ভিড়ে একা, তবে একাকীত্ব নয়। সবার মাঝে অনন্য হয়ে থাকার একা। লিখেছেন প্রিয়দর্শিনী রক্ষিত।
‘বাড়ি থেকে বেরনোর আগে এরা আয়না দেখে না?’- বাসে-ট্রামে-রাস্তায়-পুজো মণ্ডপের ভিড়ে এ রকম মন্তব্য শুনতে হয়নি, এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়ার চেয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে একডালিয়ার ঠাকুর দেখা বেশি সহজ। কখনও শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস ব্লাউজ পরার জন্য। কখনও হাঁটু দেখানো ড্রেস পরেছেন বলে। কখনও মন্তব্যের হেতু টাইট টপ। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এবার পুজোয় এসব মন্তব্যের উত্তর হোক একটাই – জাস্ট গেট লস্ট! আমার শরীর। আমার টাকা। আমার পছন্দ। আমার ওয়ার্ডরোব। সেটা তোমার ভাল লাগলে ভাল, খারাপ লাগলে আই ডোন্ট কেয়ার।

ছবি: শুভেন্দু চৌধুরী
জানেন তো, একটা দারুণ ফিলজফি আছে, যেখানে সবার জীবনকে দেখা হয় এক- একটা সৌরজগৎ হিসেবে। আর সেই সৌরজগতের সেন্টার অফ অ্যাট্রাকশন, মানে সূর্য, আমরা নিজেরাই। আমাদের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, কাছের মানুষ – তাঁরা সব সেই সূর্যের চারধারে ঘোরা নানা নক্ষত্র। সহজ করে বললে, আমাদের জীবন যদি একটা ফিল্ম হয়, তাহলে আমরা সেই ফিল্মের নায়ক বা নায়িকা। বাকিরা সাপোর্টিং কাস্ট। পুজোর স্রোতে ভেসে যাই-যাই অবস্থায় বোধহয় এই দর্শনটা মনে রাখা ভাল। কেন? এই সময়টায় হাজার মুখের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর তাই বছরের বাকি সময়ের চেয়ে এই সময়টা বোধহয় মনে রাখা বেশি জরুরি যে, আমি অনন্য। সেই অনন্য হয়েই সংবাদ প্রতিদিন-এর ক্যামেরার সামনে ধরা দিয়েছেন জয়া এহসান।

না, এখানে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা হচ্ছে না। জয়া এহসানের মতো সর্বাঙ্গসুন্দর আর ক’জন হন! তাই বলে নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কোনও কারণ নেই কিন্তু। কারণ আপনার ওজন-উচ্চতা-বয়স-বহর-গায়ের রং যাই হোক না কেন, আপনি সুন্দর।হ্যাঁ, বাইরের নানা খুঁত ধরিয়ে দেওয়ার লোকের অভাব নেই আশপাশে। বডি শেমিংয়ের রমরমায় মানুষকে, বিশেষ করে মেয়েদের, ওজন দিয়ে বিচার করাটা বেশ ফ্যাশনেবল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ও রকম হাত নিয়ে স্লিভলেস পরে কী করে?’ বা ‘তুই একটু ভারীর দিকে তো, গাঢ় রংই তোকে মানাবে’ বা ‘এই ড্রেসটায় তোকে মোটা লাগছে’, না চাইলেও এ ধরনের উটকো মন্তব্য আপনার কানে আসতে বাধ্য।বেশি রোগা হলেও কি রেহাই আছে? হয়তো প্রচুর খেটেখুটে কয়েক কিলো ঝরিয়েছেন। অমনি কেউ না কেউ বলবে, চেহারার লালিত্যটা চলে গিয়েছে। খুব লম্বা হলে শুনতে হবে, তোর আর হাই হিল পরে দরকার নেই। আপনার হাইট কম? তাহলে কোন সাহসে ফ্ল্যাটস পরেন? গায়ের রং চাপা, ওদিকে ক্যাটক্যাটে হলুদ টপ পরে বেরিয়ে পড়েছেন? বাড়ি থেকে বেরনোর আগে এরা আয়নায় নিজেকে দেখে না?
[শারদীয়ার স্পর্শে সুদূর ফেডেরারের দেশেও সেজে উঠছেন মহামায়া]
চেনা চেনা লাগছে তো মন্তব্যগুলো? এ সব ব্যাপার যাঁদের ডেলি রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাঁদের কাছে একটা আবেদন। আসুন না, এই পুজোয় আমরা সবাই ‘একা’ হয়ে উঠি। একা মানে এখানে একাকীত্বের কথা হচ্ছে না। হচ্ছে, ভিড়ের মধ্যেও অনন্য হয়ে ওঠার কথা। লোকে কী ভাবল বা বলল, তার তোয়াক্কা না করে জয়ার মতোই মেলে ধরি নিজেদের সেরা দিকটাকে। মোদ্দা কথা হল, ঠিক সেভাবে সেজে উঠুন যা আপনার মন ভাল করে দেয়। শর্টস পরতে ভাল লাগলে বিন্দাস পরুন। অষ্টমীর সকালে শাড়ি পরতেই হবে, কে বলল? সবচেয়ে ভাল আউটফিটটা নবমী পর্যন্ত রাখার তর সইছে না তো ষষ্ঠীতেই পরে ফেলুন। ইচ্ছে না করলে পুজোয় নতুন জামা পরবেন না।তাতে কে কী বলল, আপনার কিছু আসে-যায় কি? আপনি যে অদ্বিতীয়। অপ্রতিম। জয়ার মতোই নিজের ফিল্মের সুপারস্টার!
[আমার দুগ্গা: পুজোয় সেই চারদিনের প্রেম ভোলা যায় না]
সর্বশেষ খবর
-
ম্যাচ শেষের আধঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়তে হবে ইরানকে! ফিফায় নালিশেও অনড় ট্রাম্প প্রশাসন
-
কবে স্বাক্ষর হবে ভারত-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তি? মুখ খুলল কেন্দ্র
-
তৃণমূল জমানার ‘গলদে’ই দিঘায় অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে দুর্ঘটনা! প্রশ্নের মুখে প্রশিক্ষকের যোগ্যতা
-
ছাগলের মুখে সেলোটেপ এঁটে চুরি! কালনার ‘গুণধর’ চোরের কাণ্ডে প্রাণ গেল পোষ্যর
-
বর্ষায় চোরাচালান রুখতে চিকেনস নেকের নদীতে বিশেষ বিএসএফের নজরদারি, বসল ‘আন্ডারওয়াটার সেন্সর’