সকালে ইস্তফা। সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি যোগের প্রস্তাব। বেলা গড়াতে আবার ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার। রীতিমতো নাটক চলল অসম কংগ্রেসে। সোমবার সকালে অসম কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধান ভূপেন কুমার বোরা ইস্তফা দেন। তারপরেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ইঙ্গিত দেন, ভূপেনকে বিজেপি যোগের প্রস্তাব দেওয়া হবে। তার খানিক পরেই ইস্তফাপত্র প্রত্যাহার করে নেন ভূপেন। সবমিলিয়ে, ভোটমুখী অসমে ঘটনার ঘনঘটা।
সোমবার সকাল আটটা নাগাদ নিজের পদত্যাগপত্র ইমেল করে কংগ্রেস নেতৃত্বকে পাঠিয়ে দেন ভূপেন। সেখানে লেখেন, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। তবে নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করেননি তিনি। ভূপেন কংগ্রেস ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেন হিমন্ত। বলেন, “অসমে কংগ্রেসের অবস্থা খুবই খারাপ। রাজ্যের মানুষও সেটা নজর করছেন। ভূপেন বোরার ইস্তফা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনিই ছিলেন কংগ্রেসের শেষ হিন্দু নেতা।”
আরও পড়ুন:
হিমন্ত আরও জানান, তিনি খুব তাড়াতাড়ি ভূপেনের বাড়িতে যাবেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যেই সাফ ইঙ্গিত, ভূপেনকে বিজেপি দলে টানতে পারে। কারণ দীর্ঘ চার বছর তিনি অসমের প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তৃণমূল স্তর থেকে কংগ্রেসকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভোটের আগে ভূপেনকে দলে নিলে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পেত সেকথা বলাই বাহুল্য।
সম্ভবত বিজেপির স্ট্র্যাটেজি বুঝতে পেরেই মাঠে নেমে পড়েন কংগ্রেস নেতৃত্ব। ভূপেনের বাড়িতে পৌঁছে যান অসম কংগ্রেসের প্রধান গৌরব গগৈ। অসম কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাঁওয়ার জিতেন্দ্র সিংও ছিলেন সঙ্গে। দীর্ঘ আলোচনার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বদল করেন ভূপেন। তবে সিদ্ধান্ত বদলের পর ভূপেনের প্রতিক্রিয়া মেলেনি সেভাবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভূপেন কংগ্রেস হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় নেই। কিন্তু ভোটের আগে গৌরবের পাক যোগের অভিযোগ তুলে বিজেপি যেভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে, তার মধ্যে ভূপেনের মতো বড় নেতার দল ছাড়লে বড়সড় ধাক্কা খাবে কংগ্রেস। সেকথা মাথায় রেখেই সম্ভবত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বদলের জন্য রাজি করানো হল ভূপেনকে?
উল্লেখ্য, চার বছর ধরে অসম কংগ্রেসের সভাপতি থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বের ‘কাছের লোক’ হয়ে উঠতে পারেননি ভূপেন। হাত শিবির মনে করেছে, হিমন্তকে টক্কর দেওয়ার মতো উপযুক্ত লোক নন ভূপেন। বরং গৌরব গগৈ অনেক বেশি ভরসাযোগ্য। সেকারণেই গৌরবকে অসম কংগ্রেসের প্রধানের আসনে বসানো। ফলে ভূপেনের গুরুত্ব ক্রমেই কমছিল অসম কংগ্রেসে। আজ জোর করে তাঁর পদত্যাগ আটকে দিলেও কি কংগ্রেসের কোনও লাভ হবে? সন্দিহান দলের একাংশই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিকেলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে প্রবল ঝড়বৃষ্টি, তীব্র গরম থেকে মিলবে রেহাই?
-
ট্রাম্প-খামেনেই সাক্ষাতের কোনও সম্ভাবনাই নেই! সাফ জানাল ইরান
-
মেট্রোপথে জুড়তে পারে কলকাতা স্টেশন, কবে মিলবে পরিষেবা?
-
আজ যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ, সতর্ক প্রশাসন
-
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টস জিতল ভারত, অভিষেক তরুণ স্পিনারের, কেমন হল প্রথম একাদশ?