সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: জেএনইউ কাণ্ডে প্রথমে বামপন্থী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেই গন্ডগোল করার অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। গোটা ঘটনায় নীরব ছিলেন উপাচার্য এম জগদীশ কুমার। এবার সেই উপাচার্যকেই ডেকে ভর্ৎসনা করল কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। গোটা ঘটনায় আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁকে আরও বেশি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একইসঙ্গে অধ্যাপকদের সঙ্গেও আরও বেশি করে মেলামেশা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি, সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশনের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে মন্ত্রকের তরফে।
জেএনইউ-তে হামলার পর থেকে উপাচার্যের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের দায়ী করে সোমবার বিবৃতি জারি করেছিলেন। সমালোচনাও করেছিলেন। তখনই প্রশ্ন উঠছিল, উপাচার্য এমন নীরব কেন? অবশেষে মঙ্গলবার উপাচার্য মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং উপরাজ্যপালের কাছে গিয়ে রিপোর্ট দেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ”অতীতকে পিছনে ফেলে, আসুন নতুন করে শুরু করি। যাঁরা আহত হয়েছেন, সেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমার উদ্বেগ হচ্ছে। ওঁরা খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।” এরপর তিনি বলেন, ”আমি আশা করছি, খুব শিগগিরই ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরবে। এখানে যাঁরা আছেন, বা যাঁরা বাইরে আছেন – সবাইকে বলছি, সেমিস্টারের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করান।”
[আরও পড়ুন: CAA বিরোধী আন্দোলনের জের, অসম সফর বাতিল প্রধানমন্ত্রী মোদির]
বুধবার দীর্ঘক্ষণ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়। পড়ুয়া এবং অধ্যাপকদের সঙ্গে বেশি করে মেলামেশা ছাড়াও তাঁদের কর্তৃপক্ষের সম্পর্কে বিরুপ মনোভাব দূর করার কথাও বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, হস্টেলের ফি বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক ধরেই জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে ছাত্র সংসদ এসএফআইয়ের নেতৃত্বে। বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সেমিস্টারও বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা সেমিস্টার দিতে আগ্রহী, তাদেরও রেজিস্ট্রেশন করাতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ফলেই ক্যাম্পাসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে আগেই জেএনইউয়ের রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার এসএফআই সদস্যদের দায়ী করেছিলেন। ফি নিয়ে সুস্থ সমাধানে আসতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ডাকা বৈঠকে পড়ুয়ারা হাজির থাকলেও, একাধিকবার তা এড়িয়েছেন উপাচার্য নিজে। বুধবার সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার দিতে আগ্রহীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে উপাচার্যকে।