Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
BJP

আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের যেসব ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির এখনও জিআই ( জিওগ্রাফিকাল ইনডিকেশন ) ট্যাগ নেই, সেগুলির জন্য রাজ্য সরকারের মাধ্যমে আবেদন জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি।

Advertisement
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৬, ২০২৬, ০০:৩২

link
নন্দিতা রায়
নন্দিতা রায়

শেষ আপডেট: জুন ৬, ২০২৬, ০০:৩২

options
link
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের zoom
জেলাস্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং গবেষণালব্ধ রিপোর্টের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলার রাজনীতিতে এবার নতুন সমীকরণ—মিষ্টি। শিল্প, বিনিয়োগ, জমি নীতির পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিসরে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। দলের লক্ষ্য, বাংলার একাধিক জনপ্রিয় অথচ এখনও জিআই স্বীকৃতিবঞ্চিত মিষ্টিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠা দেওয়া।

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের যেসব ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির এখনও জিআই ( জিওগ্রাফিকাল ইনডিকেশন ) ট্যাগ নেই, সেগুলির জন্য রাজ্য সরকারের মাধ্যমে আবেদন জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। এই লক্ষ্যে জেলাস্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং গবেষণালব্ধ রিপোর্টের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের পথও খোলা রাখা হচ্ছে।

Advertisement

শুক্রবার দিল্লিতে এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার পরিচিতি মিষ্টি মুখেই। এমন অনেক মিষ্টি রয়েছে, যেগুলির জনপ্রিয়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপি সরকারের কাছে আবেদন জানাবে।” সূত্রের খবর, 
প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে মালদার বিখ্যাত কানসাট এবং কোচবিহারের মোহনভোগ। এই দুই মিষ্টিকে কেন্দ্র করেই প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নজরে রয়েছে হুগলির কামারপুকুরের সাদা বোঁদে এবং নবদ্বীপের লাল দই। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই সব মিষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার আঞ্চলিক ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

তবে বিজেপির পরিকল্পনা শুধুমাত্র জিআই ট্যাগে সীমাবদ্ধ নয়। দলের ভাবনায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ‘মিষ্টি হাব’ গড়ে তোলা। উদ্দেশ্য, উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানির জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকাঠামো তৈরি করা। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, জিআই ট্যাগ ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেবে, আর হাব ব্যবস্থা ব্যবসার প্রসার ঘটাবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাঙালি সত্ত্বা রক্ষা’র যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ। ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনে বাংলার জনমানসে আরও গভীরভাবে পৌঁছনোর কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। একদিকে বৃহৎ শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে জমি নীতি তৈরির উদ্যোগ, অন্যদিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্পকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি।

দলীয় সূত্রের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে। এরপর মিষ্টি নির্বাচন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি এবং আবেদন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব থাকবে সরকারের উপর।এ দিকে বড় মিষ্টি ব্যবসায়ী, খাদ্য গবেষক ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য বিজেপি। লক্ষ্য, বাংলার মিষ্টিকে শুধু রাজ্যের গণ্ডিতে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও আরও পরিচিত করে তোলা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার মিষ্টিকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়, এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক বার্তাও। বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক মিষ্টিকে সামনে রেখে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন পর্ব শুরু করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.