২০২০ সালের ১৪ জুন। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারকে। ২৭ দিন বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে শ্রীঘরে। জেলমুক্তির পর লাইমলাইটের অন্তরালে থেকেও রেহাই পাননি সোশাল মিডিয়া ট্রায়াল থেকে। মুম্বই নিবাসী বঙ্গকন্যা রিয়া চক্রবর্তীর নামোল্লেখ করে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বঙ্গসমাজকেও। জীবনের কালো অধ্যায় কাটিয়ে অনেক আগেই মূলস্রোতে ফিরেছেন ঠিকই, তবে কুড়ি সালের সুশান্তের মৃত্যুর ওই অভিশপ্ত অধ্যায় আজও তাড়া করে বেড়ায় রিয়া চক্রবর্তীকে।

আরও পড়ুন:
“আমি তো ‘ব্ল্যাক শিপ’ লেখা ব্রেসলেটও তৈরি করিয়েছিলাম, কারণ সেসময়ে আমাদের নিজেদের ঠিক তেমনই মনে হতো। সমাজের চোখে আমরা যেন ‘ব্ল্যাক শিপ’ বা অবাঞ্ছিত কেউ হয়ে উঠেছিলাম।”
সম্প্রতি চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ ভাই শোভিক চক্রবর্তীকে নিয়ে নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদির মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানেই মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন রিয়া। সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর পর কীভাবে গোটা দেশজুড়ে তাঁর চরিত্র নিয়ে নিরন্তর কাটাছেঁড়া চলছিল, কীভাবেই বা ‘ডাইনি অপবাদে’ জেলযাত্রার পর তাঁর জীবন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল সেকথাই এবার উজাড় করে দিলেন রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রী জানালেন, “এরকম একটা বিষয় থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা এমন এক ট্রমা যে, মনের সঙ্গে শরীরেও তার প্রভাব পড়ে। আর সেই ক্ষত থেকে যায়, যা সারিয়ে উঠতে প্রত্যাশাতীত সময়ের প্রয়োজন। আপনি থেরাপি নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের বিষয়টা যেহেতু গোটা দেশের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল এবং তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হত, তাই এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল। আজও হয়তো অনেকে বলেন।” এখানেই অবশ্য থামেননি রিয়া।

সুশান্ত সিং রাজপুত মামলার শাপমোচনের পর অভিনয়ের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বর্তমানে ব্যবসায় মন দিয়েছেন অভিনেত্রী। সেবিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। রিয়া জানালেন গোড়ার দিকে তিনি তাঁর পোশাক সংস্থার নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘চুড়েল কা বদলা’। বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘ডাইনির প্রতিশোধ’। কিন্তু কেন এহেন নাম নির্বাচন করেছিলেন তিনি? রিয়ার মন্তব্য, “আসলে সমাজ তখন আমাকে যেমন অপবাদ দিয়েছিল, সেপ্রেক্ষিতেই এমন নাম ভাবা। এমনকী আমি তো মজার সব টি-শার্ট তৈরির কথাও ভেবেছিলাম। তবে সবাই আমাকে এত নেতিবাচক হতে না করত। আমি তো ‘ব্ল্যাক শিপ’ লেখা ব্রেসলেটও তৈরি করিয়েছিলাম, কারণ সেসময়ে আমাদের নিজেদের ঠিক তেমনই মনে হতো। সমাজের চোখে আমরা যেন ‘ব্ল্যাক শিপ’ বা অবাঞ্ছিত কেউ হয়ে উঠেছিলাম।” পঁচিশ সালেই সুশান্ত মামলায় ক্লিনচিট পেয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে যে তিনি আরও পরিণত, শক্ত হয়ে উঠেছেন, তা অভিনেত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভেনেজুয়েলার পর ফের ভূমিকম্প! কাঁপল ফিলিপিন্স, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৪!
-
SIR-নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা অধীরের, কী দাবি প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের?
-
জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’, পর্যবেক্ষণ হাই কোর্টের
-
পরচুলা পরতেন বলেই খুন কেতন? ‘মোটিভ’ নিয়ে নয়া তত্ত্ব, মুখ খুললেন প্রয়াত তরুণের বাবা
-
বাংলার নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাট্রিক্স ওয়ান’, ক্লাসিক ছবি-সহ থাকছে একগুচ্ছ চমক