BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

আরও কোণঠাসা চিন-পাকিস্তান, এনএসজি ইস্যুতে ভারতের পাশে রাশিয়াও

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 13, 2016 11:28 am|    Updated: June 13, 2016 11:32 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক পরমাণু ক্লাবে ভারতের প্রবেশ নিয়ে চিনা গড়িমসির বিরুদ্ধে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ খেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনকে টেলিফোন করলেন মোদি৷ শনিবার মোদি মহা গুরুত্বপূর্ণ এই ফোনটি করেন৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সবসময়ই সমর্থন জানিয়ে এসেছে ‘সুপারপাওয়ার’ রাশিয়া৷ সেই মোতাবেক এনএসজি-তে ভারতের প্রবেশের উপর বেজিংয়ের কালো মেঘ সরাতে পুতিনকে সুকৌশলে ব্যবহার করতে চায় নয়াদিল্লি৷

(সুর নরমে বাধ্য হল চিন, এনএসজি-তে ভারতের প্রবেশ নিশ্চিত!)

মোদির ফোনের খবর মেনে নিয়ে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক রয়েছে৷ ভারতের পাশে রাশিয়া সবসময় থাকবে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন৷ দ্রুতই দুই রাষ্ট্রপ্রধান একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন৷ সূত্রের খবর, সিওলে এনএসজি-র চূড়ান্ত বৈঠকের আগেই রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে পারেন মোদি৷ চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে মোদির৷

বেজিং বরাবরই এনএসজিতে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছে৷ কারণ ভারত এখনও “পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি৷ চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হং লি অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, “পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর করেনি এমন কোনও দেশকে ৪৮ সদস্যের এনএসজিতে ঠাঁই দেওয়া যায় না৷ বিষয়টি নিয়ে প্রভূত মতপার্থক্য রয়েছে৷ এনপিটিতে স্বাক্ষর না করা কোনও দেশকে এনএসজি-র অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আরও আলোচনা প্রয়োজন৷ আলোচনার মাধ্যমেই মতৈক্যে পৌঁছনো সম্ভব৷ একমাত্র সর্বসম্মতির ভিত্তিতেই নতুন কোনও দেশকে এনএসজি-র সদস্যপদ দেওয়া যেতে পারে৷ এনএসজিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য এনপিটিতে স্বাক্ষর করাই মূল কথা৷” যদিও আমেরিকা-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে ভারতের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্বীকার করে নিয়ে নয়াদিল্লিকে এনএসজিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি সমর্থন করেছে৷

(এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে আফ্রিকা সফরে রাষ্ট্রপতি)

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ এনএসজি-র সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে ভারতকে সমর্থন করার বিষয়ে আমেরিকা-সহ একাধিক দেশের আশ্বাসও আদায় করে নিয়েছেন তিনি৷ তবে শুধু চিন একা নয়, নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রিয়াও এনএসজিতে ভারতের অন্তর্ভুক্তির দাবির বিরোধিতা করছে৷ বিরোধী দেশগুলির দাবি, এনপিটিতে স্বাক্ষর না করা কোনও দেশকে এনএসজি-র সদস্যপদ দেওয়া হলে পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধের কাজ ব্যাহত হবে৷ একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ হবে পাকিস্তান৷ এনএসজি-র সদস্যপদ নিয়ে চিন বরাবরই পাকিস্তানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে৷ যদিও এনএসজির প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রই চিনের এই দাবির বিরোধিতা করেছে৷ এক পাক পরমাণু বিজ্ঞানী যেভাবে ইরান ও উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু প্রযুক্তি পাচার করেছেন সে বিষয়টি উল্লেখ করে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি কতটা সুরক্ষিত সে বিষয়ে প্রশ্নও তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল৷

এনএসজি-র মূল কাজ হল পরমাণু অস্ত্রের প্রসার রোধ করা৷ অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে পরমাণু জ্বালানি কেনার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিরোধ করা হল এনএসজি-র উদ্দেশ্য৷ চলতি পরিস্থিতিতে ২০ জুন সিওলে এনএসজি ভুক্ত দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে৷ ওই বৈঠকেই ভারতের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে৷ শেষ মুহূর্তে ওবামার পর রুশ প্রশাসনও যেভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে এনএসজি-তে ঢোকা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে মোদি সরকার৷

সুর নরম বিরোধীদের, এনএসজি-তে ভারতের ঢোকা প্রায় পাকা

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement