখার শুরুতেই বলে রাখি, একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসাবেই এই ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অধিনায়কের জীবনী বলে কথা, তাই একটু আবেগতাড়িত হয়েই ছবি দেখতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু সোয়া তিন ঘণ্টার ছবির শেষে একটাই কথা বলতে হচ্ছে, বড্ড বেশি সেফ খেললেন ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র পরিচালক নীরজ পাণ্ডে। ‘আ ওয়েডনেসডে’, ‘স্পেশ্যাল ছাব্বিস’-এর মতো ছবি রয়েছে যাঁর ঝুলিতে সেই পরিচালক কি একটুও ঝুঁকি নেবেন না? যেখানে তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো একজন তারকা ক্রিকেটারের বায়োপিক বানাচ্ছেন। যেটাকে তিনি আনটোল্ড স্টোরি বলে দাবি করছেন, তা ধোনির গুচ্ছের সাক্ষাৎকার, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কাহিনি, উইকিপিডিয়া মায় তাঁর বাল্যবন্ধুদের সৌজন্যে আসমুদ্রহিমাচলের জানা।

তবে মিসিং লিঙ্ক কী?

যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। ২০০৭ সালের উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলের জন্য ক্যাপ্টেন হিসাবে যখন ধোনির নাম ভাবা হয়, তখন সারা দেশেই সমালোচনার ঝড় বয়েছিল। অত্যন্ত সাবধানী হয়ে সেই বিতর্ক এড়িয়ে গিয়েছেন নীরজ পাণ্ডে। তারপর ২০০৯ সালে বিসিসিআই মনোনীত তাবড় বিচক্ষণ  নির্বাচকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে অধিনায়ক ধোনি যখন বীরেন্দ্র সেহবাগ এবং এক অতি পরিচিত তারকা ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন, সেখানেও অতি সাবধানী নীরজ পাণ্ডে বাউন্সার ডাক করার মতো করে বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলেন। এমনকি নির্বাচকের মুখ থেকে নিঃসৃত সেহবাগের নামটুকু পর্যন্ত সেন্সরের কাঁচির মতো বিপ করে দিলেন। বাস্তবে সেই সময়ে সারা দেশে ধোনিকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়েছিল। সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটাননি নীরজ। শুধুই ধোনিকে নিয়ে দেশবাসীর আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন পরিচালক।

তাহলে এই ছবিতে পাওনা কী? একমাত্র পাওনা ধোনির চরিত্রাভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ফের একবার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনিও মাহির মতো লম্বা রেসের ঘোড়া। গোটা ছবিটাই সুশান্তের ওয়ানম্যান শো। বাবা পান সিং ধোনির চরিত্রে অনুপম খেরই বলুন বা প্রেমিকা টার্নড স্ত্রী সাক্ষীর চরিত্রে কিয়ারা আদবানিই বলুন, এই ছবিতে সুশান্তই শেষ কথা। রাঁচির ডিএভি স্কুলে ধোনির বেড়ে ওঠা, গোলকিপারের গ্লাভস খুলে উইকেটকিপারের গ্লাভস হাতে তুলে নেওয়া, দলীপ ট্রফি থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের দলে না ঢুকতে পারা, যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে রেষারেষি, খড়গপুর স্টেশনে টিকিট পরীক্ষকের জীবন, টেনিস বল টুর্নামেন্ট খেলে বেড়ানো, রাগ, হতাশা, রেলের চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসা, সবই কিন্তু কপিবুকে স্টাইলে ফ্রন্টফুটে খেলে ছবিতে দেখিয়েছেন পরিচালক। বার বার ভারতীয় দলে ঢোকার ক্ষেত্রে বাধা পাওয়া থেকে ধোনির শিক্ষা নেওয়া বিশদে দেখিয়েছেন পরিচালক। ছবির প্রথম ভাগের অনেকটাই সবার জানা। তাই সে বিষয়ে কোনও অভিযোগ নেই।

বিরতির পর একটু বেশি ডিটেইলিংয়ে না গেলেও পারতেন নীরজ। বিশেষ করে ধোনির প্রথম প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কা ঝা-র সঙ্গে প্রেমপর্বের দৈর্ঘ্যটা একটু কমানো যেত। প্রিয়াঙ্কার চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি। বিশেষ কিছু করার ছিল না তাঁর। ওই যে বলেছিলাম, পুরোটাই সুশান্তের ওয়ানম্যান শো। প্রিয়াঙ্কার আকস্মিক মৃত্যুতে ধোনির ভেঙে পড়ার ঘটনাও একটু অস্বস্তিকর লাগল। যে মানুষটা বারবার ভারতীয় দলে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েও এক ফোঁটা চোখের জল ফেলল না, সেই কি না বান্ধবীর মৃত্যুর খবর শুনে গাড়ি থেকে নেমে মাঝরাস্তায় বসে হাউহাউ করে কাঁদল? কেন? আর যাই হোক ধোনিপ্রেমীদের বিষয়টি ভাল নাও লাগতে পারে। আরও একটা বিষয়, গোটা ছবিতে একমাত্র কিরণ মোরে ছাড়া কোনও প্রাক্তন বা বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটারকে দেখা গেল না। পুরনো ক্রিকেট ম্যাচগুলিতে ধোনির শরীরে প্রযুক্তির সাহায্যে সুশান্তের মুখ বসিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেন পরিচালক। ছবির বিষয় যখন ধোনি এবং ক্রিকেট তাহলে ছবিতে এক-দু’জন ক্রিকেটারকে দেখার আশা করতেই পারি। ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে ধোনির এত ভালবাসা-আবেগ সেগুলিকেও বাদ রাখলেন নীরজ। মোট কথা, বাদের লিস্টি লম্বা। শেষদিকে বিতর্ক ছাড়া ধোনির বায়োপিক অনেকটা ইউটিউব ভিডিওর মতো লাগছিল। ব্যাটসম্যান ধোনির স্ট্রোকপ্লে-র উপর জোর দিতে গিয়ে মাঠে ধোনির স্ট্র্যাটেজিক্যাল ক্যাপ্টেন্সির ঝলক দেখানোর কথা বোধহয় বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন নীরজ। তবে ধোনির শরীরী ভাষা, আদব-কায়দা, সেই বিখ্যাত কাঁধ ঝাঁকিয়ে ব্যাট করতে নামা, সবই সুন্দরভাবে রপ্ত করেছেন সুশান্ত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই জায়গাতেই সুশান্ত এবং নীরজকে ফুল মার্কস দিতে হবে।

ছবির শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিরাট প্রাপ্তি রয়েছে। ২০১১ সালের ২ এপ্রিল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের সেই বিখ্যাত রাত। যখন ২৮ বছর পর ধোনির নেতৃত্বে ভারত ফের বিশ্বসেরা হয়েছিল, সেই দৃশ্য ছবিতে দেখিয়ে দর্শকদের মনে জাতীয়তাবাদের সুড়সুড়ি দিলেন পরিচালক। অতি বড় ধোনি সমালোচকও সেদিন ধোনির জয়গান করেছিলেন। করবেন নাই বা কেন। কারণ, ধোনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন আমরা মানে ভারতীয়রা পারি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আগ্রাসনের জন্ম দিতে পারেন তাহলে সেই আগ্রাসনকে দিশা দেখিয়েছিলেন ধোনি। তাই ভারতীয় ক্রিকেটে এই দুই অধিনায়কের অবদান কোনওদিন ভোলা যাবে না। ছবির ইউএসপি সেটাই। শেষে একটাই কথা বলার, ছবি থেকে ক্রিকেটার ধোনিকেই বেশি পাওয়া গেল, মানুষ ধোনির গল্প আনটোল্ডই রয়ে গেল যে।

এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি

পরিচালক- নীরজ পাণ্ডে

গল্প ও চিত্রনাট্য- নীরজ পাণ্ডে ও দিলীপ ঝা

অভিনয়ে- সুশান্ত সিং রাজপুত, অনুপম খের, ভূমিকা চাওলা, রাজেশ শর্মা, দিশা পাটানি, কিয়ারা আদবানী, কিরণ মোরে, মিঠু চক্রবর্তী প্রমুখ

সংগীত- সঞ্জয় চৌধুরি

রেটিং- ৩/৫

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement