BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কালো জাদু যখন অশরীরীসম!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 25, 2016 9:02 pm|    Updated: July 25, 2016 9:02 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আধুনিক সমাজে ব্ল্যাক ম্যাজিক ব্যাপারটিকে অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান না৷ কিন্তু আজও এই কালোজাদু প্রাণ কাড়ে মানুষের৷ কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই খারাপ শক্তির ব্যবহার করে থাকেন৷ অবিনাশ এবং তরুণ৷ পদ অনুযায়ী তরুণ অবিনাশের সিনিয়র হলেও দু’জনের ছিল দারুণ বন্ধুত্ব৷ তাঁরা যখনই একসঙ্গে সময় কাটাতেন, খুবই মজা করতেন৷ দু’জন বহু ঠাট্টা ইয়ার্কি করে সময় কাটাতেন৷ উইকেন্ডে একসঙ্গে ঘুরতেও যেতেন৷ কর্মক্ষেত্রে দু’জনের সম্পর্ক প্রফেশনাল হলেও অফিসের বাইরে তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর৷

ঠিক তেমন সময়ই তরুণের প্রমোশন হয়৷ তরুণ পদোন্নতি করে স্বাভাবিকভাবেই বেশ খুশি হয়েছিলেন অবিনাশ৷ তরুণ যাতে প্রমোশন পান তারজন্য তিনি বন্ধুকে সাহায্যও করেছিলেন৷ এই ঘটনার কয়েকমাসের মধ্যেই তরুণ বিয়ে করেন৷ অবিনাশ এবং তাঁর পরিবার সেই অনুষ্ঠানে যোগ পর্যন্ত দেন৷

কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই তরুণের মধ্যে আশ্চর্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেন সকলে৷ সবসময় ঠাট্টা ইয়ার্কিতে মজে থাকা তরুণ হঠাৎই বেশ চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন৷ সব ঠাট্টা ইয়ার্কিতে ঠিকভাবে অংশ পর্যন্ত নিতেন না৷ এহেন পরিস্থিতিতে বন্ধুর মনের অবস্থা বুঝতে এক ছুটির দিনে অবিনাশ ও তাঁদের অপর এক বন্ধু তরুণের বাড়িতে যান৷ তরুণের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তাঁরা বুঝতে পারেন, যে কোনও বিশেষ কারণে তরুণ একটু অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন৷ কিন্তু কী সেই অস্বস্তি তা তরুণ তাঁদের বলেননি৷ বন্ধু হিসাবে অবিনাশের মনে হয়েছিল, প্রচন্ড কাজের চাপে তরুণের মনে হয় দুর্বলতা এসেছে৷ তাই পরের সপ্তাহে তরুণকে নিয়ে অবিনাশ এবং অপর এক বন্ধু বাইরে ঘুরতে যান৷ সেখানে গিয়ে প্রথম তাঁরা বুঝতে পারেন, আসলে ভয় পাচ্ছেন তরুণ৷ কোনও এক বিশেষ কারণে তরুণ খুবই ভয় পাচ্ছেন৷ বহুবার জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন তাঁর মনে হয় কেউ যেন তাঁর পিছু নিয়েছে৷ কোনও এক অদৃশ্য শক্তিকে তিনি অনুভব করতে পারছেন৷

এই ঘটনার কয়েকদিন কেটেছে, হঠাৎই একদিন অবিনাশকে ফোন করেন তরুণ৷ জানান, জরুরি দরকার আছে৷ খুব জরুরি কথা বলার আছে৷

কিন্তু এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন তরুণ৷ এই ঘটনায় সকলেই ভীষণ রকম অবাক হয়ে যান৷ মন্দ অনুভূতি সামলাতে পারছিলেন না কেউই৷ মাত্র ছয় মাস বিয়ে হয়েছিল তরুণের৷ এরই মধ্যে এমন ঘটনা কেন ঘটল তা বুঝে উঠতে পারা যাচ্ছিল না৷

অবিনাশ বুঝতে পারছিলেন না কেন ঘটল এই ঘটনা৷ তাঁকে তরুণ কী বলতে চাইছিলেন তা বোঝার চেষ্টা করছিলেন বারবার৷ কিন্তু কিছুতেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি তিনি৷

এরপর কেটে যায় প্রায় তিন মাস৷ হঠাৎই একদিন তরুণের স্ত্রী অবিনাশকে ফোন করেন৷ তরুণের একটি জমি ছিল৷ যা নিয়ে বেশকিছু আইনি সমস্যা ছিল৷ সেই জমিটি বিক্রি করার চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন তরুণ৷ তরুণের মনে হচ্ছিল তরুণকে কোনও খারাপ শক্তি ধাওয়া করছে৷ মাঝেমধ্যেই তরুণের ঘড়ি, জামাকাপড় বাড়ি থেকে খোয়া যেত৷ কেউ তাঁকে ক্রমাগত লক্ষ্য করে যাচ্ছে এমনটাই মনে হত তাঁর৷

এরপরেই এই ঘটনায় অস্থির হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷ তরুণের স্ত্রী জানান, তরুণের মনে হচ্ছিল যে কেউ তাঁর উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করছে৷

এই ঘটনার দিন রাতেই অবিনাশ ও অপর এক বন্ধুর কাছে মেসেজ আসে তরুণের কাছ থেকে৷ অবিনাশ জানতেন তরুণের ফোন কেউই ব্যবহার করেন না৷ সেই ফোন তাঁর মৃত্যুর পরেই বন্ধ করে রেখে দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী৷ কিন্তু তাও সেই নম্বর থেকেই এসেছিল এসএমএসটি৷ তরুণ লিখে পাঠিয়েছিলেন, “ক্ষমা কর বন্ধুরা৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement