Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৪ জুলাই ২০২৬

অল রাউন্ড পারফরম্যান্স আছে, কিন্তু অনীক কোথায় আপনার টাচ?

ছবির নামে রহস্য। ফিল্মে রহস্য কই? লিখছেন শঙ্করলাল ভট্টাচার্য

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১০:১৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১০:১৬

options
link
অল রাউন্ড পারফরম্যান্স আছে, কিন্তু অনীক কোথায় আপনার টাচ? zoom

ছবির নামে রহস্য। ফিল্মে রহস্য কই? লিখছেন শঙ্করলাল ভট্টাচার্য

অনীক দত্ত’র ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ দেখে বিলকুল হেলে গিয়েছিলাম৷ গোটা ছবিতে হেন সিকোয়েন্স নেই যেখানে মজার আচমকা বিস্ফোরণ নেই৷ সুরে, সংলাপে, কাহিনির ঝোঁক-ফাঁকে সারাক্ষণ একটা ‘কী-হয়? কী-হয়?’ ভাব৷ রসের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে একটা রহস্যও৷

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অতীব স্মার্ট ডায়ালগ, ঝাঁ চকচকে সিনেমাটোগ্রাফি, চমৎকার অভিনয় সমাবেশ, প্রায় নিখুঁত সম্পাদনা এবং বেশ দক্ষ পরিচালনা সত্ত্বেও ‘মেঘনাদবধ রহস্য’-র রহস্যটা যে কী ও কেন, সেটা ঠাওরাতেই দর্শক এবার হেলে পড়ল৷ যে অনীক দত্তকে বাংলা ছায়াছবির ভবিষ্যৎ ভাবছিলাম অ্যাদ্দিন (এখনও ভাবি) তিনি এবার বাংলার সাহিত্য ও রাজনীতির অতীত নিয়ে পড়েছেন৷ তাঁর কাহিনি বিন্যাসের দুই মেরুতে মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ও নকশাল আন্দোলন৷ সাহিত্য ও দর্শনের টেক্সটকে রহস্যকাহিনির অঙ্গীভূত করার দুরন্ত চর্চা আছে বিদেশে (উম্বের্তো একো-র ‘দ্য নেম অফ দ্য রোজ’ যার এক অপরূপ নিদর্শন), আর তাকে সিনেমায় প্রয়োগ করারও তুখড় কেরামতি দেখিয়েছেন জঁ জাক আনো-র মতো কেউ কেউ৷ সেদিক দিয়ে অনীক বেশ একটা নতুন হাওয়াও আনলেন বাংলায় ৷

[পোস্টারে কেন কাটা হল মধুসূদনের নাম, অনীকের ছবি ঘিরে বিতর্ক]

তবে সমস্যা এটাই যে, রহস্য গল্পকে শেষ অবধি রহস্য গল্প হতেই হয়৷ অর্থাৎ তাকে গল্প হয়ে উঠতেই হবে৷ সাহিত্য—সংস্কৃতি—দর্শন— রাজনীতির তাবৎ পরত পেরিয়ে৷ এবং তা যতই জটিল ও দুর্বোধ্য হোক, তাঁর গড়ন ও সমাধান হতে হবে স্বচ্ছ ও সাবলীল৷ অনীকের এই ছবিতে ক্রমাগত চরিত্র আমদানি ও সংলাপের ধার ও ভার বাড়ানোর যতখানি নজর দেখা গেল তার অনেকটাই যেতে পারত গল্প বাঁধায়৷ আর একটা কথা–যেটা সত্যজিৎ খুব সুন্দর দেখিয়েছেন গল্পে৷ গল্পে– রহস্যকাহিনিকে সুন্দর ছাঁচে গড়লে ও তার সমাধান জোগালে তা প্রায় সিনেমার মতোই হয়ে যায়৷ কাহিনি বিস্তারের যত ডিটেলে গিয়েছে ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ ততই গল্পটা সরে গিয়েছে রহস্য থেকে৷ তাতে অতি পোক্ত সিনেমার কারিকুরিও কাজে দেয়নি৷

ছবির নায়ক অসীমাভ বসুর (সব্যসাচী) নতুন বইয়ের জমজমাট উদ্বোধন দিয়ে ছবির শুরু৷ তিনি অক্সফোর্ড নিবাসী এবং ইংরেজিতেই লেখেন৷ কলকাতায় এসে তিনি সাধু বাংলায় একটা গল্প লেখা ধরলেন৷ নাম রাখলেন ‘স্বীকারোক্তি’৷ স্বীকারোক্তি কেন এবং কতখানি, তা জানতে ছবিটা দেখতে হবে৷ অসীমাভর দ্বিতীয়া স্ত্রী ইন্দ্রাণী (গার্গী) যতখানি গর্বিত স্বামীর কাজ ও যশে প্রায় ততখানিই অনুরক্ত মধ্যবয়সি ফিল্মমেকার বন্ধু কুণালের (আবির) প্রতি৷ স্বামীর সঙ্গে ইন্দ্রাণীর বয়সের ফারাকটা চোখকাড়া৷ হঠাৎ এক সকালে অসীমাভর নিরুদ্দেশ হওয়ার পিছনে এই বন্ধুটির যোগ কি কিছু ঘটায়? এরকম অনেক যোগ ও বিয়োগই কারণ হতে পারে৷ কিন্তু যেভাবে গল্পটা গড়ায় তাতে দর্শকের কৌতূহল আর বিশেষ গড়ায় না৷ চকচকে সংলাপ, নকশালবাড়ি, চার্চিল, নোটবন্দি, পোয়ারো, টিনটিন কমিক্সের গোয়েন্দাযুগল টমসন অ্যান্ড টমসন ইত্যাদি রেফারেন্সে মজে যাই আমরা৷ আর হ্যাঁ, ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যে ৷

‘মেঘনাদবধ রহস্য’-য় অভিনয়ের সুন্দর সুযোগ পেয়েছেন সব্যসাচী, গার্গী, আবির, বিক্রম, কল্যাণ ও সায়নী৷ পার্শ্বচরিত্রের সংখ্যাও রীতিমতো বড়, এবং সেখানেও চোখে পড়ার মতো কাজ আছে৷ শেষ অবধি ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ অনীক দত্তরই একটা সিগনেচার অফারিং, নানা দিক দিয়ে৷ একটা অল রাউন্ড পারফরম্যান্স৷ যাঁরা সিনেমা ভালবাসেন তাঁরা এই ছবি অবশ্যই দেখুন, একটা ভিন্ন স্বাদের জন্য৷ যাঁরা রহস্য ভালবাসেন তাঁরা আর একটু অপেক্ষায় থাকুন, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ নির্মাতার ভবিষ্যৎ রহস্যের জন্য৷

মেঘনাদবধ রহস্য

পরিচালক: অনীক দত্ত

অভিনয়: সব্যসাচী চক্রবর্তী, গার্গী রায়চৌধুরি, আবির চট্টোপাধ্যায়, বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.