সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ডোকলাম নিয়েই প্রায় ৭৫ দিন তুলকালাম চলেছে নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের। দুই দেশের সেনা একে অপরের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়েছিল সীমান্তে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৌত্যে ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপের কাছে ব্রিকস সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মাথা নুইয়ে ডোকলাম থেকে লালফৌজকে পিছু হটার নির্দেশ দেন। ভারত ও চিন দুই দেশই ডোকলাম থেকে সেনা সরিয়ে নেয়। এই সুযোগে ফের একবার বিতর্কিত ডোকলামকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য বলে দাবি করল বেজিং। জানিয়ে দিল, ওই ভূখণ্ডে চিনা শাসনই জারি থাকবে। ভারত প্রথম থেকেই বেজিংয়ের এই মনোভাবের বিরোধী। ডোকলামের বিতর্কিত এলাকা (যেখানে দু’দেশের সেনা দু’মাস ধরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল) থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে একটি রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছে চিন, দাবি সংবাদ সংস্থার।
[ফের ডোকলামে রাস্তা বানাচ্ছে বেজিং, মোতায়েন চিনা সেনাও]
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর মোতাবেক, ডোকলামে পিপলস লিবারেশন আর্মির অবস্থান সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘ডোংলাং (ডোকলাম) সবসময়ই চিনের অংশ ছিল, আছে, থাকবে। ওই এলাকায় চিনের শাসন চলবে।’ বেজিংয়ের দাবি, চিনা সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতেই চিনা সেনা ওই এলাকায় টহলদারি চালাচ্ছে। যদিও বিদেশমন্ত্রক দাবি করছে, বিতর্কিত এলাকা থেকে চুক্তি মেনেই চিন সরকারিভাবে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক মহলের চোখে ধুলো দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের কথা বললেও চোরাগোপ্তাভাবে ওই এলাকায় পিএলএ এখনও মোতায়েন রয়েছে। ভারত যদিও চিনের এই পদক্ষেপকে এখনই খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, ‘ডোকলামে নতুন করে চিনা সেনার কোনও গতিবিধি নজরে আসেনি। ২৮ আগস্ট থেকেই দুই দেশ নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’
[চিন ও পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন এয়ার চিফ মার্শাল]
যদিও গোপন সূত্রে খবর, চিনা সেনার গতিবিধি নিয়ে ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই বিদেশমন্ত্রককে জরুরি ভিত্তিতে ‘ব্রিফ’ করেছে। ডোকলাম মালভূমিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন ও ভুটান দু’দেশই। তবে এই ইস্যুতে ভারত বরাবরই ভুটানের পাশে থেকেছে। এবার সেই বিতর্কিত এলাকাতেই ফের সেনা মোতায়েন করছে চিন। অত্যন্ত গোপনে সেখানে ধীরে ধীরে পিএলএ বা পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্য সংখ্যা বাড়াচ্ছে বেজিং। চিনের আধিকারিকরা বলেছিলেন, তাঁদের রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ডোকলামের বিতর্কিত জায়গা থেকে বড় জোর ১২ কিলোমিটার দূরে একটি রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে চিন। ভারত এই নির্মাণ কাজের ঘোর বিরোধী।
[অরুণাচল প্রদেশে বায়ুসেনার চপার ভেঙে নিহত ৭]
নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডোকালাম মালভূমিতে কোনও রকম পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ মেনে নেওয়া হবে না। কারণ ডোকালামে রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হলে চিন সহজেই ওই রাস্তা ব্যবহার করে ‘চিকেন নেক’-এ পৌঁছে যাবে। চিকেন নেক-এ পৌঁছে যাওয়ার অর্থ হল ভারতের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলবে চিন। সেক্ষেত্রে বেজিং মনে করলে যে কোনও সময় সিকিমে ঢুকে আসতে পারে। যা নয়াদিল্লির কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। সে কারণেই ভারত বরাবরই ডোকালামে চিনের যে কোনও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজের বিরোধিতা করে আসছে। জুন মাসে ডোকালামে ভারতের কাছে বাধা পেয়ে চিন সরে গিয়েছিল। তাই এবার তারা সরাসরি সেনা সমাবেশ না করে ডোকালামে অব্যবহৃত একটি রাস্তার সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে এবং এই কাজে তদারকিতে নিয়োগ করেছে ৫০০-রও বেশি লালফৌজ। এর আগে জুন মাসে চিকেন নেক সংলগ্ন এলাকায় চিনের একটি রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল সেনাবাহিনী।
[বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, বিজেপি নেতার আপত্তিকর ছবি প্রকাশ্যে]
সর্বশেষ খবর
-
স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কোণঠাসা শ্রীলেখা! গ্রেপ্তারির পরই ফাঁস টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরের কাহিনি
-
কেরলে ঢুকেছে বর্ষা, শুক্রে বাংলার আকাশও মেঘের দখলে, ভ্যাপসা গরম থেকে এবার রেহাই?
-
ফের পদ্মায় পড়ে গেল যাত্রীবাহী বাস! দুর্ঘটনা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
-
প্রথম ম্যাচের আগে সুস্থ হবেন ইয়ামাল, বার্তা স্প্যানিশ কোচ ফুয়েন্তের
-
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকাই কি বাংলার পরবর্তী বোলিং কোচ? বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন হতেই জল্পনা