সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ধরনের খবর ও ছবি পোস্ট করছে নেটিজেনরা। অনেকে সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃতদেহের অংশবিশেষ বলে কিছু ঝলসে যাওয়া দেহাংশের ছবিও পোস্ট করছে। বিষয়টি জানতে পেরে রবিবার এই বিষয়ে টুইট করে সর্তক করা হল সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে।
তাতে বলা হয়েছে, আমরা সবাই যখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছি তখন কিছু দুষ্কৃতী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ও শহিদদের মৃতদেহের অংশ বলে বিকৃত ছবি পোস্ট করার মাধ্যমে দেশব্যাপী ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। দয়া করে তাদের প্ররোচনায় পা না দিয়ে এই ধরনের পোস্ট শেয়ার বা লাইক করবেন না। যদি এই ধরনের পোস্ট চোখে পড়ে তাহলে দেশের মানুষকে [email protected]এই মেল অ্যাড্রেস মেল করে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
[পুলওয়ামা হামলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরের ছড়াছড়ি! সতর্ক থাকুন]
সিআরপিএফ আধিকারিকদের কথায়, গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট হওয়া বিভিন্ন খবর ও ছবি দেখার পর কর্তৃপক্ষের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার প্রেক্ষিতেই এই টুইট করা হয়েছে। তবে শুধু শহিদদের মৃত্যুর বিকৃত ছবি বা খবর নয়। কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী কাশ্মীরিদের যে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় করা হচ্ছে তাও মিথ্যে বলে জানানো হয়েছে তাদের তরফে। টুইট করে জানানো হয়েছে, ঘৃণা ছড়ানোর জন্যই এই ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কিছু মানুষ। দয়া করে এই ধরনের পোস্ট ছড়াতে সাহায্য করবেন না।
গতকালই সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে সকল পাঠকদের কাছে আমরা অনুরোধ করেছিলাম, আপনারা অহেতুক প্ররোচনায় কান দেবেন না। উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্যে প্রভাবিত হয়ে অকারণে উত্তেজনা ছড়াবেন না। সমাজের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব আমাদের, আপনাদের সকলের। তাই আমাদের অনুরোধ, আপনারা দায়িত্ববান নাগরিকের মতো নিজেদের কর্তব্য পালন করুন। সচেতন থাকুন, কোনও কিছু শেয়ার করার আগে বা কোনও মন্তব্য করার আগে সত্যাসত্য যাচাই করে নিন। আজ সেই খবরকেই মান্যতা দিল সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ।
আসলে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য গোষ্ঠীর প্রতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই জমানো বারুদে অগ্নিসংযোগের কাজটি করছে একশ্রেণির মানুষ। যা সমাজে বিষ ছড়ানোর পক্ষে যথেষ্ঠ। মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব পোস্ট ঘোরাফেরা করছে, তাঁর অধিকাংশই হয় পুরোপুরি অসত্য নাহয় আংশিক সত্য। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে, কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য যে কেউ যা খুশি পোস্ট করে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। হিতাহিত না ভেবে এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমও নিজেদের দায়িত্ব ভুলে এই উসকানিমূলক খবর, কিংবা প্ররোচনামূলক তথ্য সম্প্রচার করছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করা আমাদের মতো দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। আপনাদের ভালবাসা ও আর্শীবাদ মাথায় নিয়ে আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।
সর্বশেষ খবর
-
১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি সম্পত্তি, নাবালক বৈভবকে কি আয়কর দিতে হয়?
-
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, হরমুজ হাহাকার কাটিয়ে মিলবে জ্বালানি সমাধান?
-
প্রয়াত পদ্মশ্রী সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা
-
বিশ্বকাপের আগে ‘অমানবিক’ ফিফা! দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এই সিদ্ধান্তে
-
দাউদ ইব্রাহিমের হাড়হিম হুমকি, ‘তোর খেলা শেষ’, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত