BREAKING NEWS

২০ শ্রাবণ  ১৪২৭  বুধবার ৫ আগস্ট ২০২০ 

Advertisement

তৃষ্ণার্ত চেন্নাইয়ের ভয়াবহ রূপ, ইডলি কিনলেই মিলছে এক কলসী জল

Published by: Sulaya Singha |    Posted: July 1, 2019 5:13 pm|    Updated: July 1, 2019 5:13 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক কিলোগ্রাম ইডলি-ধোসা কিনলে বিনামূল্যে মিলবে এক কলসি জল। চেন্নাই রেলস্টেশন থেকে কিছুটা দূরে বি ভি নায়কের স্ট্রিটে রাস্তার ধারে একটি ইডলি ধোসার দোকানের সামনে এই লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্মে প্রবল জলকষ্টে ভুগছে চেন্নাই। গতবছর সেভাবে বর্ষা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ভুগর্ভস্থ জলস্তরে টান পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই করুণ যে, এক ফোঁটা জলের জন্য ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ। মেপে জল খরচ করতে হচ্ছে তাঁদের। জেলা প্রশাসনের তরফে পাঠানো সামান্য জলই এখন ভরসা। এহেন পরিস্থিতিতে দোকানের সামনে বিনামূল্যে জল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সকলেরই নজর কেড়েছে। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ি থামিয়ে অনেকেই ওই ইডলির দোকানে ঢুঁ মারছেন। দোকানের মালিক সি এন পার্থসারথির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমি এই প্রস্তাব রেখেছি তা নয়। বরং মানুষকে জল দিতে আমার অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। লাভের টাকা থেকেই এই খরচ করছি আমি।”

[আরও পড়ুন: রাতভর বৃষ্টিতে বানভাসি মুম্বই, বাতিল একাধিক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন]

৪১ বছরের পার্থসারথি আরও বলেন, “এলাকার বাসিন্দারা এর আগে কখনও এমন জল সংকটের মুখোমুখি হননি। বিষয়টি চাক্ষুস করে আমার বাবা আমাকে মানুষের জন্য কিছু করার পরামর্শ দেন। লাভের পরিমাণ কমিয়ে সেই টাকা দিয়েই আমি মানুষকে পানীয় জল দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি মানুষকে জল দেওয়ার কাজ করে যাব।” জানা গিয়েছে, পার্থসারথির এই দোকানে প্রতিদিন ১০০-রও বেশি ক্রেতা ইডলি নিতে আসেন। যার মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন ক্রেতাকে জল দিয়ে থাকেন এই দোকানদার। মানুষকে সামান্য সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেন তিনি। পার্থসারথির কাছ থেকে জল নিতে হলে ক্রেতাদের বাড়ি থেকে কলসি আনতে হয়। জল দেওয়ার সময় পার্থসারথি সকলকেই জল ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেন। দোকানের কর্মচারী এ রাজা জানিয়েছেন, এলাকার প্রতিটি কুয়ো শুকিয়ে গিয়েছে। টিউবওয়েলেও জল উঠছে না। তাই জল জোগাড় করাই এক কঠিন সমস্যা। এই প্রবল অসুবিধার মধ্যেও মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে মালিক কিছু জল সংগ্রহ করে তা বিলিয়ে দিচ্ছেন।

চেন্নাইয়ে জলের হাহাকার ঠিক কতটা, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সেখানকার একটি স্কুলের পড়ুয়ারা। স্কুলে জলের অভাব থাকায় টিফিনের সময় পানীয় জলের খোঁজে বেরিয়ে পড়ছে তারা। যদি একটু সুরাহা হয়।

[আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর মিম কাণ্ডে ফের বিপাকে রাজ্য, আদালত অবমাননার নোটিস সুপ্রিম কোর্টের]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement