২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম তথা মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পথে এবার দ্রুত এগোতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, আসন পুনর্বিন্যাসের আগে সংরক্ষণ চালু করতে আইনটির সংশোধনী বিল (Women Reservation Bill Amendment) চলতি সপ্তাহেই সংসদে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারপক্ষের। বর্তমান আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা, উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আইনটি এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি সূত্রে খবর, এবার সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করতে নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনাকেই সীমা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী তাই তা পাস করিয়ে কার্যকর করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর তা নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি নিজে একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারপক্ষের তরফে এ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছেন সংসদ বিষয় মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও।
আরও পড়ুন:
সরকারপক্ষের তরফে এ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছেন মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও।
তবে, রাজ্যের শাসকদল এ নিয়ে বিজেপির সঙ্গে কোনও আলোচনায় যেতে রাজি নয়। কারণ তৃণমূলের মতে, তারা অনেক আগেই এই কাজ সেরে ফেলেছে। এবং এই বিল আদতে তাদেরই বিল বলেও দাবি করেছে তৃণমূল শিবির। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে। রাজ্যে প্রধান লড়াই যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী সংরক্ষণ ইস্যুকে সামনে রেখে দুই দলই মহিলা ভোটারদের টার্গেট করে নতুন রাজনৈতিক প্রচার শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌশল সাজিয়ে এসেছে। ফলে নারী সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগকে তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপিও নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবিকে সামনে রেখে পাল্টা প্রচারে নামতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংশোধনী বিল নিয়ে সংসদে যা-ই হোক না কেন, বাংলার নির্বাচনে ‘নারী ভোট’ই এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানো, নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্প ও নিরাপত্তার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে নারী সংরক্ষণ ইস্যু এবার রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে তা একপ্রকার নিশ্চিত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের