১২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

‘আগামী বছর যত বয়স হবে আমি তার থেকে এক বছরের ছোট’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 14, 2017 6:02 am|    Updated: May 14, 2017 6:20 am

Remembering legendary Director Mrinal Sen on His Birth day

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘I am one year younger than what I’ll be in next year’- আত্মজীবনীতে এভাবেই নিজের জন্মদিনকে ব্যাখ্যা করেছেন কিংবদন্তি পরিচালক মৃণাল সেন৷ তিনি বাঙালির আন্তর্জাতিক অহঙ্কার৷ বাংলা সিনেমার পথচলায় তিনি অক্লান্ত ‘পদাতিক’৷ ‘আকালের সন্ধানে’ যেমন তিনিই সঙ্গী, তেমন তিনিই আমাদের দেখান জীবনের ‘আকাশ কুসুম’ স্বপ্ন ও তার পরিণতি৷ তাঁর ছবির পরতে পরতে ‘অন্তরীণ’ থাকে জীবনের খরখরে বাস্তবতা৷ ‘একদিন প্রতিদিন’ তাঁর সিনে-দর্শনেই তাই জীবন ও জীবনের মর্মের দেখা হয়ে যায় মুখোমুখি৷

ভাগ্যিস মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের ব্যাগটা তিনি নামিয়ে রেখেছিলেন! এক দিন দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর একান্ত আত্মসমালোচনার আরশিটির মুখোমুখি৷ ভাগ্যিস তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন সেদিন! আর তাই সিনেমার ইতিহাস পেয়ে গিয়েছিল এই অক্লান্ত পদাতিককে৷ বাংলা সিনেমার খোলনলচে বদলে তখন উঠে আসছে দুটি ধারা৷ একদিকে সত্যজিত তাঁর নান্দনিকতা আর ভাবনায় জারিত করছেন সিনেমা শিল্পকে, অন্যদিকে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্রে লিখে চলেছেন সময়ের অভিশাপ আর অভিশাপ পেরিয়ে অনন্ত আশাবাদের আলো৷ ঠিক তার মধ্যেই স্বতন্ত্র, ঋজু ও বলিষ্ঠ এক স্বর হয়ে উঠে এসেছিলেন মৃণাল সেন৷ চলচ্চিত্র সমালোচনার সুবাদে দেশ ও বিদেশের চলচ্চিত্রের হাল হকিকত ছিল নখদর্পণে৷ বাস্তবতার অঙ্গীকার মেনে নিয়েই সিনেমা কোন নতুন আঙ্গিক পেতে পারে, এবার তারই খেলায় মাতলেন তিনি৷ প্রথম ছবিতেই অবশ্য নিজের স্বাক্ষর ফুটিয়ে তুলতে পারেননি৷ তবে তারপর এতে একে বাঙালি ঋদ্ধ হতে থাকে তাঁর সচেতন নির্মাণে৷ ফলে তাঁর ছবি হয়ে উঠল একেবারে অন্য ঘরানার৷ যে ঘরানায় দাঁড়িয়ে শোকাহত বাবার একটা ছোট্ট নমস্কারই প্রবল থাপ্পড় বেজে উঠতে পারে বাঙালির বুকে৷ টান দিতে পারে ভাবনা আর জীবনদর্শনের একেবারে মূল ধরে৷ আর এই করতে করতেই বাংলা সিনেমাকে তিনি প্রতত করে আন্তর্জাতিকার আঙিনায়৷ আখ্যানের ছাঁচ ভেঙে প্রবন্ধধর্মিতায় তিনি বাংলা সিনেমাকে হাজির করান এমন এক ভুবনে, যেখানে সিনেমা শিল্পের নিরিখে আন্তর্জাতিক হয়েও আয়না ধরতে পারে বাঙালির চোখের তারায়৷ আসলে তিনি মৃণাল সেন বলেই বোধহয় বাঙালির বাইশে শ্রাবণের শোকভেজা নস্ট্যালজিয়া ভেঙে তুলে ধরতে পারেন দুর্দশা-সংকট আর রিক্ততাটুকু৷ ছাত্রবস্থায় তিনিই তো সাক্ষী থেকেছিলেন কবিপ্রয়াণের জমায়েতে বাঙালির ভিড়ের উন্মাদনায় এক বাবার হাত থেকে মৃত শিশুর হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায়৷ মননে বোধহয় সেদিনই পড়েছিল কালসিটে৷ সেই অভিঘাত, সেই কালসিটের ব্যাথা তিনি গোপন করেননি৷ বরং রূপোলি পর্দার মোহাবরণ মুক্ত করে, এই বাস্তবতার মুখোমুখিই তিনি দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন দর্শককে৷ আর সেই লক্ষ্যের পথে প্রতিনিয়ত বেছে নিয়েছেন নতুন আঙ্গিক, নতুন নীরিক্ষা৷ ছবিতে ছবিতে রেখেছেন তাঁর বুড়ো আঙুলের ছাপ, যার অনুকৃতিও আজ অসম্ভবপ্রায়৷  বাংলা ছবি আজও তাই তাঁর সমীপে শিক্ষার্থী৷ আর বাঙালি দর্শকের কাছে তিনি হৃতগৌরবের জীবন্ত মাইলফলক৷

জন্মদিনে শ্রদ্ধা তাঁকে৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে