সকাল না হতেই জলদি ঘুম থেকে উঠে পড়া। এইদিনে পরনে নতুন পাঞ্জাবি চাই-ই। একদিনের স্বাধীনতা। স্কুলের পুজো, অঞ্জলি, কুল খাওয়া, শাড়ি পরা বান্ধবীদের অন্য চোখে দেখা। সেইসব নস্টালজিয়ার কথা বললেন সেলেবরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ চক্রবর্তী ও তিতাস।
ঋদ্ধি সেন
আমি সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র। আমাদের জুনিয়র স্কুলে একটা সরস্বতী ঠাকুরের বড় মন্দির রয়েছে, সেখানে প্রতি বছর ভীষণ সুন্দর পুজো হয়, আমি যেতাম। এছাড়া স্কুল জীবনের পুরোটাই স্কুলের পুজো নিয়ে একটা আলাদা এক্সাইটমেন্ট থাকত। এই দিনটা আমার কাছে সবচেয়ে ভাললাগার বিষয় ছিল – পড়াশোনা না করা। এদিন একেবারে ছুটি। সমস্ত বইখাতা ঠাকুরের পায়ের কাছে রেখে দিয়ে শুধুই আনন্দ করার দিন। স্কুলের পাশাপাশি বাড়িতেও পুজো হয়। খুব বড় করে না হলেও এখনও প্রতি বছরই বাড়িতে সরস্বতী পুজো করা হয়। তবে আরও একটা কারণে আমার সরস্বতী পুজোর দিনটা বিশেষ ভাললাগার। ২০১৫ সালের সরস্বতী পুজোর দিনই আমি সুরঙ্গনাকে প্রোপোজ করি। একরকম মিউচুয়াল প্রোপোজাল ছিল। তবে খাওয়াদাওয়াতেও আমার বেশ ইন্টারেস্ট থাকে এদিন। এই একটা দিন নিরামিষ খেতে বেশ ভালই লাগে। মিষ্টি দই, নাড়ু, ফলপ্রসাদ, পাঞ্জাবি পরে অঞ্জলি দেওয়া – সব মিলিয়ে দারুণ উপভোগ করি।

বিশ্বনাথ বসু
আমি গ্রামের ছেলে, বসিরহাটের আড়বালিয়া গ্রামেই বড় হয়ে ওঠা। সরস্বতী পুজো, বিশেষ করে যখন প্রাইমারিতে পড়ি, তখন ছিল ভীষণ আনন্দের। কারণ তখন পুজোর আগের দিন বাজারে যেতাম মাস্টারমশাইদের সঙ্গে। আলু ছাড়াতাম আলুর বস্তার ওপর ঘষে ঘষে। তিনটের মধ্যে ঠাকুর নিয়ে চলে আসা হত। তারপর বিকেলে গোছানো হত। একদল ঠাকুর গোছাত এবং আর একদল পরের দিনের সবজি অর্থাৎ রান্নার গোছগাছ করত। ঠাকুর গুছিয়ে সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে অনেক রাত অবধি ঠাকুর সাজাতাম। এবার ক্রমে বড় হতে থাকলাম। ধীরে ধীরে বুঝতে শিখলাম, আমার মধ্যে শুধু বিশ্বনাথ নেই, একজন উত্তমকুমারও লুকিয়ে আছে আর সুচিত্রা সেনরা সব শাড়ি পরে আমার চারপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চোখে ধাঁধা লেগে গেল। তখন স্কুলে যাওয়া ছিল আলাদা মজার। যেতাম, মজা করতাম, পাশের স্কুলে ঘুরে আসতাম, আর প্রচুর খেতাম। সরস্বতী পুজোয় মিষ্টি প্রেমও হয়েছে। যখন নাইন-টেন-এ, তখন আমি সুপারস্টার। তবে কী, গ্রামে সবকিছুর মধ্যেই সুন্দর একটা সীমারেখা ছিল। তার বাইরে বেরোইনি কখনও। ক্লাস ইলেভেন হলে প্রত্যেক বছর পুজোর দায়িত্ব থাকে। আমাদেরও ছিল। পুজোর দিন হত খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি, পুজোর পরদিন লুচি-আলুর দম আর বোঁদে। ক্লাস টুয়েলভের সরস্বতী পুজোয় আমার মনখারাপ ছিল, কারণ আমার ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল তখন। যেমন হয় ছোটবেলায় আর কী। ব্যস এই করেই কেটে গেল ছোটবেলার সরস্বতী পুজো। বড় হয়েও পরিবার নিয়ে সরস্বতী পুজোয় গিয়েছিলাম গ্রামে। স্কুলে গিয়ে ভোগ খেয়ে এসেছি।
রুদ্রনীল ঘোষ
ছোটবেলার সরস্বতী পুজোর কথা ভাবলে একটা নস্টালজিয়ায় ভুগি এখনও। এখনও প্রতি বছর যখন দেখি ক্লাস এইট-নাইনের পড়ুয়ারা শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে স্কুলের গেটের সামনে জটলা বেঁধে আড্ডা দিচ্ছে, তখন ভীষণ হিংসে হয়। ছোট থেকে বাড়িতে ও স্কুলে দু’জায়গাতেই পুজো হত। আমার আঁকার হাত বরাবরই ভাল, তাই স্কুলে সাজানোর দায়িত্ব পড়ত আমার ওপর। বাড়িতে মা-বাবা শিক্ষকতার পাশাপাশি যেহেতু শিল্পী ছিলেন, সেখানে আমার কাজ ছিল হেল্পারের। তবে স্কুলে আমিই চিফ। সাতসকালে স্নান সেরে, না খেয়ে অঞ্জলি দেওয়া, ভোগ খাওয়া, দু’দিনের জন্য পড়াশোনার পাততাড়ি গুটিয়ে ফ্যালার মতো নির্ভেজাল আনন্দ এখন আর সত্যিই নেই। এই একটা দিন পাঞ্জাবি পরে মোড়ের মাথায় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে শাড়ি পরা মেয়েদের দিকে চোখ তুলে তাকানো, বা টুকটাক দু’একটা কথা বলার মধ্যে সে যে কী রোমাঞ্চ, তা বলে বোঝাতে পারব না। এখনকার মতো তখনকার প্রজন্মে ছেলেমেয়েরা খোলাখুলি মিশতে পারত না। এই একটা দিন সবার সঙ্গে কথা বলার লাইসেন্স পেতাম। ‘তোমার নাম কী?’, ‘কোথায় থাকো’-হয়তো এইটুকু কথা হত সবমিলে, তাতেই মন একেবারে উড়ুউড়ু। আরও একটা বিষয় ছিল, সুবোধ বালক সেজে মেয়েদের স্কুলে পুজো দেখতে যাওয়া। এদিন যেন সবাই ঐশ্বর্য রাই। একজনের দিকে তাকিয়ে রইলাম, দেখলাম সে হয়তো অন্য কোনও এক ছেলের সঙ্গে গল্প করতে করতে এগিয়ে গেল। পরক্ষণেই অন্যের দিকে চোখ ফেরালাম। কাউকে সেদিন মন্দ লাগত না, সবাই সেদিন অদ্ভুত স্নিগ্ধ সুন্দরী।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার