Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

‘অটোয় তিনটে পুরুষ যখন ছিল, তখন নির্যাতিতার না ওঠাই উচিত ছিল’

ধর্ষিতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপির সাংসদ-অভিনেত্রী কিরণ খের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৬:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৬:৪৪

options
link
‘অটোয় তিনটে পুরুষ যখন ছিল, তখন নির্যাতিতার না ওঠাই উচিত ছিল’ zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ষণের জন্য ফের আঙুল উঠল ধর্ষিতার দিকেই। এবার ঘটনাস্থল পার্ক স্ট্রিট নয়, চণ্ডীগড়। ২২ বছরের এক তরুণী গণধর্ষিতা হয়েছিলেন অটোচালক ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের হাতে। সে ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অভিনেত্রী-সাংসদ কিরণ খের ধর্ষিতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন। জানালেন, অটোয় যখন তিনটে পুরুষ বসেই ছিল, তখন ওই তরুণীর না ওঠাই উচিত ছিল। সাংসদের এ মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়েছে গোটা দেশে।

যান চলাচলে গতি আনতে সুলেখা মোড় থেকে যাদবপুর নয়া ব্রিজ ]

Advertisement

ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতাকেই দোষী সাব্যস্ত করার রেওয়াজ নতুন নয়। অতীতে পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ড এই নমুনার সাক্ষী থেকেছে। তারই পুনরাবৃত্তি হল চণ্ডীগড়ে। গণধর্ষিতা এক বাইশ বছরের তরুণী। চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৭-এ স্টেনোগ্রাফি ক্লাস করতে গিয়েছিলেন যুবতী। মোহালিতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতেন তিনি। ফেরার পথে ঘটে দুর্ঘটনা। যে অটোয় তিনি উঠেছিলেন, সেখানে আগে থেকেই ছিলেন দুই পুরুষ। কোনও বিপদের আশঙ্কা না করে স্বাভাবিকভাবেই অটোয় উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু অটোচালক ও তার দুই সঙ্গীর হাতেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তরুণীর। অভিযোগ, তিনজনেই ধর্ষণ করে ওই তরুণীকে। তারপর সেক্টর-৫৩ এলাকায় তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। পথচারীরা মহিলাকে ওই অবস্থায় দেখতে পুলিশে খবর দেন।

ডার্বি দেখতে যাওয়া হল না মোহনবাগান ভক্ত রাজীবের, আক্ষেপ বন্ধুদের ]

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েই বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলেন অভিনেত্রী-সাংসদ। ঘটনার নিন্দা করেছেন তিনি। এরকম কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ধর্ষণের নেপথ্যে সেই মহিলাদেরই কাঠগড়ায় তুলে ফেলেছেন তিনি। দোষীদের কঠোর শাস্তি বা পুরুষদের ব্যবহারের নিন্দার পরিবর্তে তিনি তরুণীর বাস্তব জ্ঞান বা উপস্থিত বুদ্ধির অভাবের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। জানান, যখন অটোয় তিনটে পুরুষ বসেই ছিল, তখন ওই তরুণীর অটোয় না ওঠাই উচিত ছিল। শুধু ওই তরুণীর জন্যই নয়, সকল মহিলাদের জন্যই তাঁর এই মত। তাঁর দাবি, রাস্তাঘাটে খানিকটা চোখ-কান খোলা রেখে চললেই এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়। তিনি জানান, মুম্বইয়ে তাঁরাও অনেক সময় ট্যাক্সি ধরেন। সবসময় ট্যাক্সির নম্বর কাউকে পাঠিয়ে রাখেন। অর্থাৎ অভিনেত্রীর মত, নিজেদের রক্ষাকবচ নিজেদেরই তৈরি করে হাতে রাখতে হবে মহিলাদের।

গবাদি পশু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের ]

অভিনেত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক জোরদার। প্রশ্ন উঠছে, এই কথা বলে কি দুষ্কৃতীদেরই পরোক্ষে সমর্থন করে বসলেন না তিনি? কেননা, যে কোনও পরিস্থিতিতেই একজন মহিলার অটোয় ওঠার অধিকার আছে। কেন মেয়েদেরই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে? কিরণ অবশ্য তাঁর বক্তব্যে সামাজিক অবক্ষয়ের কথাও এনেছেন। জানিয়েছেন, সকলের উচিত তাঁদের ছেলেদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া। আর তার শুরুটা হয় বাড়ি থেকেই। কেননা যদি বাবারা মায়েদের সম্মান না করেন, তাহলে সন্তানরা কী শিক্ষা পাবে? নির্যাতিতা মহিলার জন্য যে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, তা জানাতে ভোলেননি। কিন্তু রক্ষাকবচ কেন মহিলাদেরই নিয়ে ঘুরতে হবে, সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাহলে কি এই সমাজে মহিলারা সুরক্ষিত নয়, তা মেনেই নিচ্ছেন অভিনেত্রী? যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন এই সময়ের সবথেকে চর্চিত বিষয়, সেখানে অভিনেত্রীর এই মন্তব্য দুঃখজনক বলেই মত অনেকের।

[  দিঘার মোহনায় উঠল ৪০ কেজির ভোলা, কত টাকায় নিলাম হল জানেন? ]

নারীর অসুবিধার বিষয়গুলি তুলে ধরার জন্য কিরণরাই উপযুক্ত। নিজেদের ক্ষেত্রে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত। কুশলী অভিনেত্রী হিসেবে সমাজের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। পাশাপাশি তাঁরা রাজনীতির মূলস্রোতেও আছেন। ফলত, সামাজিক সব ক্ষেত্রে যে মহিলাদের ভয় করে চলতে হবে না, এমনটা নিশ্চিত করাই তাঁদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে কিরণ যেন মহিলাদের এক কদম পিছিয়ে আসারই পরামর্শ দিচ্ছেন। আত্মরক্ষা বা বিপদে না পড়ার পরামর্শ অযৌক্তিক নয়। কিন্তু ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যধির হাত থেকে বাঁচতে যদি মহিলাদেরই পিছু হাঁটতে হয়, তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার খোলনলচে তো দূরের কথা, কোনও কিছুই পালটাবে না। কিরণের মতো মহিলা সাংসদদেরই এ ব্যাপারে বেশি সরব হওয়া উচিত ছিল বলে মত সকলেরই। দেশের মহিলারাও তাঁদের কাছে সেই প্রত্যাশাই রাখেন। দোষীদের শাস্তি থেকে সর্বত্র মহিলারা যাতে স্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁদেরই উদ্যোগী হওয়ার কথা ছিল বেসি। অন্যদিকে কিরণের মন্তব্য যেন অর্ধেক আকাশের অধিকারকেই মেঘে ঢেকে দিল মত অনেকের।

এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে পালটা জবাবও দিয়েছেন অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, “যাঁরা এ নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের ধিক্কার. সকলের ঘরেই কন্যাসন্তান আছে। সকলেরই গঠনণূলকভাবে বিষয়টি দেখা উচিত, ধংসাত্মকভাবে নয়।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.