নন্দিতা রায়, জবলপুর: গত এপ্রিলে রাজ্যের চার সাধুসন্তকে রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল বিস্তর। সরকার সাধুদের নিয়ে তোষণের রাজনীতি করছে বলে বিরোধী কংগ্রেসও প্রবল হইচই করেছিল। রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ প্রাপ্ত সাধুদের তালিকায় প্রথম নামটি ছিল নামদেও দাস ত্যাগীর। যিনি নিজের ল্যাপটপ প্রীতির জন্য ‘কম্পিউটার বাবা’ বলেই রাজ্যে খ্যাত। সাধু হলেও গ্যাজেটের উপর ভীষণ আকর্ষণ। সেই তিনিই শুক্রবার ঘোষণা করে দিলেন, এবারের মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনে রাজ্যের সাধুসন্তরা কংগ্রেসকেই সমর্থন করবেন।
জবলপুরে নর্মদার তীরে গৌরীঘাটে এদিনই ‘নর্মদে সংসদ’র ডাক দিয়েছিলেন ত্যাগী। নির্বাচনে সাধুসন্তদের ভোট কাদের ঝুলিতে যাবে, কাদের তাঁরা সমর্থন করবেন–সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই এই সংসদ ডাকা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের তো বটেই, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্য থেকেও সাধুরা হাজির হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় নর্মদাতীরে আরতি পুজো অর্চনা সেরে আজকের অপেক্ষায় ছিলেন সাধুরা। এমনিতেই কার্তিক পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে এদিন গৌরীঘাটে মানুষের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তার সঙ্গে সেখানে কম্পিউটার বাবার উপস্থিতিতে গৌরীঘাটের দিকে যাওয়ার আদর্শ নগর, সুখসাগরের মতো রাস্তাগুলিতে রীতিমতো যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিন সকাল থেকেই সংসদে আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় সাধুদের পক্ষ থেকে ত্যাগী এবারের নির্বাচনে সাধুরা কংগ্রেসকে সমর্থন করবে বলে জানান। তিনি বলেছেন, “আমরা যখন ওদের (বিজেপি) পনেরো বছর দিয়েছি তখন অবশ্যই কংগ্রেসকে পাঁচ বছর দিতে পারি। কংগ্রেস যদি ধর্মকে তুলে ধরে তাহলে ভবিষ্যতেও আমরা তাদের সমর্থন করব নইলে তা তুলে নেব।”
[জামা মসজিদ ভাঙলেও হিন্দু দেবতার মূর্তি পাওয়া যাবে, দাবি সাক্ষী মহারাজের]
নির্বাচনের জন্য যখন আর হাতেগোনা চারটে দিন বাকি, তখন এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কম্পিউটার বাবার অল্পবিস্তর জনপরিচতি রয়েছে, তা বিশাল কিছু নয় ঠিকই, কিন্তু যেভাবে রাজ্যের সব সাধুসন্তদের এবিষয়ে টেনে আনা হয়েছে তাতে মানুষের মনে সামান্য হলেও প্রভাব পড়তে পারে। সাধুরা বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের দিকে যাচ্ছেন এইসময় এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়লে তাতে আখেরে শিবরাজদের লোকসান হতে পারে বলেই আশংকা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ইন্দোরের কম্পিউটার বাবাকে কয়েকমাস আগে পর্যন্ত সেভাবে কেউই চিনত না। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি ও মহন্ত যোগেন্দ্র ঘোষণা করেন তাঁরা এপ্রিল মাসের পয়লা তারিখ থেকে পঁয়তাল্লিশ দিনের রথযাত্রা করবে। নর্মদার তীরে চারা রোপণের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তার প্রতিবাদেই এই রথযাত্রা হবে। এরপরেও কম্পিউটার বাবার কাছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে ডাক আসে। মার্চ মাসের ৩১ তারিখে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠকের পরে তিনি রথযাত্রা বাতিল করে দেন। তড়িঘড়ি বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক কমিটি তৈরি করে তাতে ত্যাগী-সহ চার সাধুকে তাতে বসানো হয়। এর পরেই এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে সেই চারজনকেই রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পরে অবশ্য গত অক্টোবর মাসেই ত্যাগী নিজের পদ ছেড়ে দেন এবং শিবরাজ সরকারের উপর নর্মদায় অবৈধ খননের অভিযোগ এনে সরব হন।
[মন্দির তৈরির দাবিতে অযোধ্যায় ২ লক্ষ করসেবক, শহরজুড়ে চাপা উত্তেজনা]
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে
-
‘তোমার ইমেজটাই নষ্ট করে দেব’, বচ্চনবধূ ঐশ্বর্যকে ‘হুঁশিয়ারি’ বলি পরিচালকের!