সৌমিতা মুখোপাধ্যায়: জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাটোগ্রাফার শঙ্কর রমন এবার পরিচালকের আসনে। মুক্তির অপেক্ষায় তাঁর ক্রাইম থ্রিলার ‘গুরগাঁও’। এই ছবিতে অন্যতম মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাগিনী খান্নাকে। মুম্বই থেকে টেলিফোনে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-কে এ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানালেন রাগিনী।

ছোটপর্দার হাসিখুশি রাগিনী খান্নাও এবার গুরুগম্ভীর ক্রাইম থ্রিলারে?
রাগিনী: (হেসে) হ্যাঁ কিছুটা তাই। খুবই সিরিয়াস একটি ছবি ‘গুরগাঁও’, কিন্তু সবার ভাল লাগবে। ছবিতে আমি ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, যাঁরা খুব ভাল অভিনয় করেছেন। এই ছবির হিরো অবশ্যই স্ক্রিপ্ট। আমি যখন প্রথম এই স্ক্রিপ্ট শুনি, ছবিতে কে আছে না আছে বা আমি নিজে কতটা স্পেস পাব সেসব না ভেবেই হ্যাঁ করে দিই। কারণ চিত্রনাট্যটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।আমি নিশ্চিত, দর্শক এ ছবি দেখে চমকে উঠবেন।
প্রীত সিং, যে চরিত্রে তুমি অভিনয় করেছ, তা রাগিনীকে অভিনেত্রী হিসাবে কতটা সমৃদ্ধ করেছে?
রাগিনী: সত্যি কথা বলতে কি আমি প্রায় আট বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। কিন্তু এই চরিত্রটা বেশ অন্য ধরনের ছিল। অভিনেত্রী হিসেবে এই চরিত্র সত্যিই আমাকে অনেকটা সমৃদ্ধ করেছে। আমি নিজে নিজেকে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পেরেছি এই চরিত্রটার মধ্যে দিয়ে, সেটাই আমার পাওনা।
প্রীত ঠিক কেমন? রাগিনীর সঙ্গে কোন চরিত্রগত মিল আছে তাঁর?
রাগিনী: প্রীত একজন আর্কিটেক্ট যে প্যারিস থেকে ভারতে আসে। আর তারপর তার সঙ্গে কয়েকটা ঘটনা ঘটে যায়। প্রীত ভীষণই বুদ্ধিমতী। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে থাকে। শুটিং চলাকালীন বেশ কিছু সিকোয়েন্সে আমি নিজেকে প্রীতের সঙ্গে অনেকটাই কানেক্ট করতে পেরেছি।
[বহু বছর পর অ্যাওয়ার্ড সেরিমনির মঞ্চে আমির খান]

এটা তো সত্যি ঘটনা অবলম্বনে?
রাগিনী: না, এটাকে ঠিক কোনও সত্যি ঘটনা অবলম্বনে বলা যায় না। দুটো ঘটনাকে একসঙ্গে জুড়ে একটা গল্প লেখা হয়েছে। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত বলতে পারি।
সম্প্রতি অনুরাগ কাশ্যপ এই ছবি দেখে বলেছেন, ‘গুরগাঁও’ এই মুহূর্তের সেরা সাসপেন্স থ্রিলার।
রাগিনী: এটা আমার কাছে বড় পাওনা। ওঁর মতো একজন পরিচালকের যদি আমাদের এই টিম ওয়ার্ক ভাল লেগে থাকে, তাহলে সত্যিই সেটা আনন্দের। কারণ সবাই মিলে খুব খেটে এই ছবি বানিয়েছি, তাই এই ধরনের প্রশংসা খুবই ভাল লাগে।
ছোটপর্দা না বড়পর্দা কোনটা তোমার কাছে প্রথম পছন্দ?
রাগিনী: দেখো, আমি দুটোকেই কাজ হিসাবে দেখি। ছোটপর্দা হোক বা বড়পর্দা, দুটোই আমার কাছে সমান। চরিত্র ভাল হলে, অভিনয়ের সুযোগ থাকলে মেগা সিরিয়াল বা ছবি আমার কাছে আলাদা নয়। ভাল চরিত্র যেখানে পাব সেটাই করব, মাধ্যম যাই হোক না কেন। তবে হ্যাঁ, মেগা থেকে ফিচার ফিল্মে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় যে পার্থক্য, সেটা হল ডিটেলিং। ছোটপর্দায় আমরা রোজ ২২ মিনিট করে পাচ্ছি আর বড়পর্দায় আমাদের সবটাই ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে বলতে হবে।
এখনও পর্যন্ত যে যে ছবি করেছ, কোনওটাই আউট অ্যান্ড আউট কমারশিয়াল ছবি নয়, তুমি কি অন্যধারার ছবিই বেশি পছন্দ করো?
রাগিনী: আসলে সেরকম কোনও ব্যাপার নয়, আমি চিত্রনাট্য বাছার ক্ষেত্রে দু’জনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। কারণ চিত্রনাট্য আর পরিচালনা এই দুটোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
[চাঁদের তাগিদে নাসার অন্দরমহলে সুশান্ত সিং রাজপুত]

বলিউডের প্রিয় পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কে?
রাগিনী: পরিচালকের কথা বললে আমি শমিত আমিনের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আর লেখক যদি বলি, (অনেক ভেবে) জয়দীপের কথা বলব। জয়দীপের স্ক্রিপ্ট বেশ ভাল লাগে।
‘গুরগাঁও’ তো রিলিজ হতে চলেছে, দর্শক কেন দেখবে এই ছবি?
রাগিনী: আমি একটাই কথা বলব, টেকনিক্যালি খুব সুন্দরভাবে তৈরি করা হয়েছে ‘গুরগাঁও’। পরতে পরতে রয়েছে চমক। সবমিলিয়ে দর্শকদের ভাল লাগবে।
আগামিদিনে টেলিভিশন না সিনেমা কোনটায় দেখা যাবে তোমাকে?
রাগিনী: এখন আর কিছু না, শুধু ‘গুরগাঁও’এর প্রচার। আর সব বলে দিলে তুমি আর ফোন করবে না, তাই আবার যাতে আড্ডা দেওয়া যায়, তাই আগামীর কথা আগামিদিনে বলব। (হাসি)
সর্বশেষ খবর
-
পালাবদল হতেই আন্দোলনের পথ ছাড়ল কুড়মিরা, রেল-সড়ক অবরোধ থেকে সরে আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীকে
-
বিনা যুদ্ধে নাহি দিব… হেরেও অমলিন থাকবে ভোজিনহাদের রূপকথা, কষ্টের জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা
-
নির্দল থেকে চেয়ারম্যান পদে! তৃণমূলের সমর্থনে কামারহাটির পুরপ্রধান লকেটের দাদা
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’