সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্কঃ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া এখন চোখে অন্ধকার দেখে জেন ওয়াই। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে আবার অনেক ক্ষেত্রে ঘটে যাচ্ছে অপরাধও। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে দিল্লিতে। ফেসবুকে এক তরুণীর নামে প্রোফাইল খুলে তুতো ভাইকে অপহরণ করেছিল অক্ষয় নামে বছর আঠেরোর এক যুবক। ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণও আদায় করে সে। কিন্তু পুলিশ ছকটি ধরে ফেলায়, গ্রেপ্তারের ভয়ে গলা দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে অক্ষয়।
[ডুবন্ত মহিলাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন তরুণ আইএএস আধিকারিক]
জানা যাচ্ছে, অর্থের টানাটানি চলছিল অক্ষয়ের। তাই নিজের আত্মীয়কে অপহরণ করে তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে সে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে অক্ষয় ও তাঁর বন্ধুরা এই অপহরণের ছক কষে। টার্গেট করা হয় অক্ষয়ের তুতো ভাই যশ সরস্বতীকে।
[‘ফ্যাট বয়’ উৎক্ষেপণ করে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি ইসরোর]
কিছুদিন পরেই শ্রেয়া ত্যাগী নামে ফেসবুকে এক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলে অক্ষয়। প্রোফাইলটি খাঁটি দেখানোর জন্য অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতেও শুরু করে। প্রোফাইলে বেশ কিছু ছবিও আপলোড করা হয়। তাতে লাইকও পড়তে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, একদিন যশের বাড়িতে যায় অক্ষয়। কথাচ্ছলেই নিজের ফোনটি যশের হাতে তুলে দেয় সে। ফোনের স্ত্রিনে শ্রেয়ার প্রোফাইল পিকচার দেখে নানা প্রশ্ন করতে শুরু যশ। অক্ষয় যশকে বলে, শ্রেয়া তাকে পছন্দ করে এবং তাঁর সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব পাতাতে চায়। এরপর অক্ষয় নিজেই যশের ফোন থেকে শ্রেয়াকে একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও পাঠিয়ে দেয় অক্ষয়। পরে জেরায় তা স্বীকার করে নেয় সে।
[২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বন্ধ হয়ে গেল অভিজিতের টুইটার অ্যাকাউন্ট]
এরপর দিন-রাত ফেসবুকে চলতে থাকে যশ ও শ্রেয়ারূপী অক্ষয়ের গল্প-গুজব। গল্প চলে হোয়াটসঅ্যাপেও। একদিন যশের সঙ্গে করতে চায় শ্রেয়া। ঠিক হয় দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায় দেখা করবে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ফুল নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে ভজনপুর পৌঁছে যায় যশ। অক্ষয় ও তাঁর বন্ধুরা দূর থেকে যশের পর নজর রাখছিল, কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ করার সাহস হয়নি অক্ষয়ের। অক্ষয় ও তাঁর বন্ধুরা যশকে জানায়, শ্রেয়া তাঁকে রাতে আসতে বলেছে। রাত এগারোটা নাগাদ ফের যশ নির্দিষ্ট জায়গায় এলে, অক্ষয় ও তাঁর বন্ধুরা মিলে যশকে অপহরণ করে। এরপরই যশকে বাগপতে নিয়ে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে ফোন করে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায় অক্ষয়। ছেলের প্রাণের আশঙ্কা টাকা দিয়েও দেন তাঁরা। যশকেও মুক্তি করে দেওয়া হয়।
[মন্ত্রীর ‘বিয়ার বার’ উদ্বোধন নিয়ে তীব্র বিতর্ক, ব্যাখ্যা চাইলেন যোগী]
নিখুঁত পরিকল্পনামাফিক সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু যশ মুক্তি পাওয়ার পরেই অপহরণকারীদের সম্পর্কে জানতে পারে পুলিশ। অক্ষয়ের বিষয়টিও জানাজানি হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় অক্ষয়। তবে তাঁর তিন বন্ধু রবি, রাজা ও দীন দয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের