৩১ ভাদ্র  ১৪২৬  বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তথ্য চুরির অভিযোগে ফেসবুককে নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক। ওই নোটিসের জবাব না দিলে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে শমন পাঠানোরও হুঁশিয়ারি দেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এক বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাল কেন্দ্রকে। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, ঠিক কতজন ভারতীয়র তথ্য চুরি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে কীভাবে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ভারতীয় ইউজারদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাও ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

[৮৭ মিলিয়ন গ্রাহকের তথ্য চুরির অভিযোগ স্বীকার করল ফেসবুক]

ফেসবুক জানিয়েছে, ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা যেভাবে আলেকজান্দ্রা কোগানের অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সংস্থা গ্লোবাল সায়েন্স রিসার্চ লিমিটেডের জন্য ফেসবুক ইউজারদের তথ্য চুরি করেছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এভাবে ইউজারদের তথ্য চুরিতে ফেসবুকের কোনও সম্মতি ছিল না। ভারতীয় ইউজারদের গোপনীয়তাকে আমরা সম্মান জানাই। thisisyourdigitallife অ্যাপের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে আমাদের সদর দপ্তরের উদ্যোগে।’ ভারতে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করেন ৩৫৫ জন ফেসবুক ইউজার। অ্যাপটি মোট যতবার ডাউনলোড হয়েছে, তার ০.১%।

এবার আসা যাক রিপোর্টটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে। মোট কতজন ভারতীয় ইউজারের তথ্য চুরি যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে? উত্তরে ফেসবুক জানাচ্ছে, ৫,৬২,১২০ জন ভারতীয়র তথ্য চুরি যেতে পারে। এরা প্রত্যেকে ওই ৩৫৫ জনের বন্ধু, পরিচিত বা অন্য কোনওভাবে ফেসবুক সূত্রে আবদ্ধ। যাঁরা মূল অ্যাপটি ডাউনলোড করেছিলেন, তাঁদের ফেসবুক ফ্রেন্ডরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে এ দেশের প্রায় ৫,৬২,৪৫৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রভাবিত হয়েছেন তথ্য চুরির ঘটনায়। শতাব্দীর সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির ঘটনা স্বীকার করে এই প্রথম ক্ষতিগ্রস্তদের পরিসংখ্যান ভারতকে দিল মার্কিন সংস্থাটি। ভারতে এই মুহূর্তে ২৫ কোটিরও বেশি ইউজার রয়েছে ফেসবুকের।

তথ্য চুরির জোরাল ঢেউ আছড়ে পড়েছে মার্কিন নাগরিকদের উপর। প্রায় ৮ কোটি ৭ লক্ষ মার্কিন নাগরিকের তথ্য চুরির অভিযোগে আসন্ন সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসে হাজিরা দিতে হবে মার্ক জুকারবার্গকে। বিশ্ব জুড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ ওই অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মার্কিন নাগরিক। ফেসবুক এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। জুকারবার্গের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে, কী কী শর্ত পূরণ করলে ফেসবুকে থার্ড পার্টি অ্যাপকে জায়গা দেওয়া হয়! তবে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় তথ্য চুরির এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফেসবুক তাদের প্রাইভেসি পলিসিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু যেভাবে ফেসবুকের বাজারদর ক্রমশ পড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে বড়সড় কোনও রদবদল না আনলে সংস্থাটি জনপ্রিয়তা হারাতে পারে বলেই বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান। তবে জুকারবার্গ একথাও বলেছেন, যে এখনই ফেসবুকের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না। তিনিই সংস্থাটি চালানোর পক্ষে সেরা ব্যক্তি, জোর গলায় একথা বলেন জুকারবার্গ।

[তথ্য চুরির শঙ্কায় ভুগছেন! জানেন ফেসবুক ও গুগল আপনার সম্পর্কে কী কী জানে?]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং