পাঁচ বছর পর ফের ব্রিকস সম্মেলন (BRICS summit 2026) হতে চলেছে ভারতের মাটিতে। এদেশে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আর সেখানে প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকবে না, তাও কি হয়? মোটেই না। আর তাই ব্রিকসের প্রথম অতিথি, বন্ধুদেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি উপহার দিলেন এদেশের প্রাচীন তামিল গ্রন্থের রুশ অনুবাদ। ছোট ছোট ছন্দে মানবজাতির সমগ্র ইতিহাসকে তুলে ধরা বিখ্যাত ‘থিরুক্কুরাল’ দু’দেশের বন্ধুত্বকে আরও অটুট করবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ভারতের তরফে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপহার পেয়ে আপ্লুত পুতিনও।
পুতিনের হাতে গ্রন্থটি তুলে দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোদি বলেন, ”এই গ্রন্থটি ২০০০ বছর আগে রচিত। এতে মানবজাতির সমগ্র ইতিহাস বর্ণনা করা। এটা আমরা রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছি। এই গ্রন্থ থেকে যে জ্ঞান আহরণ করার, তা কোনও ভাষা, ভৌগলিক সীমানায় বদ্ধ থাকে না। আমার বিশ্বাস, যেভাবে থিরুক্কুরালে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ-সম্পর্ক তৈরির কথা বলা আছে, তা দু’দেশের সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও দৃঢ় করতে বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে দেবে দু’দেশকেই।”
আরও পড়ুন:
তামিলনাড়ু অর্থাৎ দ্রাবিড় সভ্যতার প্রাচীন লেখক থিরুভাল্লুভার। অন্তত ২ হাজার বছর আগে তাঁর রচিত ধ্রুপদী সাহিত্য ‘থিরুক্কুরাল’। এটি মূল ছোট ছন্দময় পদ্য। প্রায় ১৩৩০ টি এমন পদ্যের আড়ালে মানবসভ্যতা, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে ‘থিরুক্কুরাল’-এ। তিনটি খণ্ডের গ্রন্থের রুশ অনুবাদ করা হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির ভারত মণ্ডপের ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে আলাদা করে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় সেই প্রাচীন ‘থিরুক্কুরাল’ তাঁর হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
Presented President Putin with a Russian translation of the Thirukkural, which carries the eternal wisdom of the great Thiruvalluvar across languages and borders. pic.twitter.com/rvk3rRDnvg
— Narendra Modi (@narendramodi) September 11, 2026
পুতিনের হাতে গ্রন্থটি তুলে দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোদি বলেন, ”এই গ্রন্থটি ২০০০ বছর আগে রচিত। এতে মানবজাতির সমগ্র ইতিহাস বর্ণনা করা। এটা আমরা রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছি। এই গ্রন্থ থেকে যে জ্ঞান আহরণ করার, তা কোনও ভাষা, ভৌগলিক সীমানায় বদ্ধ থাকে না। আমার বিশ্বাস, যেভাবে থিরুক্কুরালে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ-সম্পর্ক তৈরির কথা বলা আছে, তা দু’দেশের সম্পর্কের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও দৃঢ় করতে বেশ কয়েকধাপ এগিয়ে দেবে দু’দেশকেই।”
কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন দেশের এত মহৎ সব সাহিত্যকীর্তির মাঝে ‘থিরুক্কুরাল’কেই উপহারের জন্য বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি? এর পিছনেও রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জানা যাচ্ছে, সপ্তদশ শতকে ভারতীয় দর্শন, সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ রুশ শিক্ষার্থীরা এদেশে এসেছিলেন। এর মধ্যে ‘থিরুক্কুরাল’ তাঁদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিল। এমনকী উনিশ শতকের গোড়ায় লিও টলস্টয়ের মতো বিশ্ববিশ্রুত সাহিত্যিকের রচনাতেও এই তামিল গ্রন্থের প্রভাব দেখা গিয়েছে। ‘থিরুক্কুরাল’-এ বর্ণিত মানুষ জৈবিক প্রবৃত্তির সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার একাংশের সঙ্গে অনেক সময় মতান্তরও হয়েছে টলস্টয়ের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
মমতার জোটের ডাক উপেক্ষা! উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি