সৌরভ দত্ত, নাগপুর: ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে এগারোটা ছুঁইছুঁই। ভোটের উত্তাপ হেলায় উড়িয়ে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে শহর নাগপুর। কিন্তু তখনও, রামনগর চকের অদূরে ‘মন্ত্রিনিবাসে’ তুমুল ব্যস্ততা। অন্দরমহল থেকে নবরাত্রির পূজার্চনার সুর ভেসে আসছে। আর বাইরে গোটা চত্বর ছাপিয়ে তখনও অগণিত দর্শনার্থীর ভিড়। সবাই তাঁর অপেক্ষায়। তিনি বিদায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা নাগপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নীতিন গড়করি। একে একে সবার সঙ্গে কথা বলে অবশেষে মুখোমুখি। ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে বারোটায়। শেষমেশ জোড়হাতে মন্ত্রীর অনুরোধ, “প্লিজ, আজ আর নয়। কাল সকালে আপনার সঙ্গে কথা বলব।” কথা রাখলেন মন্ত্রী। কিন্তু, সকালে তার আগে মুহুর্মুহু বদলে গেল ছবি। কথা ছিল, প্রচারের শেষ দিনে বেরোনোর আগে সময় দেবেন। কিন্তু তার আগেই আচমকা বার্তা পেয়ে ছুটলেন অন্য কোথাও। যখন ফিরলেন, ততক্ষণে বাড়িতে হাজির সহকর্মী-অতিথি কেন্দ্রীয় রেল ও কয়লা মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। একান্ত সচিব অবিনাশ ঘুসে মারফত মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কথা হবে গাড়িতে। শেষমেশ গাড়িতে যখন ঠাঁই হল, সহযাত্রী ‘পীযূষজি’ও। আর সামনের আসনে নীতিন গড়কড়ি। হাতে সময় বড়জোর কয়েক মিনিট। শুরু হল ইন্টারভিউ।
হাতে আর মাত্র কয়েকঘণ্টা। তারপরই প্রচার শেষ। জয় নিয়ে কতটা কনফিডেন্ট?
নীতিন গড়করি : আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত। কারণ, কাজ করেছি। এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। বিজেপি সরকারের কাজে মানুষ ভাল আছে। গতবার দু’লক্ষ ৮৪ হাজার ভোটে জিতেছিলাম। এবার মার্জিনের টার্গেট পঁাচ লক্ষ। তো, গতবারের তুলনায় এক থেকে দেড়লাখ তো বাড়বেই।
বহু মতান্তরের পর শিবসেনার সঙ্গে জোট করে বিজেপি লড়াইয়ের ময়দানে। সেই অতীত ভুলে মহারাষ্ট্রের মানুষ কি সাড়া দেবেন?
নীতিন : এটা জেনে রাখুন, মহারাষ্ট্রে আমাদের পরিস্থিতি সতি্যই খুব ভাল। ৪৮টির মধ্যে গতবার আমাদের জোটের দখলে ছিল ৪২ আসন। এবার আরও বাড়বে।
আর দিল্লিতে?
নীতিন : দিল্লিতে বিজেপিরই সরকার হবে। তবে, এলাকার প্রচার ছেড়ে এখনও দেশের অন্যপ্রান্তে যেতে পারিনি। তাই ঠিক কত আসনে জয় আসবে, তা এখনই বলতে পারব না।
বিজেপির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী প্রচারে ঝড় তুলছেন। বিরোধীরা জোটবদ্ধ। ক্ষমতায় কি ফিরবে মোদিজির সরকার?
নীতিন : এই জোট তো পুরোপুরি সুবিধাবাদীদের। যারা জোটে শামিল, তাদের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। দেশের মানুষ গত পাঁচবছর বিজেপি সরকারের কাজ দেখেছে। সুবিধাবাদীদের দেশের জনতা ঠিক চিনে নেবে। বিকাশের পক্ষেই রায় দেবে মানুষ।
রাহুল গান্ধী তো বলছেন, চৌকিদার চোর হ্যায়…
নীতিন : (থামিয়ে দিয়ে) এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, বিপক্ষের প্রধান নেতা হয়ে এমন ভাষার প্রয়োগ ওঁর পক্ষে শোভা পায় না। এটা ওঁর বোঝা উচিত।
বাংলায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি উৎখাতের ডাক দিয়েছেন…?
নীতিন : (হাসি) গণতন্ত্রে যে যার মতো কথা বলতেই পারে। আটকাতে পারি কি?
কলকাতায় বিশাল সমাবেশে দেশের সব বিরোধী নেতারা ছিলেন। বাংলার ‘দিদি’ তো মোদি সরকার হঠিয়ে নয়া সরকারের ডাক দিয়েছেন?
নীতিন : ওই জোটের নেতৃত্বে যে কে, সেটাই তো তেমনভাবে স্পষ্ট নয়। এপ্রসঙ্গে আমার একটাই কথা, স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার রয়েছে। দেখতেই পারেন।
বাংলায় এবার বিজেপির ফল কেমন হবে বলে মনে করেন?
নীতিন : টিএমসি সরকারের আমলে বাংলার মানুষ আদৌও ভাল নেই। যে রিপোর্ট আমাদের কাছে আসছে তাতে স্পষ্ট, বাংলায় এবার দারুণ ফল করবে বিজেপি। আসন সংখ্যা যা আছে, তার তুলনায় বাড়বেই।
বাংলায় বিভিন্ন জাতীয় সড়কের বেহাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার কেন্দ্রকে দায়ি করেছেন। বিভাগীয় মন্ত্রী হিসাবে আপনার প্রতিক্রিয়া?
নীতিন : উনি বললে তো আমার কিছু করার নেই। দেশে আমরা রাস্তার হাল আরও মজবুত, আরও উন্নত করতে চাই। আরও বহু এলাকা জুড়তে চাই সড়কপথে। বাংলাতেও সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেই কাজ হয়েছে। কিন্তু ওখানে জমি অধিগ্রহণ করার কাজে এত ঢিলেমি কেন, তার জবাব কে দেবে? জমি না পেলে রাস্তার কাজ হবে কী করে?
বাংলায় তাজপুর ও কুলপিতে বন্দর গড়া নিয়েও কেন্দ্র—রাজ্যের চাপানউতোর…
নীতিন : (থামিয়ে দিয়ে) এটুকু বলতে পারি, দু’টি বন্দর নিয়েই যথেষ্ট আশাবাদী। মন্ত্রক থেকে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ক্যাবিনেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদবানিজির সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়। ভোটের মুখে এটা কি বিজেপির অন্দরের মতপার্থক্যেরই প্রতিফলন?
নীতিন : (কয়েক সেকেন্ড থমকে) দেখুন, আমি তো প্রচারেই ব্যস্ত ছিলাম একটানা বেশ কয়েকদিন। দিল্লিতে এরমধ্যে যাইনি। তাই এখন এই বিষয়ে মন্তব্য করব না।
বলতে বলতেই মন্ত্রীর কনভয় র্যালির জন্য জমায়েত জনতার কাছাকাছি। স্লোগানের ধুমে কাঁচ তোলা গাড়ির অন্দরেও গলার স্বর যেন হারিয়ে গেল। পরের প্রশ্নের আগেই মন্ত্রীর আরজি, “প্লিজ এবার ছেড়ে দিন। আর সময় নেই।” দরজা খুলে নিমেষেই কর্মী—সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে গেলেন মন্ত্রী।
সর্বশেষ খবর
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন