সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এদেশে তিন তালাক অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই কুপ্রথা বন্ধ করতে কেন্দ্রকে আইন করারও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। কিন্তু, বাস্তবটা যে বড়ই কঠিন, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ইসরাত জাহান। তিন তালাক মামলার রায় ঘোষণার পর সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
[দেশ থেকে কার্যত উঠে গেল তিন তালাক, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের]
ভারতে তিন তালাকের মতো প্রথা বন্ধ করতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন পাঁচজন মুসলিম মহিলা। তাঁদেরই অন্যতম কলকাতার ইসরাত জাহান। এই পদক্ষেপের জন্য কম সমালোচনার সহ্য করতে হয়নি ইসরাতকে। প্রতিনিয়ত লড়াই করে হয়েছে দারিদ্র্যের সঙ্গেও। তবু হাল ছাড়েননি ইসরাত। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন। ফলও মিলেছে। মঙ্গলবার এদেশে তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রকে তিন তালাক রোধে সংসদে আইন পাস করানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই ছয় মাস দেশে তিন তালাকের উপর জারি হয়েছে স্থগিতাদেশ। ইসরাতদের লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এখন নিজের শহরে সামাজিক বয়কটের মুখে পড়েছেন ইসরাত জাহান। তাঁর বিরুদ্ধে নানারকমের কুৎসা রটাচ্ছেন প্রতিবেশিরা। এমনকী, চরিত্রহননের চেষ্টাও হচ্ছে। ইসরাত জাহান বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই আমার চরিত্র নিয়ে নানা কথা বলছেন পাড়া-প্রতিবেশি ও শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা। আমাকে ইসলামের শত্রু, পুরুষ বিরোধীও বলা হচ্ছে। পাড়ার অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।’
[মিষ্টিমুখে উদযাপন, ঐতিহাসিক রায়ে খুশির হাওয়া]
২০১৪ সালে দুবাই থেকে ফোনে ইসরাতকে তিন তালাক দেন তাঁর স্বামী। বিয়ের সময় ইসরাত পণ বাবদ যে টাকা পেয়েছিলেন ইসরাত, সেই টাকাতেই হাওড়ার পিলখানার ডবসন রোডে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তাঁর স্বামী। সেই ফ্ল্যাটেই ভাসুর ও পরিবারের সঙ্গে থাকেন ইসরাত জাহান। তবে এতকিছুর পরও মনের জোর হারাননি তিনি। বরং বলছেন, ‘আমার আর নিজেকে অত্যাচারিত মনে হয় না। আমি চাই, আমাকে দেখে অন্য মেয়েরাও বুঝুক, যে আমার মতো এক সাধারণ মেয়ে যদি নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করতে পারে, তাহলে তাঁরাও পারবেন।’ ইসরাতের মতে, আদালতে একটি রায়ে হয়তো সামাজিক অবস্থার বদল হবে না। তবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পালটাবে। যদি সাধারণ মানুষ একটি অসহায় মেয়ের চরিত্রহনন না করে, তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে আর কোনও মেয়েকে বিপদে পড়তে হবে না।
[সুপ্রিম কোর্টের রায়ই সার, পণের দাবিতে ফের তালাক অন্তঃসত্ত্বাকে]
প্রসঙ্গত, শুধু ইসরাত জাহানকেই নয়, তিন তালাকের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর আইনজীবীকেও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছেন অনেকেই।
[২৮ বছরের ‘বঞ্চনা’, প্রতিবাদে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ একটি হিন্দু পরিবারের]
সর্বশেষ খবর
-
গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণার প্রস্তাব, বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়তে কেন্দ্রের সাহায্য চায় রাজ্য
-
গ্রেপ্তার নেশাগ্রস্ত গেটম্যান! মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ২ জনকে সাসপেন্ড রেলের, ঘটনাস্থলে অধীর চৌধুরী
-
নিলামে রেকর্ড দাম পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ জার্সির, টপকাতে পারল মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গডে’র জার্সিকে?
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ড্রাগনের হাতযশ! চিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ট্রাম্পের, তদন্তের নির্দেশ
-
পরকীয়ায় পথের কাঁটা, স্বামীকে খুনের পর ধর আলাদা, পাঁচ কিমি দূরে মাথা! গ্রেপ্তার স্ত্রী