১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

তিন নম্বর বেসক্যাম্পে বিভীষিকার রক্তচক্ষু!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 13, 2016 7:19 pm|    Updated: July 13, 2016 7:21 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই খুব রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছেন ভূত বিশেষজ্ঞ গৌরব তিওয়ারি৷ ভূত বিশেষজ্ঞের মৃত্যুর পর অশরীরীর উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বাড়ছে বৈকি৷

আজ এমনই একটি সত্য ঘটনা সম্পর্কে জানাব৷ অভিজিত পাটিল নিজে অশরীরীর দেখা পেয়েছেন মানালিতে ট্রেকিং করতে গিয়ে৷ অভিজিত এবং তাঁর বন্ধুরা মানালিতে গিয়েছিলেন ট্রেকিংয়ে৷ বেশিদিন আগের ঘটনা নয়৷ ২০১৫ সালের মে মাসে তাঁরা ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন৷ বেসক্যাম্পের তিন নম্বর ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল অভিজিত ও তাঁর বন্ধুদের৷ সারাদিন হেঁটে বেশ ক্লান্তই ছিলেন তাঁরা৷ ট্রেকিং করতে বাকি যাঁরা এসেছিলেন তাঁরা বেশিরভাগই নাকি বেসক্যাম্পে রাত্রিযাপন করতে চাননি৷ ফিরে গিয়েছিলেন নিজেদের গন্তব্যে৷ কিন্তু সারাদিন প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ চলার পর হাঁপিয়ে গিয়েছিলেন অভিজিত ও তাঁর বন্ধুরা৷ তাই তাঁরা ক্যাম্প নম্বর তিনেই রাত কাটাবার সিদ্ধান্ত নেন৷
অভিজিত জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রুপলিডার তাঁদের রাতে একা তাঁবুর বাইরে যেতে বারণ করেছিলেন৷ কিন্তু রাত তিনটের সময় অভিজিতের হঠাৎই খুব টয়লেট যাওয়ার প্রয়োজন পরে৷ বাইরে তখন তাপমাত্রা শূণ্য ডিগ্রির কম৷ অসম্ভব ঠাণ্ডায় বন্ধুবান্ধব প্রায় অকাতরে ঘুমোচ্ছেন৷ অভিজিত দু’তিনবার বন্ধুদের ডাকেনও৷ কিন্তু কেউই ঘুম থেকে উঠে তাঁর সঙ্গে যাননি৷ অগত্যা একাই টয়লেটে গিয়েছিলেন অভিজিত৷
অভিজিত জানিয়েছেন সেদিন বাইরে চাঁদের আলো ছিল৷ বরফের উপর চাঁদের আলো পড়েছিল৷ তাই চারপাশে প্রায় দিনের আলোর মতো লাগছিল৷ কিন্তু বিপদ বাধলো টয়লেট থেকে ফেরার সময়৷ সবে ফ্লাশ করে অভিজিত ক্যাম্পে ফেরার জন্য মুখ ফিরিয়েছেন৷ হঠাৎই দেখলেন বাইরে চারপাশ নিকষ অন্ধকার৷ অন্ধকার দেখে ঘাবড়েই গিয়েছিলেন তিনি৷ কিন্তু তারপর যা হল তা আরও ভয়াবহ৷ দুটি লাল চোখ হঠাৎই তাঁর দিকে এগিয়ে এসে তাঁকে হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলল কোনও অচেনা জায়গায়৷ ওই অশরীরীর চেহারা কেমন তা বুঝে উঠতে পারেননি অভিজিত৷ প্রাণ বাঁচাতে তখন চিৎকার করছেন৷ যন্ত্রণায় ছটফট করছেন৷ ওই বীভৎস মূর্তি যখন তাঁকে এক জায়গায় এনে ফেলল সে দেখতে পেল সামনে কবর! এরপর আর তাকিয়ে থাকতে পারেননি তিনি৷ জ্ঞান হারিয়েছিলেন৷
এরপর যখন তাঁর জ্ঞান আসে, তিনি লক্ষ্য করেন তাঁর বন্ধুরা তাঁর পাশেই রয়েছে৷ কিন্তু তাঁরা একটি কবরখানার মধ্যে রয়েছে৷ বন্ধুরা তাঁকে জানান, তাঁর গলার আওয়াজ অনুসরণ করেই সেই কবরস্থানে পৌঁছেছিলেন তাঁর বন্ধুরা৷
এই অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন তাঁরা ক্যাম্প থেকে ফিরে স্থানীয় লোকদের জানিয়েছিলেন তখন তাঁদের কথা শুনে আরও অবাক হয়েছিলেন অভিজিত৷ কারণ তাঁরা জানিয়েছিলেন ওই কবরখানা থেকে কেউ জীবিত ফেরেননি আগে৷ অভিজিতই প্রথম৷ কোন এক ব্রিটিশ ট্রেকার বহুদিন আগে সেখানে ট্রেক করতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু স্থানীয় লোকেরা তাঁকে হত্যা করে৷  আর তারপর থেকেই সেই ব্রিটিশ ট্রেকারের অশরীরী সেখানে ঘুরে বেড়ায়৷
কিন্তু বেসক্যাম্পের কাছে ওই কবরখানা কথা থেকে এল? স্থানীয়রা জানিয়েছেন ব্রিটিশরা এই কবরখানা বানিয়েছিলেন৷ সেখানে শেয়ালের ভয় খুব৷কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভয়ের সেই ব্রিটিশ ট্রেকারের অশরীরী৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement