BREAKING NEWS

১৯  মাঘ  ১৪২৯  রবিবার ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ 

READ IN APP

Advertisement

পরির ইশারায় বেপাত্তা গাড়োয়ালের সুঠাম যুবকরা!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 19, 2016 2:03 pm|    Updated: October 19, 2016 2:03 pm

Fairies are entrapping the handsome men of Garhwal

গৌতম ব্রহ্ম: পরিরা কি আজও আছে? আদৌ কখনও ছিল?

গাড়োয়ালের একাধিক যুবক কেন হঠাৎ হারিয়ে যাচ্ছে? এবং সবাইকে চমকে দিয়ে ফিরেও আসছে৷ তার চেয়েও বড় কথা এই নিখোঁজ-পর্বের পরতে পরতে যে রহস্য তা ভেদ করতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের৷

সাধারণ মেষপালক থেকে ‘ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিশ’-এর  উচ্চপদস্থ কর্তার ছেলে! নিখোঁজ যুবকদের দলে কে নেই? রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এই যুবকরা ফিরে আসার পর যা বলছেন তা যোগ করলে পরি-অপ্সরাদের রূপকথাকেই মান্যতা দিতেই হয়৷

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস বরাবরই ছিল৷ উত্তরাখণ্ডের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মানুষও সম্প্রতি পরিদের অস্তিত্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন৷ এঁদের কারও ছেলেকে পরি তুলে নিয়ে গিয়েছে৷ কেউ আবার নিজের চোখেই পরি দেখেছেন৷ শুধু তাই নয়, পরির বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’-এর গুচ্ছ অভিযোগও জমা পড়েছে উত্তরাখণ্ড পুলিশের কাছে৷ এমনটাই দাবি জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন জেলাশাসক সববল সিং পওয়ার৷ সম্প্রতি ছাপার অক্ষরে এই সব অভিজ্ঞতার কথা মলাটবন্দি করেছেন একজন বাঙালি লেখক৷ দীপঙ্কর রায়৷ দীপঙ্করবাবুর মা বাসন্তীদেবী মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ অনুচরদের অন্যতম ছিলেন৷ বইটি পড়ার পর অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ  হয়েছে৷ শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ অনেকরই ধারনা, পর্যটকদের ভিড় বাড়াতেই এই গল্পগুলো সুকৌশলে ছড়ানো হচ্ছে৷ গাড়োয়ালীদের অবশ্য বিশ্বাস, পরিরা ছিল৷ পরিরা আছে৷ পরিরা থাকবে৷ শুধু তাই নয়, পরিদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে এখনও নাকি জেগে আছে আস্ত একটি গ্রাম৷

বিতর্কের ‘এপিসেন্টার’ উত্তরাখণ্ডের বারণাবত৷ বারণাবত বললেই মহাভারতের কথা মনে হয়৷ গাড়োয়ালিদের বিশ্বাস, এখানেই জতুগৃহ কাণ্ড হয়েছিল৷ কুন্তী তপস্যা করে শিবের দেখা পেয়েছিলেন বারণাবতের শিখড় পর্বতের মনোকামেশ্বর মন্দিরে৷ পরি-কাহিনীর সত্যতা জানতে আইটিবিপির সাহায্যে সেখানেই হাজির হয়েছিলাম৷ এখান থেকে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদার, বদ্রি–চারধামই দেখা যায়৷ তপোস্থলির পাশেই এক সন্ন্যাসীর কুঠিয়া৷ নাম শঙ্কর মহারাজ৷ ২০ বছর ধরে এই দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় বসে সাধনা করছেন৷ মহারাজের কাছেই প্রথম শুনেছি পরিদের কথা৷ পরির দর্শন পাওয়া মানুষদের সঙ্গে আলাপও করিয়ে দিয়েছেন মহারাজ৷ যদিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে নিষেধ করেছিলেন৷ বারণাবতের পরি-পর্বে এভাবেই জুড়েছে বাংলা তথা বাঙালির নাম৷

তপোস্থলির অনতিদূরেই রয়েছে ৫ কিমি লম্বা সুড়ঙ্গ৷ গাড়োয়ালি বিশ্বাস, জতুগৃহে আগুন লাগানোর পর পাণ্ডবরা ওই সুড়ঙ্গপথেই পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ কুন্তীর ওই তপোস্থলি থেকে প্রায় সাড়ে ন’শো মিটার দূরে রয়েছে ব্যাসপর্বত৷ নিচে একটি মনোরম ঝরনা, ব্যাসকুণ্ড৷ সেখানেই পরির দেখা পেয়েছেন স্থানীয় জ্ঞানজা গ্রামের কয়েকজন ‘ভাগ্যবান’৷ এমনই একজন শ্যাম সিং৷ সত্তোরোর্ধ শ্যাম সিং আইটিবিপি-র একজন প্রাক্তন সেনা৷ ব্যাসকুণ্ডের ঠিক ওপারে শ্যাম সিংয়ের ঘর৷ বাঘ-ভল্লুকের ভয়ে সন্ধে নামার পর এখানে কেউ বের হন না৷ শ্যাম সিং জানালেন, “বছর দুই আগের কথা৷ রাত আটটা বেজেছে৷ খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে যাচ্ছি৷ এই সময় কুণ্ড থেকে জল তোলার শব্দ পেলাম৷ বাইরে বেরিয়ে টর্চ ফেললাম৷ দেখলাম চারজন সাদা পোশাক পরা অপূর্ব সুন্দরী৷ বুঝলাম এরাই পরি৷ আলো পড়তেই মিলিয়ে গেল৷ ব্যাসপর্বত লাগোয়া শিখড় পর্বতেও পরিরা আবির্ভূত হয়৷ কপাল ভাল থাকলে দেখা যায়৷ অনেক মেষপালকই দেখেছেন৷”

শিখড় থেকে জ্ঞানজা গ্রাম যাওয়ার পথে দেখা হল আইটিবিপি-র সেনাকর্তা জ্যোতি সিংয়ের সঙ্গে৷ জানালেন, “বছর দেড়েক আগে তাঁর পুত্র জগদীশকে পরিরা তুলে নিয়ে যায়৷ ১৪ দিন পরে জগদীশ ফিরে আসে৷ অনেকবার জানতে চাইলেও ওই ১৪ দিনের কথা জগদীশ কিছুই মনে করতে পারেননি৷ শুধু জানিয়েছিলেন, সন্ধে নামার আগে পাহাড়ের উপর বসে গান গাইছিলেন৷ হঠাৎই পিছনে রিনিঝিনি আওয়াজ৷ পিছন ফিরে তাকাতেই এক পরিকে দেখতে পান তিনি৷ পরির ইশারাতেই তার দিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো এগিয়ে যান জগদীশ৷ তারপর আর কিছুই মনে নেই৷ বাড়ি ফেরার পর বেশ কিছুদিন অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন জগদীশ৷ কাচা সবজি চিবিয়ে খেতেন৷ জগদীশ জানিয়েছেন, পরিরা তাঁকে গাছের শিকড় ছাড়া কিছু খেতে দেয়নি৷ কিন্তু তাঁর কোনও কষ্ট ছিল না৷ এর বেশি কিছু অবশ্য কেউ বলতে পারছেন না৷ কিছুই মনে নেই৷ তবে, জগদীশ স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি চান পরিরা তাঁকে আবার তুলে নিয়ে যাক৷ জগদীশ এখন সেনাবাহিনীতে চাকরি করছেন৷

এখনও মন্দার পর্বতের দিকে তাকিয়ে চোখ ভিজে যায় জগদীশের৷ জগদীশের মতো অনেকেই পরির সঙ্গলাভ করে ধন্য হয়েছেন৷ শঙ্কর মহারাজ জানালেন, “স্কন্দপুরাণে যে মহেন্দ্রগিরি বা মন্দার পর্বতের উল্লেখ রয়েছে তা ব্যাসপর্বতের কাছেই অবস্থিত৷ মন্দারে অনেকেই পরিদের দর্শন পেয়েছেন৷ অনেক সময় পরিরা সাধারণ মেয়ের মতো গাড়োয়ালিদের সঙ্গে সংসারও করেছেন৷ এমন নজিরও রয়েছে৷ সন্তান-সন্ততিও হয়েছে৷ দেবশিশুর মতোই সুন্দর সেই সন্তানরা৷ হিমালয়ের অনেক গুপ্ত জায়গাতেই এমন অলৌকিক কান্ড ঘটে৷ মানস সরোবর, কিন্তু কৈলাসে এমন অনেক ঘটনা মহাপুরুষরা প্রত্যক্ষ করেছেন যার কোনও ব্যাখ্যা হয় না৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে