সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সঙ্গীতের সীমানা! হয় কি? রাজনৈতিক ভেদাভেদকে মলম লাগাতে যখন দু’দেশ বা দুই রাজ্যের সিনেমা, শিল্প, সঙ্গীতকেই কাজে লাগানোর কথা বলছেন সমাজকর্মীরা, তখন অসমে সঙ্গীত শিল্পী শান-এর একটি কনসার্টে স্রেফ বাংলা গান গাওয়ার জন্য অপমান করা হল তাঁকে। মঞ্চে শিল্পীকে লক্ষ্য করে উড়ে এল কাগজের বল, এমনকী ছোড়া হল পাথরও। দর্শকদের একটি অংশ চিৎকার করে বলতে থাকল ‘এটা বাংলা নয়, অসম।’ হতভম্ব শান এরপরই গান থামিয়ে দেন। দর্শকদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, “এটাকে রাজনৈতিক সভা বানানোর চেষ্টা করবেন না। আমি একজন শিল্পী। শিল্পীর কোনও দেশ বা রাজ্য হয় না। সঙ্গীতেরও না। একজন শিল্পীর সঙ্গে এরকম করবেন না।” বলেই মঞ্চ ছেড়ে নেমে যান গায়ক।
[মালেগাঁও কাণ্ডে বিপাকে কর্নেল পুরোহিত, ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ]
সোমবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটির সারুসাজাই স্টেডিয়ামে ঘটনাটি ঘটে। শান অবশ্য ওইদিন উদ্যোক্তাদের অনুরোধে ফের মঞ্চে ওঠেন। কিন্তু, পরে টুইটারে এবিষয়ে নিজের ক্ষোভের কথা জানান শান। লেখেন, “আমার এই প্রতিবাদ কোনও একজন বা দর্শকদের কোনও একটি অংশের জন্য নয়। বরং সেই সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে যাঁরা আঞ্চলিক বিভাজনের নীতিতে বিশ্বাস করেন। আমার আশা আজকের প্রজন্ম এই বিভাজনের ফাঁদে পড়বে না।” অসমের অনেকেই এমন ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চান তাঁর কাছে। ঘটনাটি অনভিপ্রেত বলেও জানান অনেকে। জবাবে ভক্তদের উদ্দেশে শান লেখেন, “আমারও মাথা ঠান্ডা রাখা উচিত ছিল। আমি দুঃখিত তোমাদের পার্টি নষ্ট করার জন্য। অসম সফর আমার ভালে লেগেছে। অনেক নতুন জায়গা দেখেছি। নতুন বন্ধুও হয়েছে। একটি অবাঞ্ছিত ঘটনার জন্য একটি গোটা রাজ্যকে দোষারোপ করব, আমি এমন মানুষ নই।”
এবার প্রশ্ন উঠছে, অসমে কি ফের উগ্র প্রাদেশিকতা মাথা চাড়া দিচ্ছে? ফের কি ফিরে আসবে আটের দশকের ‘বাঙালি খেদাও’ আন্দোলন৷ প্রসঙ্গত, এনআরসি ইস্যু ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ফুটছে অসম৷ ওই রাজ্যের জনগণের গরিষ্ঠ সংখ্যকের দাবি, নিপীড়িত হিন্দু বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়া যাবে না৷ এতে অসমের সংস্কৃতি ও অসমীয়াদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে৷ তাই রাজ্যের বাংলাভাষীদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুন্ধ একাংশ৷ শানের উপর হামলা এমনই এক পরিস্থিতির পরিণাম বলেই মনে করছেন অনেকে৷
[ছত্তিশগড়ে মাও হামলায় নিহত দূরদর্শনের চিত্রসাংবাদিক]
সর্বশেষ খবর
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
-
নীতি আয়োগের বৈঠককে সামনে রেখে বাংলার শিক্ষা খাতে বড়সড় রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু