টাটার কোম্পানিতে চাকরি করেন জেরক্সেস। পার্শি যুবক, বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখী সংসার। অফিসের সর্বোচ্চ বস জে আর ডি টাটা। তাঁর অত্যন্ত স্নেহধন্য বলেই জেরক্সেসকে কঠিন দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন তিনি। ব্যবসাক্ষেত্রে নতুন কিছু ভাবতে গিয়ে জেরক্সেসের মাথায় আসে ঘড়ি তৈরির ভাবনা। লিখছেন স্বাতী চট্টোপাধ্যায় ভৌমিক।
সিনেমা সিরিজের নায়ক হিসেবে মানুষ ছাড়া আর কিছুকে ভাবা যায় কি? ভূত কিংবা চারপেয়ে কোনও প্রাণী হতে পারে। গাড়ি বাড়ি জাহাজ নিয়েও ছবি হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড বা একটি বিশেষ প্রোডাক্ট কি সিরিজের নায়ক হতে পারে? আমাজন প্রাইমে তেমনই এক সিরিজ তৈরি করে চমকে দিলেন পরিচালক রবি গ্রেওয়াল। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: এ টাইটান স্টোরি’ (Made in India A Titan Story Review) একটি প্রোডাক্টের গল্প।
আরও পড়ুন:
একটা কোম্পানি গড়ে তোলা, তার চ্যালেঞ্জ, জেদ, লেগে থাকা এবং সততা এই সিরিজের পরতে পরতে। বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নির্মাণ কাহিনি নিয়ে তৈরি ড্রামা সিরিজ যে এতটা মুগ্ধ করতে পারে সত্যি জানা ছিল না।
ভারতীয় দর্শক এমনটা এর আগে দেখেনি। বিভিন্ন বিষয়কে ভিত্তি করে সেই কোভিডকাল থেকে ওয়েব সিরিজের ঢল নেমেছে। কিন্তু শুকনো একটা ব্যবসায়িক পণ্য, তার গড়ে ওঠা নিয়ে ছয় এপিসোডের কাহিনি শুরুতে কিছুটা অবিশ্বাস্যই লাগবে। ‘টাইটান স্টোরি’ টাইটান ঘড়ির জন্মের কথা শোনায়, আর তার জন্মদাতার কথাও। জেরক্সেস দেশাই, যার হাত ধরে গড়ে উঠেছিল এই ঘড়ির গর্বের ইতিহাস, সেই ঘড়ির জন্মলগ্ন থেকে বিশ্বজয় অবধি সবটাই পরিচালক দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন সুদক্ষ হাতে। সাতের দশকের শেষ ভাগ। টাটার কোম্পানিতে চাকরি করেন জেরক্সেস। পার্শি যুবক, বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখী সংসার। অফিসের সর্বোচ্চ বস জে আর ডি টাটা। তাঁর অত্যন্ত স্নেহধন্য বলেই জেরক্সেসকে কঠিন দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন তিনি। ব্যবসাক্ষেত্রে নতুন কিছু ভাবতে গিয়ে জেরক্সেসের মাথায় আসে ঘড়ি তৈরির ভাবনা। সে সময় ভারতে রিস্টওয়াচ মানেই সরকারি কোম্পানির অনাকর্ষণীয় ঘড়ি, আর নয়তো চোরবাজারে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ইমপোর্টেড ঘড়ি। জেরক্সেস নতুন কিছু ভাবলেন। ঘড়ি হবে এমন যা শুধু সময় দেখাবে না। বরং তা পরিহিতের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হবে। একজন মানুষ যে উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে চায় সেই মানদণ্ডকে স্পষ্ট করবে তার ঘড়ি। প্রথম অবস্থায় কিন্তু টাটার ছাড়পত্র মেলেনি। তবে ঘটনাচক্রে একদিন টাটা নিজেই পাঁচ বছরের সময়সীমা দিলেন জেরক্সেসকে। প্রমাণ করে দাও ভারতীয়রাও বিশ্বমানের ঘড়ি তৈরি করতে পারে। কিন্তু সারা বিশ্বের তাবড় কোম্পানির ঝাঁ চকচকে ঘড়ির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সহজ ছিল না। এমনকী, নিজের শহরে বাজার পেতেও জেরক্সেসকে বাধা পেতে হয়েছে বার বার। থেমে যাননি তিনি। লড়ে গেছেন একে ভারতের এক নম্বর ঘড়ির ব্র্যান্ড বানাতে।

২০২৬ সালে বসে আজও ঘড়ি বললে প্রথম যে ব্র্যান্ডের কথা আমাদের মাথায় আসে সেই খ্যাতি একদিনে আসেনি। কঠিন পরিস্থিতি এসেছে, কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। সব রকম ওঠানামা দেখেছে এই লেবেল। একটা কোম্পানি গড়ে তোলা, তার চ্যালেঞ্জ, জেদ, লেগে থাকা এবং সততা এই সিরিজের পরতে পরতে। বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নির্মাণ কাহিনি নিয়ে তৈরি ড্রামা সিরিজ যে এতটা মুগ্ধ করতে পারে সত্যি জানা ছিল না। সিরিজের সাফল্যের পিছনে পরিচালকের সঙ্গে একইরকম কৃতিত্বের দাবিদার জেরক্সেস চরিত্রের অভিনেতা জিম সর্ভ। তাঁর অভিনীত অন্যান্য চরিত্রের মতোই এখানেও অপ্রতিরোধ্য তিনি। জে আর ডি টাটার ভূমিকায় ভীষণরকম মানানসই নাসিরুদ্দিন শাহও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সর্বকালের সেরা। অন্যান্য চরিত্রে প্রত্যেকেই যথাযথ। ভালো লাগে চিত্রনাট্যের বাঁধুনি। পুরনো হিন্দি গান ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে চরিত্রদের মুড যেভাবে উঠে এসেছে, তা প্রশংসনীয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলার ভাষাবিদের ইতালি জয়, সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার!
-
২ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হতেই পদত্যাগের ঢল! ডামাডোম পানিহাটি পুরসভায়
-
একাধিক বিয়ে, পরকীয়ার ‘নেশা’, ক্ষোভে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী!
-
এবার ঝাড়গ্রামে বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল জাতীয় সড়কের ধারে গজিয়ে ওঠা দোকানপাট!
-
পাহাড়ি পথে আচমকা ভূমিধস, তলিয়ে যেতে যেতেও বেঁচে ফিরলেন বাইকচালক! প্রকাশ্যে হাড়হিম ভিডিও