BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

গুলবার্গ গণহত্যা মামলায় রায় ঘোষণা, দোষী সাব্যস্ত ২৪

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 2, 2016 2:44 pm|    Updated: June 2, 2016 3:01 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রায় ঘোষণা হল গুলবার্গ সোসাইটি মামলার৷ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন আহমেদাবাদের বিশেষ আদালতের বিচারপতি পিবি দেশাই৷ এই মামলায় ৬৬ জন অভিযুক্তর মধ্যে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত৷ উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ৩৬ জনকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে বিশেষ আদালত৷ ২৪ জন দোষীর মধ্যে ১১ জনকে খুনের মামলায়, ১৩ জনকে অন্য ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত৷ আগামী ৬ জুন এই মামলায় সাজা ঘোষণা করবে আদালত৷ দোষীদের মধ্যে আছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা হরেশ ভাট, অতুল বৈদ্য এবং জয়দীপ প্যাটেল৷ এছাড়া আছে বিজেপি কাউন্সিলর বিপিন প্যাটেল এবং কংগ্রেস কাউন্সিলর মেঘসিং চৌধুরী৷ এছাড়া সঠিক ভাবে দায়িত্ব না পালন করায় এবং তথ্য প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে মেঘানিনগর থানার পুলিশকর্মী কেজি এরদা৷ এই রায়ের পর সারা আহমেদাবাদ জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি হয়েছে৷

২০০২ সালে গোধরা রেলস্টেশনে সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-৫ কোচে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ ট্রেনের মধ্যে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৫৮ জন করসেবকের৷ এরপরেই গুজরাত জুড়ে দাঙ্গার আগুন জ্বলে ওঠে৷ ২০০২ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদের চামানপুরা এলাকায় মুসলিম অধ্যুষিত গুলবার্গ সোসাইটিতে হামলা চালায় ২০ হাজার জনতা৷ হাউজিং কমপ্লেক্সের দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে উত্তেজিত জনতা৷ ঘরগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ টেনে হিঁচড়ে বের করে আনা হয় কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরিকে৷ সাহায্যের জন্য তিনি পুলিশ-প্রশাসন, স্থানীয় নেতাদের ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেনি বলে অভিযোগ৷ নৃশংস ভাবে কুপিয়ে, জীবন্ত জ্বালিয়ে খুন করা হয় গুলবার্গ সোসাইটির ৬৯ জন বাসিন্দাকে৷ ৩৯ জনের দেহ উদ্ধার হলেও ৩১ জনের দেহ পাওয়া যায়নি৷ এই নিখোঁজদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরি এবং বছর চোদ্দোর পারসি বালক আজহার মোদি৷ সাত বছর পর নিখোঁজদের মধ্যে তিরিশ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করে গুজরাত সরকার৷ একজনকে জীবিত খুঁজে পাওয়া যায়৷

নিহত কংগ্রেস সাংসদের স্ত্রী গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে হামলায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন৷ সাত বছর ধরে চলে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি৷ নরেন্দ্র মোদি সহ-৩৩৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়৷ শুনানি চলাকালীন মৃত্যু হয় ৫ অভিযুক্তর৷ নয় জন অভিযুক্ত ইতিমধ্যে জেলে কাটিয়েছে ১৪ বছর৷ বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় প্রাক্তন সিবিআই প্রধান আরকে রাঘবনের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (সিট)৷ শুনানি শেষ হয় গত সেপ্টেম্বরে৷ ৩১ মে-র মধ্যে রায় ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement