সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কর্ণাটকে কারা সরকার গড়বে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এরই মধ্যে বিজেপিকে মসনদ থেকে দূরে রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল সম্পূর্ণ ফলপ্রকাশের আগেই টুইটে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী দাবি করেছিলেন কংগ্রেস, জেডিএসের সঙ্গে জোট করে লড়লে অন্যরকম হতে পারত ভোটের ফল। আজ জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামীকে ফোন করে সেই জোটেরই বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, কর্ণাটকে অবিজেপি সরকার গড়তে বিরোধীদের এককাট্টা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গড়ুন, ফোনে কুমারস্বামীর উদ্দেশ্যে এই বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একক বৃহত্তম দল হলেও কর্নাটকে বিজেপি ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারছে না, তা পরিষ্কার হওয়ার পর গতকালই জেডিএস সুপ্রিমো এইচ ডি দেবেগৌড়াকে ফোন করেন তৃণমূলনেত্রী। গতকাল দেবেগৌড়াকেও এই একই বার্তা দিয়েছিলেন মমতা।
[কর্ণাটকের ‘রিসর্ট পলিটিকস’ নিয়ে টুইটারে রসিকতার ঝড়]
সম্প্রতি বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্টের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি বিরোধিতায় আঞ্চলিক দলগুলিকে একত্রিত করতে মাঠে নেমেছেন। অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, লালুপ্রসাদ যাদব এমনকি শিব সেনার উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেও ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখেছেন তৃণমূলনেত্রী। কখনও নিজে ছুটে গিয়েছেন দিল্লি, কখনও নবান্নে মমতার সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর। যদিও, প্রস্তাবিত বিজেপি বিরোধী জোটে কংগ্রেসের উপস্থিতি নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও বার্তা দেননি মমতা। নানা সময়ে কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন সে প্রশ্ন, এমনকি সনিয়া গান্ধির সঙ্গে সাক্ষাতের পরও বিরোধী জোটে কংগ্রেসের উপস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দেননি তৃণমূলনেত্রী। কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে বারবারই তৃণমূলনেত্রী একটাই বার্তা দিয়ে এসেছেন, বিজেপিকে রুখতে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ ফর্মুলা মানতে হবে কংগ্রেসকেও। ত্রিপুরায় নির্বাচনের আগেও কংগ্রেসকে সেই একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। যদিও, মমতার প্রস্তাব মানেনি কংগ্রেস। কর্ণাটকের ক্ষেত্রেও জেডিএসের সঙ্গে ভোটের আগে জোটের পথে হাঁটেনি রাহুল গান্ধির দল। তবে, বিজেপিকে আটকানোই যেহেতু প্রধান লক্ষ্য তাই ভোটের আগের দূরত্ব ভুলে আপাতত একসঙ্গে করার বার্তাই দিতে চাইলেন মমতা।
[‘জাভড়েকর ভদ্রলোক কে?’, বিধায়কদের ১০০ কোটি ঘুষের অভিযোগ এনে সরব কুমারস্বামী]
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টে আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব বাড়াতে একই সঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপিকে সমদূরত্বের বার্তা দিতে চাইছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসকেও বুঝিয়ে দিতে চাইছিলেন আঞ্চলিক দলের সাহায্য ছাড়া গেরুয়া ‘ঝড়’ থামানো যাবে না। বিজেপিকে হারাতে গেলে আঞ্চলিক দলগুলির সাহায্য নিতেই হবে কংগ্রেসকে। সম্প্রতি ২০১৯-এ কংগ্রেসের তরফে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু রাহুলের নেতৃত্বে মমতার খুব একটা আস্থা নেই বলেই মত রাজনৈতিক মহলের, আর সেকারণেই হয়তো কর্ণাটকে জোট সরকারের নেতৃত্বে জেডিএসকেই দেখতে চাইছেন মমতা।
সর্বশেষ খবর
-
‘ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কচি নয়’, স্বরূপের শ্লীলতাহানি মামলায় রূপার নিশানায় কারা? কী বলছেন স্বপন দাশগুপ্ত?
-
দিল্লি দরবারে বৈঠক শেষে ‘খুশি’ মনে রাজ্যে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ রাতেই দপ্তর বণ্টন!
-
অভিষেকের কথাই শেষ কথা নয়! দলের খোলনলচে বদলে বড় সিদ্ধান্ত বিদ্রোহে ‘বিপন্ন’ মমতার
-
ভারতে ইবোলার হানা! জয়পুরে উগান্ডার পর্যটকের শরীরে সংক্রমণের লক্ষণ ঘিরে চর্চা
-
১৯৭০-এর মডেল, ৬,১৭৫ গ্রাম সোনা! ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির দাম শুনলে চমকে যাবেন