Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Gujarat

পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ! বিতর্কে মোদির রাজ্য গুজরাটের পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:২০

options
link
পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ! বিতর্কে মোদির রাজ্য গুজরাটের পুলিশ zoom
বাড়ি ফেরার ভিড় গুজরাটের পরিযায়ী শ্রমিকদের।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রবিবার এই ঘটনার পর সোমবারও তা নিয়ে উত্তাল সোশাল মিডিয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে হেঁশেলে। তার মধ্যেই এলপিজির দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ফলে হাহাকার পড়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সমস্যার মুখে কর্পোরেট সংস্থাগুলিও। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটের সুরাট। চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের অভাবে দূরদূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতিতেই সুরাটের উধনা স্টেশনে ধুন্ধুমার কাণ্ড। রবিবার বাড়ির পথে রওনা দিতেই তাঁরা ব্যাপক মার খেলেন পুলিশের হাতে। প্রায় অচল হয়ে যাওয়া স্টেশন চত্বর সামলাতে তাঁদের উপর চলল পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। তবে কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

Advertisement

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের লাঠির আঘাত থেকে বাঁচতে যাত্রীরা লোহার রড টপকে যাচ্ছেন। অনেকে আটকে পড়েছেন। বাড়ি ফিরতে পারেননি। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন। হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখনই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে মালপত্র ফেলে পরিযায়ী শ্রমিকদের ছুটতে দেখা যায়। রেল আধিকারিক অনুভব সাক্সেনা জানিয়েছেন, “গ্রীষ্মকাল চলছে। আমরা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালিয়েছি। আজ এ পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন চালানো হয়েছে। প্রথম ট্রেনটি রাত দেড়টায় উধনা থেকে জয়নগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পরবর্তী ট্রেনটি ভোর সাড়ে ৫টায় উধনা থেকে মধুবনির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আমরা ক্রমাগত যাত্রীর সংখ্যার উপর নজর রাখছি এবং রেল কর্তৃপক্ষ সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”’

উধনা স্টেশনে এই বিপুল ভিড়ের পিছনে ছিল গরমের ছুটি এবং গত এক-দু’মাস ধরে এলপিজি সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার তাড়া।

উধনা স্টেশনে এই বিপুল ভিড়ের পিছনে ছিল গরমের ছুটি এবং গত এক-দু’মাস ধরে এলপিজি সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার তাড়া। তাই রবিবার সকালে সাড়ে ১১টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশ, বিহারগামী ট্রেন ধরার জন্য জনতার হুড়োহুড়ি শুরু হয়। স্টেশনের মূল প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত কেবল মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছিল। প্রবল গরম এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মানুষের মধ্যে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। চলে লাইন ভাঙার চেষ্টা। রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য লোকজনকে অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা লাইন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাঠিচার্জ করা হয়।

উল্লেখ্য, গ্যাসের ঘাটতি সুরাটের বস্ত্রশিল্পে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ বা ৩ লক্ষ শ্রমিক অন্যত্র চলে যাওয়ায় দৈনিক উৎপাদন ৬৫ মিলিয়ন মিটার থেকে কমে ৪৫ মিলিয়ন মিটারে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই শিল্পের জন্য ১৫ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও শ্রমিক চলে গিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.